জ্বালানির বাড়তি দাম, পরিবেশ ক্ষতিপূরণ শুল্ক বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক গাড়ির ওপর নতুন বিধিনিষেধ ঘিরে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বড় ধরনের পরিবহন ধর্মঘটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো ঘোষণা দিয়েছে, দাবি না মানলে ২১ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত টানা তিন দিন রাজধানীতে কোনো বাণিজ্যিক যান চলবে না।
এই কর্মসূচিতে দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল মিলিয়ে অন্তত ৬৮টি পরিবহন সংগঠন অংশ নিতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে জরুরি পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন ধর্মঘটের বাইরে থাকবে, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে সংকট না হয়।
কর বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ
পরিবহন সংগঠনগুলোর অভিযোগ, দিল্লিগামী সব পণ্যবাহী গাড়ির ওপর পরিবেশ ক্ষতিপূরণ শুল্ক বাড়ানো হয়েছে অন্যায়ভাবে। তাদের দাবি, এই শুল্ক মূলত দিল্লিকে করিডর হিসেবে ব্যবহার করা গাড়িগুলোর ওপর প্রযোজ্য হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন সব ধরনের গাড়ির ওপর একইভাবে বাড়তি অর্থ চাপানো হচ্ছে।

সংগঠনগুলোর মতে, এতে পরিবহন খাতের ব্যয় হঠাৎ বেড়ে গেছে এবং ছোট ব্যবসায়ী ও চালকদের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জ্বালানির দামও বড় কারণ
পরিবহন মালিকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবেও জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। ফলে পরিবহন ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে।
তাদের অভিযোগ, একদিকে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, অন্যদিকে নতুন কর ও বিধিনিষেধ—দুই মিলিয়ে পরিবহন ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংগঠনগুলোর চার দাবি
পরিবহন সংগঠনগুলো চারটি প্রধান দাবি সামনে এনেছে। তারা সব দিল্লিগামী পণ্যবাহী গাড়ির ওপর বাড়ানো শুল্ক প্রত্যাহার চায়। পাশাপাশি দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত নির্দিষ্ট মানের পুরোনো বাণিজ্যিক গাড়ির প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
এছাড়া শুধুমাত্র দিল্লি অতিক্রম করা গাড়ির ক্ষেত্রে শুল্ক প্রযোজ্য করার আহ্বান জানানো হয়েছে। জরুরি পণ্য বহনকারী এবং খালি গাড়িগুলোকে শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবিও তুলেছে সংগঠনগুলো।

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত কী
গত মাসে দিল্লি সরকার বাণিজ্যিক যানবাহনের ওপর পরিবেশ ক্ষতিপূরণ শুল্ক ৫০ শতাংশের বেশি বাড়ায়। একই সঙ্গে প্রতিবছর ৫ শতাংশ করে অতিরিক্ত ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হালকা বাণিজ্যিক যান ও দুই অ্যাক্সেলের ট্রাকের ফি ১ হাজার ৪০০ রুপি থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার রুপি করা হয়েছে। বড় ট্রাকের ক্ষেত্রে এই ফি ২ হাজার ৬০০ রুপি থেকে বেড়ে ৪ হাজার রুপিতে পৌঁছেছে।
এছাড়া আগামী নভেম্বর থেকে দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত নির্দিষ্ট পুরোনো বাণিজ্যিক গাড়ির রাজধানীতে প্রবেশও বন্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে গ্যাসচালিত, বিদ্যুৎচালিত এবং উন্নত মানের নতুন যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

সমাধানের আশ্বাস
ভারতের কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গড়করি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি দ্রুত সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ধর্মঘট বাস্তবায়িত হলে দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় পণ্য পরিবহন, বাজার সরবরাহ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















