বিরল খনিজ রপ্তানিতে আরোপ করা নিয়ন্ত্রণকে বৈধ ও আইনসম্মত বলে দাবি করেছে চীন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের “যৌক্তিক উদ্বেগ” নিয়ে সহযোগিতার কথাও জানিয়েছে বেইজিং। দুই দেশের চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই এই বার্তা দিল চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
২০২৫ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ ও খনিজজাত পণ্যের রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব এখনো আন্তর্জাতিক বাজারে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে এসব খনিজের সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশই একে অপরের “যৌক্তিক ও আইনসম্মত উদ্বেগ” নিয়ে আলোচনা করেছে। ভবিষ্যতে এসব বিষয় নিয়ে সমাধানের পথ খোঁজা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

চীনের দাবি, বিরল খনিজ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক নিয়ম ও নিজস্ব আইনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। বেসামরিক ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত আবেদনগুলো যাচাই করে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।
বিরল খনিজ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে বিরল খনিজের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে ইট্রিয়াম ও স্ক্যান্ডিয়ামের মতো খনিজ বিমান ইঞ্জিনের টারবাইন ব্লেডকে অতিরিক্ত তাপ থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যবহৃত হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আধুনিক সামরিক সরঞ্জামেও এসব উপাদানের চাহিদা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব খনিজের সরবরাহ সীমিত হওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পখাতও ইতোমধ্যে এর প্রভাব অনুভব করছে।
রপ্তানি কমে যাওয়ার ইঙ্গিত

চীনের প্রকাশিত সর্বশেষ শুল্ক তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ইট্রিয়াম অক্সাইড রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১০ মেট্রিক টন। মার্চে এই পরিমাণ ছিল ৬০ টন। নিয়ন্ত্রণ আরোপের আগে গত ১৩ মাসে মাসিক গড় রপ্তানি ছিল প্রায় ৩০ টন।
এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হওয়ার পর সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নতুন বাস্তবতায় ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্ক
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র এখন চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তুলে নেওয়ার বদলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পথ খুঁজছে। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি নতুন এক বাস্তবতা তৈরি করেছে।
বিশ্ববাজারে বিরল খনিজের গুরুত্ব বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে এই ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















