০৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
হাইলাইট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম–গেস্টরুম বন্ধ হয়েছে, ‘ট্যাগ’ দিয়ে নির্যাতন থামেনি ‘ফেডএক্স পার্সেলে মাদক’-ফোনকলেই ফাঁদে পড়লেন ভারতীয় কৌতুকশিল্পী চীন-রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র: নতুন এক ত্রিভুজ রাজনীতির সূচনা? গাজার নীরব কারাগার আর বিশ্বের বিবেকহীনতা রুপির সংকট শুধু মুদ্রার নয়, আস্থারও পরীক্ষা ঢাকার পশুর হাট ইজারায় বিএনপির প্রাধান্য, প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে জামায়াত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ধবলধোলাই, তাইজুলের ঘূর্ণিতে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারাল টাইগাররা শান্তিনগরের শপিং মলে আগুন, দগ্ধ চারজন হাসপাতালে ভারতে ৪৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় অচল বান্দা, সকাল ১০টার পরই থেমে যায় জনজীবন তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে ভয়াবহ ধস, উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে বড় শঙ্কা

রুপির সংকট শুধু মুদ্রার নয়, আস্থারও পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক অস্থিরতা যখন জ্বালানি বাজারকে নাড়িয়ে দেয়, তখন তার অভিঘাত সবচেয়ে দ্রুত অনুভূত হয় উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য সংকট ঘিরে তেলের দামের উল্লম্ফন আবারও ভারতীয় রুপির ওপর তীব্র চাপ তৈরি করেছে। কিন্তু এটিকে কেবল সাময়িক ভূরাজনৈতিক ধাক্কার ফল হিসেবে দেখলে বড় বাস্তবতাকে এড়িয়ে যাওয়া হবে। কারণ রুপির দুর্বলতা অনেক গভীর এক কাঠামোগত সমস্যার বহিঃপ্রকাশ—যেখানে বৈশ্বিক পুঁজির দিক পরিবর্তন, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির উত্থান এবং বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্ব একসঙ্গে কাজ করছে।

গত কয়েক বছরে ভারতের অর্থনীতি উচ্চ প্রবৃদ্ধির গল্প বললেও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের চোখে দেশটি আর আগের মতো আকর্ষণীয় থাকেনি। অভ্যন্তরীণ বাজারে বিপুল খুচরা বিনিয়োগ প্রবাহ শেয়ারবাজারকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যেখানে বিদেশি তহবিল ব্যবস্থাপকরা ভারতীয় সম্পদকে অতিমূল্যায়িত হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। একই সময়ে বিশ্ব পুঁজি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে সেইসব অর্থনীতির দিকে, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি ও উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু পশ্চিমা অর্থনীতি এই মুহূর্তে “ইনোভেশন ইকোনমি” হিসেবে নতুন আকর্ষণের কেন্দ্র। তুলনায় ভারতকে এখনও প্রযুক্তিগত সীমান্তে বড় খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হয় না।

এই বাস্তবতায় রুপির ওপর চাপ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সমস্যা হলো, মুদ্রাবাজারে একবার নেতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হলে তা দ্রুত আত্মবিশ্বাসের সংকটে পরিণত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তখন বাজারে ডলার বিক্রি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকও এখন ঠিক সেটিই করছে। বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকার কারণে প্রথম দেখায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে হতে পারে। কিন্তু ইতিহাস বলে, সংকটের মুহূর্তে যত বড় রিজার্ভই থাকুক না কেন, বাজারের আতঙ্ক যদি বেড়ে যায় তবে সেই সুরক্ষা খুব দ্রুত অপ্রতুল হয়ে উঠতে পারে।

India File: A perfect storm for the rupee | Reuters

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এখানে অর্থের ঘাটতি নয়, বিশ্বাসের ঘাটতি। যদি বাজার এই ধারণা করে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বশক্তি নিয়োগ করেও মুদ্রার পতন ঠেকাতে পারছে না, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বিনিয়োগকারীরা তখন ধরে নেয় পতন আরও বাড়বে, আর সেই প্রত্যাশাই পতনকে ত্বরান্বিত করে। অর্থনীতির ভাষায় এটি “সেলফ-ফুলফিলিং প্রফেসি”—অর্থাৎ আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নেয়।

