রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বা ছাড়—কোনোটিই ভারতের জ্বালানি নীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে না। ভারত পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, তারা নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ বিবেচনা করেই রুশ তেল কিনছে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান বদলাবে না।
নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা বলেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা কোনো নতুন বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ছাড় দেওয়ার আগেও ভারত রুশ তেল কিনেছে, ছাড় চলাকালেও কিনেছে এবং এখনও কিনছে।
তিনি বলেন, ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাণিজ্যিক সুবিধা ও জ্বালানি নিরাপত্তা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের ঘাটতি নেই এবং দেশটি দীর্ঘমেয়াদে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করেছে।

রুশ তেলের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে
ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও ভারত সেই সুযোগে তুলনামূলক কম দামে রুশ তেল আমদানি বাড়িয়েছে। এতে ভারতের জ্বালানি ব্যয় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ভারত এখন রাশিয়ার অন্যতম বড় জ্বালানি ক্রেতা। পশ্চিমা চাপ থাকলেও ভারত মূলত নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তকেই গুরুত্ব
ভারতের কর্মকর্তারা বলছেন, তেল কেনা পুরোপুরি একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত। কোথা থেকে কম দামে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি পাওয়া যাবে, সেটিই তাদের প্রধান বিবেচনা।
সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে কোনো ধরনের সংকট তৈরি হবে না। সেই কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা ছাড়ের প্রশ্নকে ভারত খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে না।
ভূরাজনীতিতে নতুন বার্তা
রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের এই ঘনিষ্ঠ জ্বালানি সম্পর্ক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও নতুন বার্তা দিচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখছে ভারত, অন্যদিকে নিজেদের অর্থনৈতিক প্রয়োজন মেটাতে মস্কোর সঙ্গেও সম্পর্ক শক্তিশালী রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে ভারতের স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















