০৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
এসঅ্যান্ডপি’র সতর্কবার্তা: বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ আগুনে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, আহত আরও একজন ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও ২০২৮ সালে জেডি ভ্যান্সই কেন এগিয়ে, রুবিওর সম্ভাবনা কতটা যুদ্ধের ক্ষত পেরিয়ে ইরান: শোক, ক্ষোভ আর টিকে থাকার লড়াই ইবোলা ঠেকাতে সীমান্তে দড়ি, কঙ্গোর পাশের উগান্ডার শহরে নেই নতুন সংক্রমণ চার শিল্পীর ভিন্ন ভাবনায় নতুন আলোচনায় কোরিয়ার শিল্পজগৎ বিশ্বকাপের হারের পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ, বর্ণবাদ বিতর্কে নতুন প্রশ্ন দক্ষিণ কোরিয়ার বিচারমন্ত্রীর পদত্যাগের গুঞ্জন, স্বাস্থ্যগত কারণ জানালেন জং সুং-হো ২৪ ঘণ্টা একটানা উড়বে চীনের নতুন বেসামরিক ড্রোন, ৩ হাজার কিলোমিটার পাড়ি চীনে মিলল বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো অ্যাম্বার, বয়স প্রায় ৩৮ কোটি ৫০ লাখ বছর

ব্রিটিশ রিয়েলিটি শোতে ধর্ষণের অভিযোগ, সব পর্ব সরিয়ে তদন্তে চ্যানেল

ব্রিটেনের জনপ্রিয় রিয়েলিটি অনুষ্ঠান ‘ম্যারিড অ্যাট ফার্স্ট সাইট ইউকে’ ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানের তিন নারী অংশগ্রহণকারী ধর্ষণ ও অনিচ্ছাকৃত যৌন সম্পর্কের অভিযোগ তোলার পর সব পর্ব সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সম্প্রচারকারী চ্যানেল।

অভিযোগ সামনে আসার পর পুরো বিষয়টি নিয়ে স্বাধীন তদন্তও শুরু হয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

তদন্তে নতুন মোড়

জানা গেছে, অনুষ্ঠানের দুই নারী অভিযোগ করেছেন যে, তাদের অনস্ক্রিন স্বামীরা ধর্ষণ করেছেন। আরেক নারী দাবি করেছেন, তার সঙ্গে সম্মতি ছাড়া যৌন আচরণ করা হয়েছে।

এই অভিযোগ নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সম্প্রচার করা হয়, যেখানে অনুষ্ঠানের ভেতরের পরিবেশ ও অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।

Married At First Sight UK' Rape Claims "Serious" — Ex-Channel 4 CEO

‘ম্যারিড অ্যাট ফার্স্ট সাইট’ মূলত এমন একটি অনুষ্ঠান, যেখানে সম্পূর্ণ অচেনা দুই মানুষকে প্রতীকী বিয়ের মাধ্যমে একসঙ্গে বসবাস করতে দেখা যায়। পরে তাদের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ক্যামেরাবন্দি করা হয়। ডেনমার্ক থেকে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠান এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়।

অংশগ্রহণকারীর অভিজ্ঞতা

অভিযোগকারীদের মধ্যে একজন নিজের পরিচয় প্রকাশ করেছেন। তিনি ২০২৩ সালের আসরে অংশ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানের সময় তার সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় প্রযোজকরা তাকে ও তার সঙ্গীকে সরিয়ে দিয়েছিলেন।

নারী অধিকারকর্মীরাও ওই সম্পর্কের আচরণকে নিয়ন্ত্রণমূলক বলে মন্তব্য করেছেন। আরেক নারী অংশগ্রহণকারী প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সব পর্ব সরিয়ে নিল চ্যানেল

সম্প্রচারকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় একটি আইন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞকে দিয়ে স্বাধীন পর্যালোচনা শুরু করা হয়েছে।

Channel 4 boss 'deeply sorry' after Married At First Sight UK rape  allegations | ITV News

তদন্ত চলাকালে অনুষ্ঠানটির সব মৌসুম অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী প্রিয়া দোগরা বলেছেন, অভিযুক্ত অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

চ্যানেলের দাবি, অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষার জন্য তাদের ব্যবস্থাপনা শিল্পের অন্যতম শক্তিশালী কাঠামোর মধ্যে পড়ে। যখনই কোনো উদ্বেগের বিষয় সামনে এসেছে, তখনই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।

