দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সে বড় ধরনের শ্রমিক ধর্মঘটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে বেতন ও বোনাস নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পরও সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বুধবার সর্বশেষ দফার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইউনিয়নের নেতা চোই সিউং-হো ঘোষণা দেন, বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকরা ১৮ দিনের ধর্মঘটে যাবেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের অন্যতম বড় চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিরোধের কেন্দ্রে বোনাস ও মুনাফা বণ্টন

শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির চাহিদা বৃদ্ধির কারণে স্যামসাং বিপুল মুনাফা করলেও কর্মীদের ন্যায্য সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। ইউনিয়ন চায়, কোম্পানির বার্ষিক পরিচালন মুনাফার ১৫ শতাংশ কর্মীদের বোনাস হিসেবে বরাদ্দ করা হোক। পাশাপাশি বর্তমানে বেতনভিত্তিক যে বোনাস সীমা রয়েছে, সেটিও তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প চক্রাকারে ওঠানামা করে। ফলে অতিরিক্ত আর্থিক প্রতিশ্রুতি ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ব্যবস্থাপনা আরও দাবি করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটগুলোর বাস্তবতা বিবেচনায় ইউনিয়নের দাবি অত্যধিক।
বিশ্ববাজারে প্রভাবের শঙ্কা
স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স মিলেই বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মেমোরি চিপ উৎপাদন করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে এই চিপের বৈশ্বিক চাহিদা বর্তমানে তুঙ্গে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্যামসাংয়ে দীর্ঘমেয়াদি ধর্মঘট হলে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সম্প্রতি জানুয়ারি থেকে মার্চ প্রান্তিকে স্যামসাং প্রায় আট গুণ বেশি পরিচালন মুনাফা করেছে। কোম্পানির পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ওন বা প্রায় ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
)
সরকারের হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক সতর্ক করে বলেছেন, ধর্মঘটের কারণে জটিল চিপ উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন ওনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রয়োজনে বিশেষ জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে সমাধান চাপিয়ে দিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এদিকে স্থানীয় একটি আদালত ধর্মঘটের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আদালত বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও উৎপাদন ইউনিট সচল রাখতে ন্যূনতম সংখ্যক কর্মীকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অফিস ও উৎপাদন এলাকায় প্রবেশেও কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
তবুও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে উভয় পক্ষ। ফলে শেষ মুহূর্তে সমঝোতার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















