যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রশাসন নতুন করে এক বিশাল তহবিল গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রায় ১৭৭৬ কোটি ডলারের এই তহবিল মূলত ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সমর্থকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তাদের সহায়তার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই তহবিল থেকে আবেদনকারীরা আইনি খরচসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন। আবেদন গ্রহণ চলবে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করা হবে, যদিও সদস্যদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
কর মামলা প্রত্যাহারের পরই ঘোষণা
এই ঘোষণা এসেছে ট্রাম্পের একটি বড় কর-সংক্রান্ত মামলা প্রত্যাহারের পরপরই। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, তার কর নথি ফাঁসের ঘটনায় কর বিভাগ যথাযথ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। সেই মামলার সমঝোতার অংশ হিসেবেই নতুন তহবিলের ঘোষণা এসেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নিজে এই তহবিল থেকে কোনো অর্থ নেবেন না। তবে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হবে।
সমর্থকদের জন্য ‘ন্যায়বিচার’ দাবি
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার সমর্থকদের অনেকেই অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের আইনি লড়াই ও ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী অ্যাটর্নি জেনারেলও দাবি করেছেন, সরকারের ক্ষমতা কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। তার ভাষায়, অতীতে যাদের প্রতি অন্যায় হয়েছে, তাদের জন্য একটি বৈধ প্রতিকার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই তহবিলের উদ্দেশ্য।
বিরোধীদের কঠোর সমালোচনা
ডেমোক্র্যাট নেতারা এই পদক্ষেপকে ‘অভূতপূর্ব’ ও ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট নিজের রাজনৈতিক মিত্রদের জন্য করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করতে চাইছেন।

বিরোধী আইনপ্রণেতাদের মতে, এই তহবিলের মাধ্যমে জানুয়ারি ২০২১ সালের ক্যাপিটল হামলায় অভিযুক্ত বা ট্রাম্পপন্থী বিভিন্ন ব্যক্তিও সুবিধা পেতে পারেন। ফলে বিষয়টি আদালতে গড়াতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
কয়েকটি নাগরিক সংগঠনও অভিযোগ তুলেছে, এটি মূলত রাজনৈতিক আনুগত্যের পুরস্কার দেওয়ার একটি পদ্ধতি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রিপাবলিকানদের মধ্যেও প্রশ্ন
রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও এই উদ্যোগ নিয়ে পুরোপুরি ঐক্য দেখা যায়নি। কেউ কেউ সরকারের অপব্যবহারের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ধারণাকে সমর্থন করলেও, অনেকে জানতে চেয়েছেন অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং কাদের কীভাবে নির্বাচন করা হবে।
কিছু সিনেটর বলেছেন, পুরো পরিকল্পনাটি আদালতের নজরদারিতে যাবে এবং কংগ্রেসেও এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

আইনি জটিলতার আশঙ্কা
ফ্লোরিডার এক ফেডারেল বিচারক ইতোমধ্যেই মামলাটি নিষ্পত্তির পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে আদালতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দেওয়ায় সমালোচনা আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই তহবিল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থা, নির্বাহী ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে বড় বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনী আবহে এই সিদ্ধান্ত দেশটির রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















