১২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি নীতির দাবি এফআইসিসিআইর বাংলাদেশে অনলাইন সহিংসতার শিকার ৬৩ শতাংশ নারী, বাড়ছে সাইবার হয়রানির ঝুঁকি আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াতে ঢাকায় প্রথমবারের মতো আর্থিক হিসাব ও প্রতিবেদন সম্মেলন আশুলিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার লাস ভেগাসে বন্ধ হচ্ছে বিতর্কিত ‘হার্ট অ্যাটাক গ্রিল’, বাড়তি খরচ আর শহরের পরিবর্তনকে দায় চট্টগ্রাম উপকূলে জাহাজে ছুরিকাঘাতে থাই নাগরিক নিহত মেগান রাপিনোকে ঘিরে ক্ষোভ, বিশ্বকাপের বিলাসবহুল টিকিট প্রচারে সমর্থকদের তোপ ট্রাম্পের ইরান হামলা স্থগিত, নতুন করে যুদ্ধ শঙ্কা ও কূটনৈতিক চাপ জাপানের বনসৃজনের ভুলে আজ জাতীয় স্বাস্থ্য সংকট, অ্যালার্জিতে ভুগছে কোটি মানুষ এপস্টেইন নথি প্রকাশের পর ব্রিটেনে নতুন তদন্ত, পুরোনো শিশু নির্যাতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ

চীনে গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউরোপে নতুন উদ্বেগ, ইউক্রেন যুদ্ধে ফিরছে রুশ সেনা

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ইউরোপে। ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, গত বছরের শেষ দিকে চীনে গোপনে প্রশিক্ষণ নিয়েছে প্রায় ২০০ রুশ সেনা সদস্য। তাদের একটি অংশ ইতোমধ্যেই ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে গেছে।

গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে এই তথ্য সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ যুদ্ধের শুরু থেকেই চীন নিজেকে নিরপেক্ষ অবস্থানে দেখানোর চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে তারা শান্তি আলোচনার পক্ষেও অবস্থান নেওয়ার কথা বলে আসছে। কিন্তু এবার প্রকাশিত তথ্য সেই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

ড্রোন যুদ্ধের ওপর বিশেষ জোর

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের বড় অংশ ছিল ড্রোন পরিচালনা, ড্রোন হামলা এবং ড্রোন প্রতিরোধ কৌশল নিয়ে। ইউক্রেন যুদ্ধে বর্তমানে ড্রোন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে। দূরপাল্লার হামলা থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্রে ছোট আকারের বিস্ফোরকবাহী ড্রোন এখন দুই পক্ষই নিয়মিত ব্যবহার করছে।

এআই থেকে স্টারলিংক: ড্রোন যেভাবে বদলে দিচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ

চীনের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় এই প্রশিক্ষণ হয় বলে জানা গেছে। বেইজিং, নানজিংসহ কয়েকটি শহরে রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কিছু চীনা সেনাকেও রাশিয়ায় প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরেছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনা

ইউরোপীয় গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, চীনে প্রশিক্ষণ নেওয়া কয়েকজন রুশ সেনা ইতোমধ্যে ইউক্রেনের অধিকৃত ক্রিমিয়া ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে ড্রোন-সংক্রান্ত যুদ্ধ অভিযানে অংশ নিয়েছে।

তাদের মধ্যে জুনিয়র সার্জেন্ট থেকে শুরু করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাও রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তারা পরবর্তীতে নিজেদের ইউনিটে নতুন কৌশল ছড়িয়ে দিতে পারবেন। এতে রুশ বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়তে পারে।

সামরিক সহযোগিতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

Europe 'ready to deploy' troops to Ukraine if ceasefire secured, says  Healey - BBC News

রাশিয়া ও চীন ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগেই নিজেদের ‘সীমাহীন অংশীদারত্ব’-এর ঘোষণা দিয়েছিল। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক মহড়া ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও বেড়েছে।

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, চীন সরাসরি অস্ত্র না দিলেও বিভিন্নভাবে রাশিয়াকে সহায়তা করছে। বিশেষ করে জ্বালানি কেনা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং ড্রোন শিল্পে সহযোগিতার বিষয়গুলো নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি চীনে সরাসরি রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি পুরোপুরি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা ইউক্রেন যুদ্ধে চীনের সম্পৃক্ততার নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হবে।

