বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের ঢেউ এবার বড় ধাক্কা দিল আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং খাতেও। বহুজাতিক ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড আগামী কয়েক বছরে সাত হাজারের বেশি চাকরি কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটি আরও বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে যাচ্ছে।
ব্যাংকটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে করপোরেট বিভাগের প্রায় ১৫ শতাংশ পদ কমিয়ে আনা হবে। এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে খরচ কমানো, কার্যক্রম দ্রুত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাড়ানো।
প্রযুক্তির কারণে বদলে যাচ্ছে ব্যাংকিং খাত
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের প্রধান নির্বাহী বিল উইন্টার্স বলেছেন, এটি শুধুমাত্র খরচ কমানোর উদ্যোগ নয়। বরং কম মূল্য সংযোজনকারী কাজগুলো প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, যেসব কর্মী নতুন দক্ষতা অর্জন করতে চান, তাদের পুনঃপ্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। ফলে সবাইকে সরাসরি চাকরি হারাতে হবে না। তবে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার কারণে অনেক পদ অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে।
বিশ্বজুড়ে প্রভাব পড়তে পারে
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ৮২ হাজার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ব্যাংকের ব্যাক অফিস কার্যক্রমে। বিশেষ করে ভারত, মালয়েশিয়া ও ইউরোপের কিছু অফিসে কর্মী কমানোর সম্ভাবনা বেশি।
বিশ্বের বিভিন্ন বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানও একই পথে হাঁটছে। প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়িয়ে কাজের গতি বাড়ানো এবং খরচ কমানো এখন ব্যাংকগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।

মুনাফা বাড়ানোর নতুন লক্ষ্য
ব্যাংকটি আগামী বছরগুলোতে মুনাফা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে। ২০২৮ সালের মধ্যে আয়ের হার ১৫ শতাংশের ওপরে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ধনী গ্রাহক ও বিনিয়োগভিত্তিক সেবার ওপর জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকলেও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড প্রযুক্তিনির্ভর কৌশলের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে।
ব্যাংকিং খাতে এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে চাকরির ধরনেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যত বিস্তৃত হবে, ততই প্রচলিত অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার অধীনে চলে যেতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















