গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ইবোলা ভাইরাস। দেশটিতে নতুন করে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এটি বড় আকারের আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। অনেক এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত পরীক্ষা ও নজরদারির অভাব রয়েছে। ফলে অঘোষিত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সীমান্তজুড়ে বাড়ছে সতর্কতা

ইবোলার সংক্রমণ ইতোমধ্যে কঙ্গোর পাশাপাশি উগান্ডাতেও শনাক্ত হয়েছে। এ কারণে সীমান্ত এলাকায় বাড়ানো হয়েছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নজরদারি। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো আশপাশের দেশগুলোকে জরুরি প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মানুষের যাতায়াত বেশি হওয়ায় ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। হাসপাতাল ও স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে সংক্রমণ শনাক্ত এবং রোগী আলাদা করার সক্ষমতা বাড়াতে বলা হয়েছে।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া থেকেও ছড়াচ্ছে সংক্রমণ
আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির মরদেহ স্পর্শ করা বা ধোয়ার মতো প্রচলিত সামাজিক রীতির কারণে সংক্রমণ বাড়ছে। অতীতের বড় প্রাদুর্ভাবেও এমন ঘটনা বহু মানুষের আক্রান্ত হওয়ার কারণ হয়েছিল।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে মৃত ব্যক্তির দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

আগের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। সে সময় গিনি, সিয়েরা লিওনসহ কয়েকটি দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ভাইরাসটি আফ্রিকার বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালিতেও পৌঁছে যায়।
সেই প্রাদুর্ভাবে প্রায় ২৮ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হন এবং প্রাণ হারান ১১ হাজারেরও বেশি মানুষ। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও তাই বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ।
ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক এলাকায় এখনো কার্যকর চিকিৎসা ও টিকাদান কর্মসূচি পর্যাপ্ত নয়। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধিই সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং পুরো মধ্য আফ্রিকা অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