চীনের অবস্থান

চীন অবশ্য আগের মতোই নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বলছে। বেইজিংয়ের দাবি, তারা সবসময় শান্তি আলোচনা এবং সংঘাত নিরসনের পক্ষে কাজ করেছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর একটি অংশ মনে করছে, বাস্তবে রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে।

এদিকে খুব শিগগিরই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই বৈঠককে ঘিরেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাড়তি নজর তৈরি হয়েছে।

ছয় দেশের জন্য ভিসা-ফ্রি প্রবেশ সুবিধা দিচ্ছে চীন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি নীতির দাবি এফআইসিসিআইর

চীনে গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউরোপে নতুন উদ্বেগ, ইউক্রেন যুদ্ধে ফিরছে রুশ সেনা

১১:১৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ইউরোপে। ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, গত বছরের শেষ দিকে চীনে গোপনে প্রশিক্ষণ নিয়েছে প্রায় ২০০ রুশ সেনা সদস্য। তাদের একটি অংশ ইতোমধ্যেই ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে গেছে।

গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে এই তথ্য সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ যুদ্ধের শুরু থেকেই চীন নিজেকে নিরপেক্ষ অবস্থানে দেখানোর চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে তারা শান্তি আলোচনার পক্ষেও অবস্থান নেওয়ার কথা বলে আসছে। কিন্তু এবার প্রকাশিত তথ্য সেই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

ড্রোন যুদ্ধের ওপর বিশেষ জোর

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের বড় অংশ ছিল ড্রোন পরিচালনা, ড্রোন হামলা এবং ড্রোন প্রতিরোধ কৌশল নিয়ে। ইউক্রেন যুদ্ধে বর্তমানে ড্রোন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে। দূরপাল্লার হামলা থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্রে ছোট আকারের বিস্ফোরকবাহী ড্রোন এখন দুই পক্ষই নিয়মিত ব্যবহার করছে।

এআই থেকে স্টারলিংক: ড্রোন যেভাবে বদলে দিচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ

চীনের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় এই প্রশিক্ষণ হয় বলে জানা গেছে। বেইজিং, নানজিংসহ কয়েকটি শহরে রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কিছু চীনা সেনাকেও রাশিয়ায় প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরেছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনা

ইউরোপীয় গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, চীনে প্রশিক্ষণ নেওয়া কয়েকজন রুশ সেনা ইতোমধ্যে ইউক্রেনের অধিকৃত ক্রিমিয়া ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে ড্রোন-সংক্রান্ত যুদ্ধ অভিযানে অংশ নিয়েছে।

তাদের মধ্যে জুনিয়র সার্জেন্ট থেকে শুরু করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাও রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তারা পরবর্তীতে নিজেদের ইউনিটে নতুন কৌশল ছড়িয়ে দিতে পারবেন। এতে রুশ বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়তে পারে।

সামরিক সহযোগিতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

Europe 'ready to deploy' troops to Ukraine if ceasefire secured, says  Healey - BBC News

রাশিয়া ও চীন ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগেই নিজেদের ‘সীমাহীন অংশীদারত্ব’-এর ঘোষণা দিয়েছিল। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক মহড়া ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও বেড়েছে।

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, চীন সরাসরি অস্ত্র না দিলেও বিভিন্নভাবে রাশিয়াকে সহায়তা করছে। বিশেষ করে জ্বালানি কেনা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং ড্রোন শিল্পে সহযোগিতার বিষয়গুলো নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি চীনে সরাসরি রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি পুরোপুরি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা ইউক্রেন যুদ্ধে চীনের সম্পৃক্ততার নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হবে।

চীনের অবস্থান

চীন অবশ্য আগের মতোই নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বলছে। বেইজিংয়ের দাবি, তারা সবসময় শান্তি আলোচনা এবং সংঘাত নিরসনের পক্ষে কাজ করেছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর একটি অংশ মনে করছে, বাস্তবে রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে।

এদিকে খুব শিগগিরই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই বৈঠককে ঘিরেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাড়তি নজর তৈরি হয়েছে।

ছয় দেশের জন্য ভিসা-ফ্রি প্রবেশ সুবিধা দিচ্ছে চীন