০৪:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
এআই অবকাঠামো নিয়ে জনরোষ: প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নয়, নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ জাপানি কোম্পানির বিরল খনিজ আমদানি ব্যয় ২২% বেড়েছে, চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে চাপ এআই একচেটিয়া হতে পারে না, বিশ্বজুড়ে সহযোগিতার আহ্বান শি জিনপিংয়ের এফবিআইর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার গ্যাং সদস্য নিতিশ কৌশল যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রায় ১৯% কমেছে, দামে ও পরিমাণে একসঙ্গে ধাক্কা বিশ্বকাপের শেষ বাঁশির পর: ফুটবল যে আয়নায় আমেরিকা ও বিশ্বের ভবিষ্যৎ দেখা গেল প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষত ও অনশনের আর্তনাদ: আমরা কবে শুনব ক্ষুধার ভাষা? শুধু শ্রদ্ধা নয়, শহীদ সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রের প্রকৃত দায়িত্ব এখনই পালন করতে হবে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতফসিলে বিশেষ সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফের সতর্কবার্তা: প্রবৃদ্ধি ৩.৫%, মধ্যমেয়াদে ৩ শতাংশের নিচে নামার শঙ্কা

ইরানকে আবার হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, শান্তি চুক্তিতে ক্ষতিপূরণ চায় তেহরান

ইরানকে আবারও সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, তেহরান এখন একটি সমঝোতা চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলেন নতুন হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার। তবে শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। তার দাবি, যদি দ্রুত কোনও সমঝোতা না হয়, তাহলে কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও হামলা হতে পারে।

পরমাণু ইস্যুতে কঠোর অবস্থান

ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানকে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তার মতে, উভয় পক্ষই আর নতুন করে যুদ্ধ চায় না।

Trump says he held off on new Iran attack

তবে আলোচনায় জটিলতাও রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, ইরানের পক্ষ থেকে বারবার অবস্থান বদলানো হচ্ছে। অন্যদিকে তেহরানও বলছে, ওয়াশিংটন নিজেদের শর্ত পরিবর্তন করছে। ফলে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো এখনও কঠিন হয়ে আছে।

শান্তি প্রস্তাবে কী চাইছে ইরান

ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাবে কয়েকটি বড় দাবি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধ, ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। এছাড়া বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

ইরানের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে হামলা হলে তার জবাবও কঠোর হবে। দেশটির পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিটির প্রধান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছে যে হামলা করলে শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।

Middle East: USA, Iran and USA

যুদ্ধবিরতি টিকে থাকলেও বাড়ছে উত্তেজনা

গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বিভিন্ন জায়গায় এখনও উত্তেজনা চলছে।

সম্প্রতি উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের দিকে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। একই সময়ে ভারত মহাসাগরে ইরান-সংযুক্ত একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—এই তিন ইস্যু ঘিরেই এখন মূল সংঘাত আবর্তিত হচ্ছে। আর কোনও সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ দিকে যেতে পারে।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই অবকাঠামো নিয়ে জনরোষ: প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নয়, নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ

ইরানকে আবার হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, শান্তি চুক্তিতে ক্ষতিপূরণ চায় তেহরান

১০:৫৯:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ইরানকে আবারও সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, তেহরান এখন একটি সমঝোতা চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলেন নতুন হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার। তবে শেষ মুহূর্তে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। তার দাবি, যদি দ্রুত কোনও সমঝোতা না হয়, তাহলে কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও হামলা হতে পারে।

পরমাণু ইস্যুতে কঠোর অবস্থান

ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানকে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তার মতে, উভয় পক্ষই আর নতুন করে যুদ্ধ চায় না।

Trump says he held off on new Iran attack

তবে আলোচনায় জটিলতাও রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, ইরানের পক্ষ থেকে বারবার অবস্থান বদলানো হচ্ছে। অন্যদিকে তেহরানও বলছে, ওয়াশিংটন নিজেদের শর্ত পরিবর্তন করছে। ফলে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো এখনও কঠিন হয়ে আছে।

শান্তি প্রস্তাবে কী চাইছে ইরান

ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাবে কয়েকটি বড় দাবি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধ, ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। এছাড়া বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

ইরানের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে হামলা হলে তার জবাবও কঠোর হবে। দেশটির পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিটির প্রধান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছে যে হামলা করলে শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।

Middle East: USA, Iran and USA

যুদ্ধবিরতি টিকে থাকলেও বাড়ছে উত্তেজনা

গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বিভিন্ন জায়গায় এখনও উত্তেজনা চলছে।

সম্প্রতি উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের দিকে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। একই সময়ে ভারত মহাসাগরে ইরান-সংযুক্ত একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—এই তিন ইস্যু ঘিরেই এখন মূল সংঘাত আবর্তিত হচ্ছে। আর কোনও সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ দিকে যেতে পারে।