০১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
ঢাকার পশুর হাট ইজারায় বিএনপির প্রাধান্য, প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে জামায়াত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ধবলধোলাই, তাইজুলের ঘূর্ণিতে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারাল টাইগাররা শান্তিনগরের শপিং মলে আগুন, দগ্ধ চারজন হাসপাতালে ভারতে ৪৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় অচল বান্দা, সকাল ১০টার পরই থেমে যায় জনজীবন তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে ভয়াবহ ধস, উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে বড় শঙ্কা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, আতঙ্কে রোগী সরিয়ে নেওয়া হলো আইসিইউ থেকেও স্যামসাংয়ে ধর্মঘটের হুমকি, ভেস্তে গেল বেতন আলোচনা চীনা ভিসা নিয়ে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের গিজেল পেলিকোর আত্মকথা ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন, নির্যাতনের গল্পে উঠে এলো আত্মসমালোচনার নতুন ভাষা কাতারের গ্যাস সংকট: যুদ্ধের ধাক্কায় থমকে গেছে ধনকুবের অর্থনীতি

বাংলাদেশে অনলাইন সহিংসতার শিকার ৬৩ শতাংশ নারী, বাড়ছে সাইবার হয়রানির ঝুঁকি

বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন সহিংসতাও উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। এক জাতীয় সেমিনারে জানানো হয়েছে, দেশের ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো সময় প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বা অনলাইন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন বক্তারা।

ডিজিটাল অগ্রগতির আড়ালে নতুন সংকট

সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা, অনলাইন ব্যবসা ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও প্রযুক্তির অপব্যবহার নতুন ধরনের সহিংসতার জন্ম দিয়েছে। অনলাইনে হয়রানির শিকার নারীদের মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি অশ্লীল ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের মুখোমুখি হয়েছেন।

সাইবার সহিংসতার মুখে নারীরা

এছাড়া অযাচিত যৌন প্রস্তাব, আপত্তিকর ছবি পাঠানো এবং ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খুলে হয়রানির ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক ভয়, লজ্জা ও আইনি সহায়তা নিয়ে অনাস্থার কারণে অধিকাংশ নারী অভিযোগই করেন না।

অভিযোগ বাড়ছে, নীরবতাও বাড়ছে

সাইবার সহায়তা ইউনিটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুধু ২০২৪ সালেই সাইবার হয়রানির ৯ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এখন ঘৃণামূলক বক্তব্য, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস, ভুয়া ভিডিও ও প্রতিশোধমূলক পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৭ সালের তুলনায় নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বাড়লেও নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

ভার্চুয়াল আক্রমণের বাস্তব প্রভাব

সেমিনারে তুলে ধরা হয়, অনলাইন হয়রানির প্রভাব শুধু ভার্চুয়াল জগতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেক নারী মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশায় ভুগছেন। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে নিজের মত প্রকাশ থেকেও পিছিয়ে যাচ্ছেন।

ডিজিটাল স্পেসে নারীর নিরাপত্তা সংকট

বিশেষ করে নারী সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারীরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। আলোচনায় বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে নারীদের জনপরিসর থেকে দূরে সরিয়ে দিতেই পরিকল্পিতভাবে অনলাইন আক্রমণ চালানো হচ্ছে।

এছাড়া প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত নজরদারি, ব্ল্যাকমেইল এবং ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও দ্রুত বাড়ছে বলে জানানো হয়।

সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

বক্তারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন করলেই হবে না, ভুক্তভোগীবান্ধব অভিযোগ ব্যবস্থা এবং গ্রামীণ পর্যায়ে ডিজিটাল সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে নারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা, নিরাপদ পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং দুই ধাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সেমিনারে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমকে নারীবান্ধব ও সংবেদনশীল প্রতিবেদন তৈরিতে আরও সতর্ক হতে হবে যাতে ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকে।

শেষে সরকার, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ | Suprobhat Bangladesh

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার পশুর হাট ইজারায় বিএনপির প্রাধান্য, প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে জামায়াত

বাংলাদেশে অনলাইন সহিংসতার শিকার ৬৩ শতাংশ নারী, বাড়ছে সাইবার হয়রানির ঝুঁকি

১২:২৪:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন সহিংসতাও উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। এক জাতীয় সেমিনারে জানানো হয়েছে, দেশের ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো সময় প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বা অনলাইন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন বক্তারা।

ডিজিটাল অগ্রগতির আড়ালে নতুন সংকট

সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা, অনলাইন ব্যবসা ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও প্রযুক্তির অপব্যবহার নতুন ধরনের সহিংসতার জন্ম দিয়েছে। অনলাইনে হয়রানির শিকার নারীদের মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি অশ্লীল ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের মুখোমুখি হয়েছেন।

সাইবার সহিংসতার মুখে নারীরা

এছাড়া অযাচিত যৌন প্রস্তাব, আপত্তিকর ছবি পাঠানো এবং ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খুলে হয়রানির ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক ভয়, লজ্জা ও আইনি সহায়তা নিয়ে অনাস্থার কারণে অধিকাংশ নারী অভিযোগই করেন না।

অভিযোগ বাড়ছে, নীরবতাও বাড়ছে

সাইবার সহায়তা ইউনিটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুধু ২০২৪ সালেই সাইবার হয়রানির ৯ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এখন ঘৃণামূলক বক্তব্য, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস, ভুয়া ভিডিও ও প্রতিশোধমূলক পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৭ সালের তুলনায় নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বাড়লেও নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

ভার্চুয়াল আক্রমণের বাস্তব প্রভাব

সেমিনারে তুলে ধরা হয়, অনলাইন হয়রানির প্রভাব শুধু ভার্চুয়াল জগতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেক নারী মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশায় ভুগছেন। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে নিজের মত প্রকাশ থেকেও পিছিয়ে যাচ্ছেন।

ডিজিটাল স্পেসে নারীর নিরাপত্তা সংকট

বিশেষ করে নারী সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারীরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। আলোচনায় বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে নারীদের জনপরিসর থেকে দূরে সরিয়ে দিতেই পরিকল্পিতভাবে অনলাইন আক্রমণ চালানো হচ্ছে।

এছাড়া প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত নজরদারি, ব্ল্যাকমেইল এবং ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও দ্রুত বাড়ছে বলে জানানো হয়।

সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

বক্তারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন করলেই হবে না, ভুক্তভোগীবান্ধব অভিযোগ ব্যবস্থা এবং গ্রামীণ পর্যায়ে ডিজিটাল সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে নারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা, নিরাপদ পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং দুই ধাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সেমিনারে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমকে নারীবান্ধব ও সংবেদনশীল প্রতিবেদন তৈরিতে আরও সতর্ক হতে হবে যাতে ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকে।

শেষে সরকার, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ | Suprobhat Bangladesh