০১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
রাশিয়াজুড়ে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত আট; লক্ষ্যবস্তু বড় গুদাম ও সামরিক স্থাপনা ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের শতাধিক ব্যাংক হিসাব বন্ধে মানি লন্ডারিং পর্যালোচনার দাবি ক্যাপিটাল ওয়ানের গ্রিসে দাবানল নেভাতে গিয়ে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে নিহত ২, ইউরোপজুড়ে তাপদাহে বাড়ছে দুর্যোগ ভারত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর বাজারের বিকল্প নিরাপদ গন্তব্য হয়ে উঠছে? অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুতে সামুদ্রিক পাখির গণমৃত্যু, সতর্কতা জারি চীনের অর্থনৈতিক নীতিতে ‘লাল দাগ’, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার আগে কঠোর বার্তা দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণদের নতুন গন্তব্য জাপান, দেশে চাকরির সংকটে বাড়ছে বিদেশমুখিতা অং সান সু চির সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কর্মকর্তার সাক্ষাৎ, অভ্যুত্থানের পর প্রথম প্রকাশ্য বিদেশি যোগাযোগ চট্টগ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমছে শিক্ষার্থী, সংকটে শত শত স্কুল যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে চাকরি করতে লাগতে পারে ১ লাখ ডলার! ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাব ঘিরে উদ্বেগ

কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা আতঙ্ক, দ্রুত ছড়াচ্ছে সংক্রমণ

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাস নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয়দের ভাষায়, আক্রান্তরা খুব দ্রুত মারা যাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে।

এ পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ১৩৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৫ শতাধিক ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী উগান্ডাতেও একজনের মৃত্যু হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে সীমান্ত পেরিয়ে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই পরিষ্কার হচ্ছে যে ভাইরাসটি শুধু একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। ইতোমধ্যে কঙ্গোর আরও কয়েকটি অঞ্চলে সংক্রমণের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও ঝুঁকি বাড়ছে।

Congo Ebola

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। কিছু গবেষণায় আশঙ্কা করা হয়েছে, বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

স্থানীয়দের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা

ইতুরি অঞ্চলের বাসিন্দারা বলছেন, তারা নিজেদের মতো করে সতর্ক থাকার চেষ্টা করছেন। অনেকে নিয়মিত হাত ধুচ্ছেন, পরিষ্কার পানি ব্যবহার করছেন। তবে পর্যাপ্ত মাস্ক ও সুরক্ষা সামগ্রীর অভাবে মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে কী করতে হবে তা অনেকেই জানেন না। ফলে আতঙ্কের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তিও।

স্বাস্থ্যব্যবস্থা চাপে

দীর্ঘদিনের সংঘাত, দারিদ্র্য ও বাস্তুচ্যুত মানুষের চাপের কারণে কঙ্গোর স্বাস্থ্যব্যবস্থা আগে থেকেই দুর্বল। অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিক ক্ষতিগ্রস্ত বা অচল অবস্থায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন এই ইবোলা সংকট মোকাবিলা কঠিন হয়ে উঠছে।

Congo Ebola: The Deadly Cost of African Aid Retreat - Bloomberg

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। সংক্রমণ ঠেকাতে ওষুধ, সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও বড় পরিসরের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেন এত ভয়ংকর ইবোলা

ইবোলা ভাইরাস প্রথমে জ্বর, মাথাব্যথা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ তৈরি করে। পরে বমি, ডায়রিয়া ও অঙ্গ বিকল হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে শরীরের ভেতর ও বাইরে রক্তক্ষরণও হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা শরীরের তরলের সংস্পর্শে এলে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবে যে ধরনটি ছড়াচ্ছে, সেটির জন্য এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা নেই। এ কারণেই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়াজুড়ে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত আট; লক্ষ্যবস্তু বড় গুদাম ও সামরিক স্থাপনা

কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা আতঙ্ক, দ্রুত ছড়াচ্ছে সংক্রমণ

১১:৩৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাস নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয়দের ভাষায়, আক্রান্তরা খুব দ্রুত মারা যাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে।

এ পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ১৩৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৫ শতাধিক ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী উগান্ডাতেও একজনের মৃত্যু হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে সীমান্ত পেরিয়ে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই পরিষ্কার হচ্ছে যে ভাইরাসটি শুধু একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। ইতোমধ্যে কঙ্গোর আরও কয়েকটি অঞ্চলে সংক্রমণের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও ঝুঁকি বাড়ছে।

Congo Ebola

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। কিছু গবেষণায় আশঙ্কা করা হয়েছে, বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

স্থানীয়দের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা

ইতুরি অঞ্চলের বাসিন্দারা বলছেন, তারা নিজেদের মতো করে সতর্ক থাকার চেষ্টা করছেন। অনেকে নিয়মিত হাত ধুচ্ছেন, পরিষ্কার পানি ব্যবহার করছেন। তবে পর্যাপ্ত মাস্ক ও সুরক্ষা সামগ্রীর অভাবে মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে কী করতে হবে তা অনেকেই জানেন না। ফলে আতঙ্কের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তিও।

স্বাস্থ্যব্যবস্থা চাপে

দীর্ঘদিনের সংঘাত, দারিদ্র্য ও বাস্তুচ্যুত মানুষের চাপের কারণে কঙ্গোর স্বাস্থ্যব্যবস্থা আগে থেকেই দুর্বল। অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিক ক্ষতিগ্রস্ত বা অচল অবস্থায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন এই ইবোলা সংকট মোকাবিলা কঠিন হয়ে উঠছে।

Congo Ebola: The Deadly Cost of African Aid Retreat - Bloomberg

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। সংক্রমণ ঠেকাতে ওষুধ, সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও বড় পরিসরের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেন এত ভয়ংকর ইবোলা

ইবোলা ভাইরাস প্রথমে জ্বর, মাথাব্যথা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ তৈরি করে। পরে বমি, ডায়রিয়া ও অঙ্গ বিকল হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে শরীরের ভেতর ও বাইরে রক্তক্ষরণও হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা শরীরের তরলের সংস্পর্শে এলে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবে যে ধরনটি ছড়াচ্ছে, সেটির জন্য এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা নেই। এ কারণেই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।