১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা বিমানের ওয়েবসাইটে ‘অনটাইম’, বাস্তবে ২২ ঘণ্টা বিলম্ব: সিলেট-জেদ্দা ফ্লাইটে ৮ শতাধিক যাত্রীর দুর্ভোগ বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অভিযোগ, বিষয়টি আমলে নেওয়ার আহ্বান আজহারির ঢাকা ক্লাবের ১৪০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেইন লাউঞ্জ ঝুঁকিতে, জরুরি প্রকৌশল মূল্যায়নের তাগিদ ৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ডিএমপি ব্যাংক এশিয়ার অনুমোদিত মূলধন দ্বিগুণ, বেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা প্রতিবন্ধী সেবার অধিকার সংকুচিত হওয়ার শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে সিদ্ধান্ত বদলের আহ্বান খেলনা গাড়ির চাকার হুইলচেয়ারে নতুন জীবন পেল আহত বিড়ালছানা জেলাটো কাবেরীর পানি নিয়ে আবারও সুপ্রিম কোর্টে তামিলনাড়ু, কর্ণাটকের বিরুদ্ধে আদেশ অমান্যের অভিযোগ এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ মাঝআকাশে ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেল কেন? বর্ষার আকাশে টার্বুলেন্সের ঝুঁকি ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ও হাজারো সেনা সৌদিতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবে বিপুল সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। দেশটি সেখানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং হাজারো সেনা পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সৌদি আরবে প্রায় ৮ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। এর সঙ্গে রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন, যেখানে মূলত চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান রয়েছে। এছাড়া ড্রোন ইউনিট ও আধুনিক এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পাঠানো হয়েছে।

গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রভাব

গত বছর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির আওতায় দুই দেশ একে অপরের নিরাপত্তায় সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেয়। যদিও চুক্তির পুরো বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি, তবে সূত্রগুলো বলছে প্রয়োজনে আরও সেনা পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

Pakistan sends troops, jets to Saudi Arabia during Iran War | The Jerusalem  Post

একটি সূত্র জানায়, চুক্তি অনুযায়ী ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার পাকিস্তানি সেনা সৌদিতে মোতায়েনের সুযোগ রয়েছে। এতে সৌদি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাই মূল লক্ষ্য।

যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর বার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রশিক্ষণ বা উপদেষ্টা সহায়তার জন্য এত বড় সামরিক বহর পাঠানো হয়নি। যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বিপুল সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে পাকিস্তান স্পষ্টভাবে একটি শক্ত অবস্থানের বার্তা দিয়েছে।

সামরিক সূত্রগুলো বলছে, সৌদিতে পাঠানো সামরিক সরঞ্জাম পাকিস্তানি সদস্যরাই পরিচালনা করছেন এবং পুরো ব্যয় বহন করছে সৌদি আরব।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার সময় পাকিস্তান একদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, অন্যদিকে সৌদি আরবের সামরিক নিরাপত্তা জোরদারেও সক্রিয় রয়েছে।

Saudi Arabia and Pakistan Grow Apart • Manara Magazine

এর আগে ইরানের হামলায় সৌদির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও পাকিস্তান যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল বলে জানা যায়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই সামরিক সহযোগিতা আরও বড় আকার নিয়েছে।

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক

দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তানি সেনারা আগে থেকেও সৌদিতে প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকটের সময় সৌদি আরব একাধিকবার পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

নতুন এই মোতায়েনকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের আরও গভীরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে সিএনজি সংকট: পাম্পে গ্যাসের চাপ কমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে চালকরা, দুর্ভোগে যাত্রীরা

পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ও হাজারো সেনা সৌদিতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা

১০:৫৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবে বিপুল সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। দেশটি সেখানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং হাজারো সেনা পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সৌদি আরবে প্রায় ৮ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। এর সঙ্গে রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন, যেখানে মূলত চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান রয়েছে। এছাড়া ড্রোন ইউনিট ও আধুনিক এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও পাঠানো হয়েছে।

গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রভাব

গত বছর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির আওতায় দুই দেশ একে অপরের নিরাপত্তায় সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেয়। যদিও চুক্তির পুরো বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি, তবে সূত্রগুলো বলছে প্রয়োজনে আরও সেনা পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

Pakistan sends troops, jets to Saudi Arabia during Iran War | The Jerusalem  Post

একটি সূত্র জানায়, চুক্তি অনুযায়ী ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার পাকিস্তানি সেনা সৌদিতে মোতায়েনের সুযোগ রয়েছে। এতে সৌদি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাই মূল লক্ষ্য।

যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর বার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রশিক্ষণ বা উপদেষ্টা সহায়তার জন্য এত বড় সামরিক বহর পাঠানো হয়নি। যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বিপুল সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে পাকিস্তান স্পষ্টভাবে একটি শক্ত অবস্থানের বার্তা দিয়েছে।

সামরিক সূত্রগুলো বলছে, সৌদিতে পাঠানো সামরিক সরঞ্জাম পাকিস্তানি সদস্যরাই পরিচালনা করছেন এবং পুরো ব্যয় বহন করছে সৌদি আরব।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার সময় পাকিস্তান একদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, অন্যদিকে সৌদি আরবের সামরিক নিরাপত্তা জোরদারেও সক্রিয় রয়েছে।

Saudi Arabia and Pakistan Grow Apart • Manara Magazine

এর আগে ইরানের হামলায় সৌদির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও পাকিস্তান যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল বলে জানা যায়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই সামরিক সহযোগিতা আরও বড় আকার নিয়েছে।

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক

দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তানি সেনারা আগে থেকেও সৌদিতে প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকটের সময় সৌদি আরব একাধিকবার পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

নতুন এই মোতায়েনকে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের আরও গভীরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।