যুক্তরাজ্যের আসন্ন মেকারফিল্ড উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। লেবার পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আগামী জুনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, বরং ব্রিটিশ রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণের বড় পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বার্নহ্যাম এবার জাতীয় রাজনীতিতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি জয়ী হলে লেবার পার্টির নেতৃত্বেও বড় ধরনের পরিবর্তনের আলোচনা আরও জোরালো হবে।
নতুন লড়াইয়ের কেন্দ্রে মেকারফিল্ড
মেকারফিল্ড আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই লেবারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে এবার সেখানে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে চাইছে রিফর্ম ইউকে। দলটি তাদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে স্থানীয় প্লাম্বার ও সেনা রিজার্ভ সদস্য রবার্ট কেনিয়নকে।
রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ এই নির্বাচনকে “ডেভিড বনাম গোলিয়াথের লড়াই” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কেনিয়ন পেশাদার রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন।
কেনিয়নও সরাসরি বার্নহ্যামের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন। তার অভিযোগ, বার্নহ্যামের জন্য মেকারফিল্ড শুধু ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা ছাড়া অনেক রাজনীতিক কেবল রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়তেই নির্বাচনে অংশ নেন।
বার্নহ্যামের বার্তা
প্রার্থী ঘোষণার পর বার্নহ্যাম বলেছেন, নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। তিনি অবহেলিত অঞ্চলগুলোর সমস্যা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তার ভাষায়, দেশের বহু এলাকা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় মনোযোগ থেকে বঞ্চিত। মেকারফিল্ডের মানুষের কণ্ঠস্বর সংসদে আরও শক্তভাবে তুলে ধরাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘিরে বিতর্ক
প্রার্থী ঘোষণার পরপরই রবার্ট কেনিয়নের পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিছু পোস্টে তাকে টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা গেছে। এছাড়া ডানপন্থী ইউরোপীয় কিছু ব্যক্তির পোস্টেও তিনি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।
এ নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। যদিও রিফর্ম ইউকে এখনো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।

লেবারের ভেতরে চাপ বাড়ছে
এদিকে লেবার পার্টির ভেতরেও নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা।
ওয়েলসের সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার মার্ক ড্রেকফোর্ড প্রকাশ্যে বলেছেন, এখন নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় এসেছে। তার মতে, স্টারমার কঠোর পরিশ্রম করলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
তবে স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি এখনো পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত দলকে নেতৃত্ব দিতে চান।
উপনির্বাচনে বাড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
লেবার ও রিফর্ম ইউকের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ডানপন্থী নতুন দল রিস্টোর ব্রিটেন স্থানীয় ব্যবসায়ী রেবেকা শেফার্ডকে প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে গ্রিন পার্টিও প্রার্থী ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সব মিলিয়ে মেকারফিল্ড উপনির্বাচন এখন যুক্তরাজ্যের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















