যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে প্রকাশিত বিপুল পরিমাণ নথির পর এবার ব্রিটেনে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। সারে পুলিশ জানিয়েছে, তারা বহু বছর আগের শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। বিষয়টি নিয়ে দেশটির বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেও সমন্বয় শুরু হয়েছে।
এপস্টেইন বহু বছর ধরেই আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত একটি নাম। অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণের অভিযোগে তিনি আগেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে আরও বড় একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ ওঠে, যেখানে কমবয়সী মেয়েদের ব্যবহার করা হতো বলে তদন্তকারীদের দাবি ছিল। যদিও এসব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছিলেন।
নতুন নথি ঘিরে তৎপরতা
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংক্রান্ত প্রায় ৩৫ লাখ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করে। এসব নথিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ঘটনার উল্লেখ থাকলেও কেবল নাম থাকা মানেই কারও বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ নয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নথিতে উঠে আসা অনেকেই নিজেদের বিরুদ্ধে আনা যেকোনো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এই নথি প্রকাশের পর ব্রিটেনের একাধিক পুলিশ বাহিনী নতুন তদন্তের সম্ভাবনা যাচাই শুরু করে। সারে পুলিশের পাশাপাশি নরফোক পুলিশ এবং স্কটল্যান্ডের পুলিশও বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে। যদিও স্কটল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহারের ঘটনায় বর্তমানে তাদের কোনো সক্রিয় তদন্ত নেই।
জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয়
ব্রিটেনের জাতীয় পুলিশ প্রধানদের কাউন্সিল একটি সমন্বয় দল গঠন করেছে। তারা জাতীয় অপরাধ সংস্থার সঙ্গে কাজ করে বিভিন্ন অঞ্চলের তদন্তে সহায়তা দিচ্ছে। তদন্তকারীরা মূলত পুরোনো অভিযোগ, সম্ভাব্য ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তথ্য যাচাই করছেন।
এর আগে পৃথক তদন্তে আরও কয়েকজন আলোচিত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেপ্তার করা হয়। এসব ঘটনায় সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে যেকোনো অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করা হয়েছে।
বিতর্ক ও জনমত
এপস্টেইন কাণ্ড বহু বছর ধরেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ব্যবসা ও উচ্চবিত্ত সমাজের নানা সম্পর্ককে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। নতুন নথি প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় এসেছে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতা এবং শিশু সুরক্ষার বিষয়টি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই তদন্তগুলোর মাধ্যমে শুধু অতীতের ঘটনা নয়, বরং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে অপরাধের সম্ভাব্য সম্পর্কও খতিয়ে দেখা হবে। ফলে ব্রিটেনে এই ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















