ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তীব্র গরমে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চলতি মৌসুমে সোমবার ছিল সবচেয়ে উষ্ণ দিন। শহরের প্রধান আবহাওয়া কেন্দ্র সফদরজংয়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ ডিগ্রি বেশি।
আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে কারণ আগামী কয়েক দিনেও স্বস্তির কোনও ইঙ্গিত নেই। বিচ্ছিন্ন এলাকায় তাপপ্রবাহের আশঙ্কায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
তাপমাত্রা বাড়ার পেছনে কী কারণ
আবহাওয়াবিদদের মতে, সক্রিয় পশ্চিমা ঝঞ্ঝা ও ঘূর্ণাবর্তের অনুপস্থিতির কারণেই উত্তর-পশ্চিম ভারতের উপর গরম ও শুষ্ক বাতাসের প্রভাব বেড়েছে। পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা উষ্ণ বাতাস দিল্লির তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী সপ্তাহেও বড় ধরনের স্বস্তির সম্ভাবনা কম। পরিষ্কার আকাশ ও শুষ্ক আবহাওয়া তাপপ্রবাহকে আরও তীব্র করে তুলছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় চরম গরম
দিল্লির বিভিন্ন আবহাওয়া কেন্দ্রে আরও বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। রিজ এলাকায় তাপমাত্রা পৌঁছায় ৪৪.৬ ডিগ্রিতে। আয়ানগরে ছিল ৪৪.৪ ডিগ্রি, লোধি রোডে ৪৩.৮ ডিগ্রি এবং পালামে ৪৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আগামী মঙ্গলবার ও বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ থেকে ৪৫ ডিগ্রির মধ্যে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারও তাপমাত্রা ৪২ থেকে ৪৪ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করবে।
দিনের বেলায় ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে দমকা গরম হাওয়া বইতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
রাতেও মিলছে না স্বস্তি

শুধু দিনের গরম নয়, রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকছে। সোমবার দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার তা ২৯ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর ফলে রাতে ঘুম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও একই অবস্থা
দিল্লির আশপাশের শহরগুলোতেও তীব্র গরম অব্যাহত রয়েছে। গাজিয়াবাদে তাপমাত্রা ছিল ৪২.২ ডিগ্রি এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা ৪৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নয়ডা ও গুরগাঁওতেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গরম বাতাস ও উষ্ণ রাতের কারণে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
![]()
বায়ুদূষণও বাড়ছে
তাপপ্রবাহের পাশাপাশি দিল্লির বায়ুমানের অবস্থাও খারাপের দিকে যাচ্ছে। শহরের বায়ুমান সূচক ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং তা মাঝারি থেকে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম ও দূষণের যুগপৎ প্রভাব মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















