ভারতে কার্যক্রম চালানো বৈশ্বিক সক্ষমতা কেন্দ্রগুলোতে নতুন নিয়োগের গতি ধীরে ধীরে কমে আসছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যবসায়িক ঝুঁকি মূল্যায়নের কারণে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন অনেক বেশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় যে প্রতিষ্ঠানগুলো হাজার হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করেছিল, তারা এখন সেই লক্ষ্য কমিয়ে আনছে। ফলে ভারতের প্রযুক্তি ও সেবা খাতে নতুন চাকরির সুযোগ আগের তুলনায় সীমিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এআই বদলে দিচ্ছে চাকরির ধরন
ভারত দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও আর্থিক সেবাখাতে বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোর প্রধান কর্মীভিত্তিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দক্ষ জনবল ও তুলনামূলক কম পরিচালন ব্যয়ের কারণে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি বৈশ্বিক সক্ষমতা কেন্দ্র এখন ভারতে পরিচালিত হচ্ছে।
তবে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের ধারণা, এআই ব্যবহারের ফলে কিছু ক্ষেত্রে কর্মীর প্রয়োজন কমে যাবে এবং একইসঙ্গে কাজের ধরনও বদলে যাবে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত বড় আকারে নিয়োগ না দিয়ে ছোট পরিসরে কাজ শুরু করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
নিয়োগ কমছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ
খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, কিছু কোম্পানি তাদের পরিকল্পিত নিয়োগ ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে ফেলেছে। যেসব কেন্দ্র আগে পাঁচ হাজারের বেশি কর্মী নিয়ে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করেছিল, তারা এখন প্রায় দুই হাজার কর্মী নিয়েই কার্যক্রম চালুর চিন্তা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে শুধু প্রযুক্তিগত রূপান্তর নয়, বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানগুলো এখন স্থায়ী কর্মীর পাশাপাশি নমনীয় কর্মীসংখ্যা রাখতে চাইছে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত জনবল বাড়ানো বা কমানো যায়।

নতুন বিনিয়োগেই আশা দেখছে খাত
যদিও বড় কেন্দ্রগুলোর নিয়োগ কমেছে, তবুও নতুন বিদেশি বিনিয়োগ ও নতুন প্রতিষ্ঠানের আগমনকে সম্ভাবনার জায়গা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রযুক্তি খাতে পরিবর্তনের এই সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন ধরনের দক্ষতা ও বিশেষায়িত কর্মী খুঁজছে।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের শেষ নাগাদ দেশটিতে বৈশ্বিক সক্ষমতা কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ২০০-তে পৌঁছাতে পারে। একইসঙ্গে দক্ষ কর্মীর সংখ্যা ২৩ লাখের বেশি হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