এ ধরনের সংকটে নীতিনির্ধারকদের হাতে কিছু প্রচলিত অস্ত্র থাকে। আমদানি কমাতে শুল্ক বাড়ানো, বিশেষ করে সোনা আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আনা, তার একটি উদাহরণ। কিন্তু ভারতীয় সমাজে সোনার সাংস্কৃতিক ও আর্থিক গুরুত্ব এত বেশি যে অতিরিক্ত শুল্ক আবার চোরাচালানকে উসকে দিতে পারে। আবার কম শুল্ক রাখলে অনিশ্চয়তার সময়ে মানুষ আরও বেশি সোনা কিনতে শুরু করে। ফলে ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আরেকটি পথ হলো বিদেশে থাকা ভারতীয়দের কাছ থেকে বিশেষ বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা। অতীতে এমন উদ্যোগ সফল হয়েছিল, বিশেষ করে ২০১৩ সালের “টেপার ট্যানট্রাম” সংকটের সময়। কিন্তু আজকের বৈশ্বিক বাস্তবতা একেবারেই আলাদা। তখন বিশ্ববাজারে সুদের হার ছিল খুব কম এবং তারল্য ছিল প্রচুর। এখন উল্টো পরিস্থিতি। ফলে নতুন করে এমন বন্ড ইস্যু করলে তার ব্যয়ও অনেক বেশি হবে। তার ওপর মুদ্রা ঝুঁকি সামলাতে গিয়ে ব্যাংক ও সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো, এই ধরনের জরুরি অর্থসংগ্রহ আদৌ কি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিতে পারে? এককালীন অর্থপ্রবাহ বাজারকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে না। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন এমন এক অর্থনৈতিক পরিবেশ, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা নিয়ে আশ্বস্ত হবে। শুধু দ্রুত প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান নয়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অবস্থান—এসবও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Rupee is more than a measure of price. It's also a barometer of credibility  | The Indian Express

মুদ্রা সংকটের সবচেয়ে জটিল দিক হলো এটি কেবল অর্থনৈতিক হিসাবের বিষয় নয়; এটি মনস্তত্ত্বেরও খেলা। সংকটের সময়ে মানুষ যুক্তির চেয়ে ভয়কে বেশি গুরুত্ব দেয়। রপ্তানিকারকরা বৈদেশিক আয় দেশে আনতে দেরি করে, আমদানিকারকরা আগাম ডলার কিনে রাখতে চায়, সাধারণ মানুষ সোনা ও বিদেশি মুদ্রায় আশ্রয় খোঁজে। ফলে চাপ আরও বাড়ে।

এ কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুধু বাজারে হস্তক্ষেপ করা নয়, বরং আস্থা বজায় রাখা। নীতিনির্ধারকদের এমনভাবে পদক্ষেপ নিতে হয় যাতে দৃঢ়তা বোঝা যায়, কিন্তু আতঙ্কের বার্তা না যায়। কারণ মুদ্রাবাজারে কখনও কখনও ভুল বার্তাই সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্ম দেয়।

ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি তাই কেবল রুপির বিনিময় হার নিয়ে উদ্বেগের গল্প নয়। এটি এমন এক সময়ের প্রতিচ্ছবি, যখন বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রযুক্তি, পুঁজি ও ভূরাজনীতির নতুন ভারসাম্যে প্রবেশ করছে। যে দেশগুলো এই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবে না, তাদের মুদ্রা শুধু বাজারের চাপে নয়, আস্থার সংকটেও ভুগবে। আর সেই সংকট সামাল দিতে শুধু রিজার্ভ নয়, প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্য দিকনির্দেশনা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল।

Bernstein warns rupee could breach 98/USD, cuts Nifty target on Iran  conflict risks | Reuters

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইলাইট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম–গেস্টরুম বন্ধ হয়েছে, ‘ট্যাগ’ দিয়ে নির্যাতন থামেনি

রুপির সংকট শুধু মুদ্রার নয়, আস্থারও পরীক্ষা

০২:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক অস্থিরতা যখন জ্বালানি বাজারকে নাড়িয়ে দেয়, তখন তার অভিঘাত সবচেয়ে দ্রুত অনুভূত হয় উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য সংকট ঘিরে তেলের দামের উল্লম্ফন আবারও ভারতীয় রুপির ওপর তীব্র চাপ তৈরি করেছে। কিন্তু এটিকে কেবল সাময়িক ভূরাজনৈতিক ধাক্কার ফল হিসেবে দেখলে বড় বাস্তবতাকে এড়িয়ে যাওয়া হবে। কারণ রুপির দুর্বলতা অনেক গভীর এক কাঠামোগত সমস্যার বহিঃপ্রকাশ—যেখানে বৈশ্বিক পুঁজির দিক পরিবর্তন, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির উত্থান এবং বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্ব একসঙ্গে কাজ করছে।

গত কয়েক বছরে ভারতের অর্থনীতি উচ্চ প্রবৃদ্ধির গল্প বললেও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের চোখে দেশটি আর আগের মতো আকর্ষণীয় থাকেনি। অভ্যন্তরীণ বাজারে বিপুল খুচরা বিনিয়োগ প্রবাহ শেয়ারবাজারকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যেখানে বিদেশি তহবিল ব্যবস্থাপকরা ভারতীয় সম্পদকে অতিমূল্যায়িত হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। একই সময়ে বিশ্ব পুঁজি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে সেইসব অর্থনীতির দিকে, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি ও উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কিছু পশ্চিমা অর্থনীতি এই মুহূর্তে “ইনোভেশন ইকোনমি” হিসেবে নতুন আকর্ষণের কেন্দ্র। তুলনায় ভারতকে এখনও প্রযুক্তিগত সীমান্তে বড় খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হয় না।

