ঈদুল আজহা ঘিরে রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা কার্যক্রমে এবার স্পষ্টভাবে প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় বসতে যাওয়া ২৬টি পশুর হাটের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৬টির ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। এর বেশির ভাগই গেছে বিএনপির নেতাকর্মী বা তাদের ঘনিষ্ঠদের হাতে। অন্যদিকে জামায়াতের নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন হাটের দরপত্রে অংশ নিলেও বড় অংশে সফল হতে পারেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার হাট ইজারা নিয়ে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন দল-সমর্থিত ব্যবসায়ী ও নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াত উভয় পক্ষই দাবি করছে, আগে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ছিল না। এবার খোলামেলা দরপত্র হওয়ায় ইজারার মূল্যও বেড়েছে।
ডিএসসিসিতে উত্তেজনা ও প্রতিযোগিতা
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন হাটের ইজারা ঘিরে নগরভবনে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। সবচেয়ে আলোচিত হাটগুলোর একটি পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন নদীর পাড়ের খালি জায়গা। সরকারি মূল্য ছিল ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। সেখানে জামায়াত-সমর্থিত দরদাতা ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি নেতা কাজী মাহবুব মওলা হিমেল ৪ কোটি ১ লাখ টাকা দর দিয়ে ইজারা পান।
আমুলিয়া মডেল টাউন এলাকার হাটটির সরকারি মূল্য ছিল ৫৩ লাখ টাকা। গত বছর যে হাট ৫৫ লাখ টাকায় ইজারা হয়েছিল, এবার সেটি ২ কোটি ১৫ লাখ টাকায় পেয়েছেন ডেমরা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদিন রতন। একইভাবে গোলাপবাগ মাঠ, শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাব এলাকা এবং ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব সংলগ্ন হাটগুলোর ইজারাও বিএনপি-ঘনিষ্ঠদের হাতে গেছে।
তবে কিছু হাটে জামায়াত-সমর্থিত প্রতিষ্ঠানও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে। দনিয়া কলেজ ও সনটেক মহিলা মাদ্রাসা সংলগ্ন হাটের জন্য স্থানীয় জামায়াত নেতা শামীম খানের প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ দর দেয়। এতে বোঝা যাচ্ছে, দলটি পুরোপুরি পিছিয়ে নেই, বরং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হাটে নিজেদের অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে।
ডিএনসিসিতে বিএনপির একচ্ছত্র দখল

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের চিত্র আরও স্পষ্ট। এখন পর্যন্ত ইজারা হওয়া আটটি হাটের সবগুলোই পেয়েছেন বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান। উত্তরা দিয়াবাড়ির বউবাজার এলাকার হাটটির সর্বোচ্চ দর উঠেছে ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এটি পেয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শেখ ফরিদ হোসেন।
এ ছাড়া তেজগাঁও, মিরপুর ও কালশী এলাকার বিভিন্ন হাটের ইজারাও বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দখলে গেছে। কয়েকটি হাটে সরকারি মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি দর উঠেছে, যা প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বড় ভূমিকা রাখছে।
আয় প্রায় ৪৮ কোটি টাকা
দুই সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৬টি হাট থেকে মোট আয় হয়েছে প্রায় ৪৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ডিএনসিসির আটটি হাট থেকে এসেছে ২৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং ডিএসসিসির আটটি হাট থেকে এসেছে ২৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। বাকি হাটগুলোর ইজারা কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নয়, বরং দরপত্র মূল্যায়নের ভিত্তিতেই হাট ইজারা দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জমা দেওয়ার সুযোগও রয়েছে বলে তিনি জানান।
ঢাকার পশুর হাট ইজারা
রাজধানীর পশুর হাট ইজারায় বিএনপি-সংশ্লিষ্টদের প্রাধান্য দেখা গেলেও জামায়াতও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হাটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ১৬ হাট থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৪৮ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















