যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের কর নথি ফাঁসের ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে করা বড় অঙ্কের মামলা প্রত্যাহার করেছেন। তবে এর বদলে মার্কিন বিচার বিভাগ গঠন করছে প্রায় ১৭৬ কোটি ডলারের একটি বিশেষ তহবিল, যা নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।
এই তহবিলকে বলা হচ্ছে “অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড”। সরকারের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানির শিকার ব্যক্তিরা এখান থেকে সহায়তা চাইতে পারবেন। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, এটি মূলত ট্রাম্প ও তাঁর মিত্রদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
কর নথি ফাঁসের জেরে মামলা
২০২৪ সালের শুরুতে ট্রাম্প, তাঁর দুই ছেলে এবং ট্রাম্প অর্গানাইজেশন যুক্তরাষ্ট্রের কর বিভাগ আইআরএসের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগ ছিল, সংস্থাটি যথাযথ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় একজন সাবেক ঠিকাদার ট্রাম্পের কর নথি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করতে সক্ষম হন।
ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, কয়েক বছরে ট্রাম্প খুব কম বা একেবারেই আয়কর দেননি। এই তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল।
পরে ওই সাবেক ঠিকাদারকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অর্থ নয়, চাইলেন ক্ষমা ও তহবিল
মামলায় ট্রাম্প প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সরাসরি কোনো অর্থ নিচ্ছেন না। পরিবর্তে বিচার বিভাগ তাঁর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করবে এবং নতুন তহবিল গঠন করবে।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, যেকোনো ব্যক্তি যদি মনে করেন তাঁকে রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করা হয়েছে, তাহলে তিনি এই তহবিলে আবেদন করতে পারবেন।
তবে সমালোচকদের মতে, “ওয়েপনাইজেশন” এবং “ল’ফেয়ার” শব্দ দুটি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা নিজেদের বিরুদ্ধে হওয়া ফৌজদারি তদন্ত বোঝাতে ব্যবহার করে আসছেন। ফলে নতুন এই উদ্যোগকে নিরপেক্ষ বলা কঠিন।
বিতর্কে বিচার বিভাগ
মার্কিন বিচার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেছেন, অতীতে যাদের প্রতি অন্যায় হয়েছে তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এই তহবিলের উদ্দেশ্য।

কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন, এই তহবিলের অর্থ কীভাবে বিতরণ হবে এবং কারা এর সুবিধা পাবেন—সেসব বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো নীতিমালা প্রকাশ করা হয়নি।
আরও বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে তহবিল পরিচালনা কমিটি নিয়ে। জানা গেছে, পাঁচ সদস্যের কমিশনের চারজনকেই নিয়োগ দেবেন ব্ল্যাঞ্চ নিজে। ফলে পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ডেমোক্র্যাটদের তীব্র প্রতিক্রিয়া
ডেমোক্র্যাট নেতারা এই সমঝোতাকে করদাতাদের অর্থ অপব্যবহারের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ব্যবহার করে রাজনৈতিক মিত্রদের জন্য একটি বিশাল তহবিল গড়ে তোলা হচ্ছে।
বিরোধী নেতাদের মতে, এটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিশোধের সংস্কৃতিকে আরও উসকে দিতে পারে এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর জনআস্থা কমাতে পারে।
আরও কিছু অভিযোগ প্রত্যাহার
সমঝোতার অংশ হিসেবে ট্রাম্প আরও কয়েকটি প্রশাসনিক অভিযোগও প্রত্যাহার করতে রাজি হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর মার-আ-লাগো রিসোর্টে এফবিআই তল্লাশি এবং ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে তদন্তসংক্রান্ত অভিযোগ।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোতেও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। কারণ একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট নিজের প্রশাসনের বিরুদ্ধেই মামলা করেছেন, যা মার্কিন আইনে অত্যন্ত বিরল ঘটনা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















