ভারতের মুম্বাইয়ের স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান অঙ্কিতা শ্রীবাস্তবের কাছে ২০২৪ সালের এক বিকেলে আসে একটি ফোনকল। কলদাতা নিজেকে ফেডএক্স কর্মী পরিচয় দিয়ে জানান, তার নামে ইরাকে পাঠানো একটি পার্সেলে মাদক পাওয়া গেছে।
‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে আট ঘণ্টার মানসিক নির্যাতন
এরপর ভিডিও কলে যুক্ত করা হয় পুলিশ পরিচয়ে থাকা দুই ব্যক্তিকে। তারা অঙ্কিতাকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এ রাখা হয়েছে বলে জানায়।
প্রায় আট ঘণ্টা ধরে তাকে ভিডিও কলে নজরদারিতে রাখা হয়। ক্যামেরা বন্ধ করা, বাসা থেকে বের হওয়া বা কারও সঙ্গে কথা বলার অনুমতিও ছিল না।
ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হয় লাখ লাখ টাকা

প্রতারকরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও লেনদেন নিয়ে। ক্রমাগত ভয় ও চাপের মধ্যে একপর্যায়ে অঙ্কিতা প্রায় ৯ লাখ রুপি লেনদেন অনুমোদন করেন। পরে বুঝতে পারেন পুরো ঘটনাই ছিল সুপরিকল্পিত প্রতারণা।
শিক্ষিত মানুষও কেন প্রতারণার শিকার হন?
অঙ্কিতা বলেন, “সবাই আমাকে জিজ্ঞেস করেছে—তুমি শিক্ষিত হয়েও কীভাবে প্রতারিত হলে? আমিও নিজেকে সেই প্রশ্ন করেছি।”
ভারতে বাড়ছে সাইবার অপরাধ
ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সালে সাইবার অপরাধ প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। ডিজিটাল প্রতারণায় ভারতীয়দের ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়েছে ২২০ বিলিয়ন রুপি।
‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ এখন বড় আতঙ্ক

বর্তমানে ভারতে সবচেয়ে আলোচিত প্রতারণাগুলোর একটি হলো ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’। এতে প্রতারকরা পুলিশ বা সরকারি কর্মকর্তা সেজে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে।
প্রযুক্তির চেয়ে বেশি কাজ করে মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রতারণা প্রযুক্তির চেয়ে বেশি নির্ভর করে মানুষের ভয়, লজ্জা ও মানসিক দুর্বলতার ওপর। প্রতারকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের আচরণ বিশ্লেষণ করেও টার্গেট ঠিক করে।
সচেতনতার বার্তা দিলেন অঙ্কিতা
নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে পরে একটি কমেডি পারফরম্যান্স করেন অঙ্কিতা। তার ভাষায়, “আমি যদি প্রতারিত হতে পারি, তাহলে যে কেউ হতে পারে।”

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