এই বাস্তবতায় রুপির ওপর চাপ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সমস্যা হলো, মুদ্রাবাজারে একবার নেতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হলে তা দ্রুত আত্মবিশ্বাসের সংকটে পরিণত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তখন বাজারে ডলার বিক্রি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকও এখন ঠিক সেটিই করছে। বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকার কারণে প্রথম দেখায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে হতে পারে। কিন্তু ইতিহাস বলে, সংকটের মুহূর্তে যত বড় রিজার্ভই থাকুক না কেন, বাজারের আতঙ্ক যদি বেড়ে যায় তবে সেই সুরক্ষা খুব দ্রুত অপ্রতুল হয়ে উঠতে পারে।

India File: A perfect storm for the rupee | Reuters

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এখানে অর্থের ঘাটতি নয়, বিশ্বাসের ঘাটতি। যদি বাজার এই ধারণা করে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বশক্তি নিয়োগ করেও মুদ্রার পতন ঠেকাতে পারছে না, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বিনিয়োগকারীরা তখন ধরে নেয় পতন আরও বাড়বে, আর সেই প্রত্যাশাই পতনকে ত্বরান্বিত করে। অর্থনীতির ভাষায় এটি “সেলফ-ফুলফিলিং প্রফেসি”—অর্থাৎ আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নেয়।

এ ধরনের সংকটে নীতিনির্ধারকদের হাতে কিছু প্রচলিত অস্ত্র থাকে। আমদানি কমাতে শুল্ক বাড়ানো, বিশেষ করে সোনা আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আনা, তার একটি উদাহরণ। কিন্তু ভারতীয় সমাজে সোনার সাংস্কৃতিক ও আর্থিক গুরুত্ব এত বেশি যে অতিরিক্ত শুল্ক আবার চোরাচালানকে উসকে দিতে পারে। আবার কম শুল্ক রাখলে অনিশ্চয়তার সময়ে মানুষ আরও বেশি সোনা কিনতে শুরু করে। ফলে ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

আরেকটি পথ হলো বিদেশে থাকা ভারতীয়দের কাছ থেকে বিশেষ বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা। অতীতে এমন উদ্যোগ সফল হয়েছিল, বিশেষ করে ২০১৩ সালের “টেপার ট্যানট্রাম” সংকটের সময়। কিন্তু আজকের বৈশ্বিক বাস্তবতা একেবারেই আলাদা। তখন বিশ্ববাজারে সুদের হার ছিল খুব কম এবং তারল্য ছিল প্রচুর। এখন উল্টো পরিস্থিতি। ফলে নতুন করে এমন বন্ড ইস্যু করলে তার ব্যয়ও অনেক বেশি হবে। তার ওপর মুদ্রা ঝুঁকি সামলাতে গিয়ে ব্যাংক ও সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো, এই ধরনের জরুরি অর্থসংগ্রহ আদৌ কি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিতে পারে? এককালীন অর্থপ্রবাহ বাজারকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে না। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন এমন এক অর্থনৈতিক পরিবেশ, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা নিয়ে আশ্বস্ত হবে। শুধু দ্রুত প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান নয়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অবস্থান—এসবও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Rupee is more than a measure of price. It's also a barometer of credibility  | The Indian Express

মুদ্রা সংকটের সবচেয়ে জটিল দিক হলো এটি কেবল অর্থনৈতিক হিসাবের বিষয় নয়; এটি মনস্তত্ত্বেরও খেলা। সংকটের সময়ে মানুষ যুক্তির চেয়ে ভয়কে বেশি গুরুত্ব দেয়। রপ্তানিকারকরা বৈদেশিক আয় দেশে আনতে দেরি করে, আমদানিকারকরা আগাম ডলার কিনে রাখতে চায়, সাধারণ মানুষ সোনা ও বিদেশি মুদ্রায় আশ্রয় খোঁজে। ফলে চাপ আরও বাড়ে।

এ কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুধু বাজারে হস্তক্ষেপ করা নয়, বরং আস্থা বজায় রাখা। নীতিনির্ধারকদের এমনভাবে পদক্ষেপ নিতে হয় যাতে দৃঢ়তা বোঝা যায়, কিন্তু আতঙ্কের বার্তা না যায়। কারণ মুদ্রাবাজারে কখনও কখনও ভুল বার্তাই সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের জন্ম দেয়।

ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি তাই কেবল রুপির বিনিময় হার নিয়ে উদ্বেগের গল্প নয়। এটি এমন এক সময়ের প্রতিচ্ছবি, যখন বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রযুক্তি, পুঁজি ও ভূরাজনীতির নতুন ভারসাম্যে প্রবেশ করছে। যে দেশগুলো এই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবে না, তাদের মুদ্রা শুধু বাজারের চাপে নয়, আস্থার সংকটেও ভুগবে। আর সেই সংকট সামাল দিতে শুধু রিজার্ভ নয়, প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্য দিকনির্দেশনা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল।

Bernstein warns rupee could breach 98/USD, cuts Nifty target on Iran  conflict risks | Reuters