০১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
চীনা ভিসা নিয়ে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের গিজেল পেলিকোর আত্মকথা ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন, নির্যাতনের গল্পে উঠে এলো আত্মসমালোচনার নতুন ভাষা কাতারের গ্যাস সংকট: যুদ্ধের ধাক্কায় থমকে গেছে ধনকুবের অর্থনীতি নতুন পে-স্কেলে জুলাই থেকে কি বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন? ভারতে কূটনৈতিক মিশনে কর্মরত কর্মকর্তা চট্টগ্রামে মৃত অবস্থায় উদ্ধার মেলোনির উষ্ণ বার্তায় রোমে মোদিকে স্বাগত, ইতালি সফরে জোর পাচ্ছে কৌশলগত সম্পর্ক বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি নীতির দাবি এফআইসিসিআইর বাংলাদেশে অনলাইন সহিংসতার শিকার ৬৩ শতাংশ নারী, বাড়ছে সাইবার হয়রানির ঝুঁকি আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াতে ঢাকায় প্রথমবারের মতো আর্থিক হিসাব ও প্রতিবেদন সম্মেলন আশুলিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার

ট্রাম্পের ইরান হামলা স্থগিত, নতুন করে যুদ্ধ শঙ্কা ও কূটনৈতিক চাপ

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আবারও নতুন মোড় নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত করলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থির। একদিকে ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলছে, অন্যদিকে আবার প্রয়োজনে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার হুঁশিয়ারিও দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা থাকলেও যদি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র “সম্পূর্ণ প্রস্তুত” রয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলও নিজেদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় নিয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে সামরিক প্রস্তুতি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু , সে দেশের বাহিনী গাজা  ভূখণ্ডে হামাসের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন চালানোর কথা স্বীকার করে ...

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। দেশটির সামরিক বাহিনী সম্ভাব্য নতুন হামলার প্রস্তুতি জোরদার করেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মনে করছেন, যদি তেহরান নতুন কোনো গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব না দেয়, তাহলে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। যুদ্ধজাহাজ, হেলিকপ্টার ও নৌ অবরোধের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানি বন্দরগুলো কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বহু বাণিজ্যিক জাহাজকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ট্রাম্পের কৌশল ও কূটনৈতিক বার্তা

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে চান এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবেন না। তাঁর ভাষায়, “আমরা চাই শান্তিপূর্ণ সমাধান, কিন্তু প্রয়োজন হলে আবারও আঘাত হানতে প্রস্তুত আছি।”

তিনি আরও দাবি করেন, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ তাঁকে হামলা বিলম্বিত করার অনুরোধ জানিয়েছে, কারণ তাদের বিশ্বাস আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প একদিকে সামরিক চাপ ধরে রেখে অন্যদিকে আলোচনার পথ খোলা রেখে ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার কৌশল নিচ্ছেন।

Trump Says U.S. Military Campaign in Iran to Wind Down and Plans National  Address - The New York Times

ইরানের পাল্টা অবস্থান

ইরানও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। দেশটির নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এই সংঘাতকে আদর্শিক ও ধর্মীয় লড়াই হিসেবেও তুলে ধরছে।

তেহরান দাবি করেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তারা নতুন সামরিক সক্ষমতা দেখাতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করছে, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।

বিশ্ববাজারে উদ্বেগ

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ববাজারেও প্রভাব ফেলছে। তেলের দাম ওঠানামা করছে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জি-সেভেন দেশগুলো হরমুজ প্রণালি দ্রুত স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘ হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিও বড় চাপের মুখে পড়বে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজার, খাদ্য সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ায় পরিস্থিতি যে কোনো সময় নতুন সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

কেন হরমুজ প্রণালি এতো গুরুত্বপূর্ণ?

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনা ভিসা নিয়ে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের

ট্রাম্পের ইরান হামলা স্থগিত, নতুন করে যুদ্ধ শঙ্কা ও কূটনৈতিক চাপ

১১:৫৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আবারও নতুন মোড় নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত করলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থির। একদিকে ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলছে, অন্যদিকে আবার প্রয়োজনে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার হুঁশিয়ারিও দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা থাকলেও যদি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র “সম্পূর্ণ প্রস্তুত” রয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলও নিজেদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় নিয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে সামরিক প্রস্তুতি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু , সে দেশের বাহিনী গাজা  ভূখণ্ডে হামাসের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলন চালানোর কথা স্বীকার করে ...

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। দেশটির সামরিক বাহিনী সম্ভাব্য নতুন হামলার প্রস্তুতি জোরদার করেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মনে করছেন, যদি তেহরান নতুন কোনো গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব না দেয়, তাহলে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। যুদ্ধজাহাজ, হেলিকপ্টার ও নৌ অবরোধের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানি বন্দরগুলো কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বহু বাণিজ্যিক জাহাজকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ট্রাম্পের কৌশল ও কূটনৈতিক বার্তা

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে চান এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবেন না। তাঁর ভাষায়, “আমরা চাই শান্তিপূর্ণ সমাধান, কিন্তু প্রয়োজন হলে আবারও আঘাত হানতে প্রস্তুত আছি।”

তিনি আরও দাবি করেন, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ তাঁকে হামলা বিলম্বিত করার অনুরোধ জানিয়েছে, কারণ তাদের বিশ্বাস আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প একদিকে সামরিক চাপ ধরে রেখে অন্যদিকে আলোচনার পথ খোলা রেখে ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার কৌশল নিচ্ছেন।

Trump Says U.S. Military Campaign in Iran to Wind Down and Plans National  Address - The New York Times

ইরানের পাল্টা অবস্থান

ইরানও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। দেশটির নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এই সংঘাতকে আদর্শিক ও ধর্মীয় লড়াই হিসেবেও তুলে ধরছে।

তেহরান দাবি করেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তারা নতুন সামরিক সক্ষমতা দেখাতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করছে, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।

বিশ্ববাজারে উদ্বেগ

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ববাজারেও প্রভাব ফেলছে। তেলের দাম ওঠানামা করছে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জি-সেভেন দেশগুলো হরমুজ প্রণালি দ্রুত স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘ হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিও বড় চাপের মুখে পড়বে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজার, খাদ্য সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ায় পরিস্থিতি যে কোনো সময় নতুন সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

কেন হরমুজ প্রণালি এতো গুরুত্বপূর্ণ?