যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর একটি মসজিদে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় নিহত নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহকে এখন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় ও পুলিশ ‘নায়ক’ হিসেবে দেখছে। পুলিশের দাবি, তার দ্রুত পদক্ষেপ ও সাহসিকতার কারণেই আরও বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এই হামলায় আমিন আবদুল্লাহসহ মোট তিনজন নিহত হন। নিহত অন্য দুজন হলেন মনসুর কাজিহা ও নাদের আওয়াদ। হামলাকারী ছিল দুই কিশোর, যারা পরে নিজেরাই আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আট সন্তানের বাবা ছিলেন আমিন
স্থানীয় মুসলিম সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন আট সন্তানের বাবা। তিনি মসজিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন এবং হামলার সময় সামনের প্রবেশপথে অবস্থান করছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মসজিদের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে আমিন তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় গোলাগুলি শুরু হয়। তিনি পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং একই সঙ্গে জরুরি লকডাউন ব্যবস্থা চালু করেন।
শতাধিক শিশুর প্রাণ রক্ষা
মসজিদটির সঙ্গে একটি শিক্ষাকেন্দ্রও ছিল, যেখানে হামলার সময় প্রায় ১৪০ শিশু উপস্থিত ছিল। পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল বলেন, আমিন আবদুল্লাহর দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সাহসিকতার কারণেই ওই শিশুদের নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা মসজিদের ভেতরে ঢুকে পড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। কিন্তু নিরাপত্তাকর্মীর প্রতিরোধে তারা দিক পরিবর্তন করে বাইরে চলে যায়।
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিরোধ

পুলিশ জানায়, পরে পার্কিং এলাকায় মনসুর কাজিহা ও নাদের আওয়াদ হামলাকারীদের দৃষ্টি নিজেদের দিকে টেনে নেন। এতে আরও অনেকে পালানোর সুযোগ পায়। তবে শেষ পর্যন্ত তারা দুজনই গুলিতে নিহত হন।
স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় বলছে, এই তিনজনের আত্মত্যাগ বহু মানুষকে বাঁচিয়েছে। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বেড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং হামলার পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