রিয়েলিটি শো নিয়ে নতুন বিতর্ক

এই ঘটনার পর ব্রিটেনে রিয়েলিটি শোগুলোর ভেতরের পরিবেশ, মানসিক চাপ এবং অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনপ্রিয়তা বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় অনেক সময় অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না।

বিশেষ করে সম্পর্কভিত্তিক অনুষ্ঠানগুলোতে ব্যক্তিগত সীমারেখা ও সম্মতির প্রশ্ন আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। ফলে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিয়েও চাপ বাড়ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এসঅ্যান্ডপি’র সতর্কবার্তা: বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’

ব্রিটিশ রিয়েলিটি শোতে ধর্ষণের অভিযোগ, সব পর্ব সরিয়ে তদন্তে চ্যানেল

১২:৪১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

ব্রিটেনের জনপ্রিয় রিয়েলিটি অনুষ্ঠান ‘ম্যারিড অ্যাট ফার্স্ট সাইট ইউকে’ ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানের তিন নারী অংশগ্রহণকারী ধর্ষণ ও অনিচ্ছাকৃত যৌন সম্পর্কের অভিযোগ তোলার পর সব পর্ব সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সম্প্রচারকারী চ্যানেল।

অভিযোগ সামনে আসার পর পুরো বিষয়টি নিয়ে স্বাধীন তদন্তও শুরু হয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

তদন্তে নতুন মোড়

জানা গেছে, অনুষ্ঠানের দুই নারী অভিযোগ করেছেন যে, তাদের অনস্ক্রিন স্বামীরা ধর্ষণ করেছেন। আরেক নারী দাবি করেছেন, তার সঙ্গে সম্মতি ছাড়া যৌন আচরণ করা হয়েছে।

এই অভিযোগ নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সম্প্রচার করা হয়, যেখানে অনুষ্ঠানের ভেতরের পরিবেশ ও অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।

Married At First Sight UK' Rape Claims "Serious" — Ex-Channel 4 CEO

‘ম্যারিড অ্যাট ফার্স্ট সাইট’ মূলত এমন একটি অনুষ্ঠান, যেখানে সম্পূর্ণ অচেনা দুই মানুষকে প্রতীকী বিয়ের মাধ্যমে একসঙ্গে বসবাস করতে দেখা যায়। পরে তাদের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ক্যামেরাবন্দি করা হয়। ডেনমার্ক থেকে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠান এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়।

অংশগ্রহণকারীর অভিজ্ঞতা

অভিযোগকারীদের মধ্যে একজন নিজের পরিচয় প্রকাশ করেছেন। তিনি ২০২৩ সালের আসরে অংশ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানের সময় তার সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় প্রযোজকরা তাকে ও তার সঙ্গীকে সরিয়ে দিয়েছিলেন।

নারী অধিকারকর্মীরাও ওই সম্পর্কের আচরণকে নিয়ন্ত্রণমূলক বলে মন্তব্য করেছেন। আরেক নারী অংশগ্রহণকারী প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সব পর্ব সরিয়ে নিল চ্যানেল

সম্প্রচারকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় একটি আইন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞকে দিয়ে স্বাধীন পর্যালোচনা শুরু করা হয়েছে।

Channel 4 boss 'deeply sorry' after Married At First Sight UK rape  allegations | ITV News

তদন্ত চলাকালে অনুষ্ঠানটির সব মৌসুম অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী প্রিয়া দোগরা বলেছেন, অভিযুক্ত অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

চ্যানেলের দাবি, অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষার জন্য তাদের ব্যবস্থাপনা শিল্পের অন্যতম শক্তিশালী কাঠামোর মধ্যে পড়ে। যখনই কোনো উদ্বেগের বিষয় সামনে এসেছে, তখনই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।

রিয়েলিটি শো নিয়ে নতুন বিতর্ক

এই ঘটনার পর ব্রিটেনে রিয়েলিটি শোগুলোর ভেতরের পরিবেশ, মানসিক চাপ এবং অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনপ্রিয়তা বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় অনেক সময় অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না।

বিশেষ করে সম্পর্কভিত্তিক অনুষ্ঠানগুলোতে ব্যক্তিগত সীমারেখা ও সম্মতির প্রশ্ন আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। ফলে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিয়েও চাপ বাড়ছে।