জাপানের বিখ্যাত ফুজি পর্বতে আরোহণ মৌসুম শুরু হওয়ার আগে নতুন করে নিরাপত্তা ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে শিজুওকা প্রশাসন। বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা ধরে রাখা, দুর্ঘটনা কমানো এবং পর্যটকদের জন্য আরোহণকে আরও নিরাপদ করতে এবারও কঠোর নিয়ম চালু রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশু ও পরিবারের জন্য প্রবেশ ফি কমানো বা মওকুফের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
আগামী জুলাই থেকে ফুজি পর্বত আবারও পর্বতারোহীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। গত বছরের মতো এবারও শীর্ষে ওঠার সব পথের জন্য আগাম সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিজুওকা ও ইয়ামানাশি প্রশাসন যৌথভাবে এই নিয়ম চালু রেখেছে।
নিরাপত্তা বাড়াতে কঠোর নিয়ম
শিজুওকার গভর্নর ইয়াসুতোমো সুজুকি জানিয়েছেন, ফুজি পর্বতের পরিবেশ রক্ষা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরোহণে নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে। গত বছর থেকে সরকারি অ্যাপের মাধ্যমে আগাম নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
প্রত্যেক পর্বতারোহীকে ৪ হাজার ইয়েন প্রবেশ ফি দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড়ে ওঠার নিয়ম সম্পর্কে ধারণা নেওয়াও বাধ্যতামূলক। বিকেল ২টা থেকে ভোর ৩টার মধ্যে পাহাড়ে উঠতে চাইলে অবশ্যই পাহাড়ি কুটিরে থাকার জন্য বুকিং করতে হবে।
এই ব্যবস্থার ফলে রাতভর বিরতিহীনভাবে ওঠার ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ মৌসুমে শিজুওকা অংশে আটকে পড়া মানুষের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২৮ জন কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬-এ। একই সময়ে মৃত্যু ও নিখোঁজের ঘটনাও শূন্যে নেমে এসেছে।
পরিবার ও শিশু পর্যটক কমছে
কঠোর নিয়মের ইতিবাচক দিক থাকলেও কিছু সমস্যাও সামনে এসেছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারীর সংখ্যা কমে গেছে। চার সদস্যের একটি পরিবারকে শুধু প্রবেশ ফিতেই দিতে হচ্ছে ১৬ হাজার ইয়েন।
অনেক পাহাড়ি কুটিরে গত মৌসুমে পরিবারভিত্তিক বুকিং ছিল মাত্র এক বা দুটি। এ কারণে এবার পর্বতারোহীদের বয়সভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন। ভবিষ্যতে শিশুদের জন্য ফি কমানো বা পুরোপুরি মওকুফের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করতে তরুণ ও পরিবারের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।

পথ খোলার সময়েও পরিবর্তন
ফুজি পর্বতের বিভিন্ন পথ সাধারণত ভিন্ন সময়ে খোলা হয়। তবে এবার প্রথমবারের মতো শিজুওকা প্রশাসন সুবাশিরি পথ ১ জুলাই থেকেই খুলে দিচ্ছে, যা ইয়ামানাশির সময়সূচির সঙ্গে মিলছে। অন্য দুটি পথ খুলবে ১০ জুলাই।
সুবাশিরি পথ শীর্ষের কাছে ইয়োশিদা পথের সঙ্গে মিলিত হয়। এই পরিবর্তনের ফলে ইয়োশিদা পথে অতিরিক্ত ভিড় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্বতারোহী এই পথ ব্যবহার করেন।
এছাড়া বন্ধ থাকা অবস্থায় অন্য পথ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্রবেশ ঠেকাতেও এই সিদ্ধান্ত সহায়ক হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
টেকসই পর্যটনের নতুন ভাবনা
স্থানীয় পাহাড়ি কুটির পরিচালকেরা বলছেন, একই সময়ে পথ খোলার কারণে খারাপ আবহাওয়ায় আটকে পড়া পর্যটকদের আশ্রয় দেওয়াও সহজ হবে।
পর্যটননীতি বিশেষজ্ঞ রিও নিশিকাওয়া মনে করেন, ফুজি পর্বতকে দীর্ঘমেয়াদে আকর্ষণীয় রাখতে নতুন প্রজন্ম ও নিয়মিত ভ্রমণকারীদের জন্য সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের জন্য খরচ কমানো বাস্তবসম্মত উদ্যোগ হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















