পাঁচ দেশ সফরের শেষ ধাপে ইতালির রাজধানী রোমে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাকে স্বাগত জানিয়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে রোমের ঐতিহাসিক কলোসিয়ামের সামনে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যায়। ছবির সঙ্গে মেলোনি লেখেন, “রোমে স্বাগতম, আমার বন্ধু।”
মেলোনির এই বার্তা ঘিরে ভারত ও ইতালির সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা
নরেন্দ্র মোদির এই সফরে ভারত-ইতালি সহযোগিতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ভারত ও ইতালির যৌথ কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা ২০২৫-২০২৯ বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হবে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে চায়।
অর্থনৈতিক করিডোরে বিশেষ গুরুত্ব
রোমে পৌঁছে নরেন্দ্র মোদি জানান, ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আলোচনা এই সফরের অন্যতম প্রধান বিষয়। এই করিডোরকে ভবিষ্যতের বড় অর্থনৈতিক সংযোগ প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লা এবং প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে তার বৈঠক হবে। পাশাপাশি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দপ্তরও সফর করবেন তিনি।
বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা

রোমে পৌঁছানোর পর ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বিমানবন্দরে নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানান। সেখানে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।
পরে হোটেলে পৌঁছালে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। ইতালীয় ও ভারতীয় সংস্কৃতির সমন্বয়ে নাচ ও বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনা আয়োজন করা হয় তার সম্মানে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বাড়ছে সহযোগিতা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও ইতালির মধ্যে বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এই সফরকে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















