কর্মব্যস্ত জীবন, পারিবারিক চাপ আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে অনেক মানুষ এখন মানসিক শান্তির খোঁজে ঝুঁকছেন জাজেন ধ্যানের দিকে। বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও বয়স্কদের মধ্যে এই ধ্যানচর্চা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নিয়মিত জাজেন অনুশীলনের মাধ্যমে তারা নিজেদের মনকে শান্ত রাখা এবং জীবনের চাপ সামলানোর নতুন পথ খুঁজে পাচ্ছেন।
টোকিওর একটি বৌদ্ধ মন্দিরে প্রতি সপ্তাহে ভোরবেলায় বসে জাজেন ধ্যানের আসর। মৃদু আলোয় নীরব পরিবেশে অংশগ্রহণকারীরা মেঝেতে বসে ধীরে ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করেন। ধ্যানের শুরুতেই সবাইকে শরীর, শ্বাস এবং মনকে স্থির রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। ধ্যানের পুরো সময়জুড়ে থাকে নিস্তব্ধতা, কেবল বাইরে পাখির ডাক শোনা যায়।
নিয়মিত ধ্যানে বদলে যাচ্ছে জীবন
এই ধ্যানচর্চায় অংশ নেওয়া অনেকেই বলছেন, নিয়মিত জাজেন তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। এক অংশগ্রহণকারী জানান, প্রতি সপ্তাহের ধ্যান তার জন্য নতুন করে শুরু করার সুযোগ তৈরি করে। পুরো সপ্তাহের ক্লান্তি আর মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলে তিনি আবার নতুন উদ্যমে কাজে ফিরতে পারেন।
আরেক নারী অংশগ্রহণকারী বলেন, কাজের চাপ বা সন্তানদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে তিনি ধ্যানের সময় শেখা শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের কৌশল কাজে লাগান। এতে রাগ বা উত্তেজনার মুহূর্তেও নিজেকে শান্ত রাখা সহজ হয়।
অনলাইনে বাড়ছে অংশগ্রহণ
শুধু মন্দিরে নয়, এখন অনলাইনেও জাজেন সেশন সম্প্রচার করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ ঘরে বসেই অংশ নিতে পারছেন। ধ্যানচর্চার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা মনে করছেন, আধুনিক জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও মানুষ এখন নিজের জন্য কিছু শান্ত সময় বের করতে চাইছেন।

ধ্যান মানেই শুধু চোখ বন্ধ করে বসে থাকা নয়
জাজেনের সঙ্গে দৈনন্দিন কাজের সম্পর্কও তুলে ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ধ্যানের সময় নয়, প্রতিদিনের সাধারণ কাজেও মনোযোগ ধরে রাখা জরুরি। দাঁত ব্রাশ করা, রান্না করা বা ঘর পরিষ্কার করার মতো ছোট ছোট কাজেও পুরো মনোযোগ দিলে মানসিক স্থিরতা বাড়ে। এতে কাজের দক্ষতা যেমন বাড়ে, তেমনি জীবনের প্রতি ইতিবাচক অনুভূতিও তৈরি হয়।
জীবনের ব্যস্ততার মাঝে কিছু সময় নিজের জন্য আলাদা করে রাখা এখন অনেকের কাছে মানসিক স্বস্তির বড় উপায় হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণেই জাজেন ধ্যান ধীরে ধীরে নতুন প্রজন্মের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















