ইস্তাম্বুলের রাতে ইউরোপা লিগের ফাইনালে জার্মান ক্লাব ফ্রাইবুর্গকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ৪৪ বছরের ইউরোপীয় শিরোপাখরা কাটাল অ্যাস্টন ভিলা। ইংলিশ ক্লাবটির হয়ে দুর্দান্ত গোল করেন ইউরি টিলেমানস, এমি বুয়েন্দিয়া ও মরগান রজার্স। পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখিয়ে কোচ উনাই এমেরির দল এমন এক জয় তুলে নেয়, যা অনেকের মতে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ইংলিশ ক্লাবের অন্যতম সেরা ইউরোপীয় ফাইনাল পারফরম্যান্স।
ইস্তাম্বুলের বেসিকতাস পার্কে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে ভিলা। বল দখল, আক্রমণ গড়া ও প্রতিপক্ষের প্রেসিং ভাঙার ক্ষেত্রে তারা ছিল অনেক বেশি সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী। ফ্রাইবুর্গ কয়েকটি আক্রমণ তুললেও ম্যাচে কখনও শক্তভাবে ফিরতে পারেনি।
এমেরির আরেকটি ইউরোপীয় সাফল্য
এই জয়ের মাধ্যমে উনাই এমেরি নিজের ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো ইউরোপা লিগ জিতলেন। এর আগে সেভিয়া ও ভিয়ারিয়ালের হয়ে এই ট্রফি জেতা স্প্যানিশ কোচ এবার অ্যাস্টন ভিলাকেও ইউরোপের মঞ্চে সাফল্য এনে দিলেন। ম্যাচজুড়ে ভিলার কৌশল, সেটপিস পরিকল্পনা ও মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণে এমেরির ছাপ ছিল স্পষ্ট।

প্রথমার্ধেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ
ম্যাচের ৩৩ মিনিটে দুর্দান্ত ভলিতে গোল করে অ্যাস্টন ভিলাকে এগিয়ে দেন ইউরি টিলেমানস। অনুশীলনের মাঠে সাজানো পরিকল্পনার মতো একটি সেটপিস থেকে মরগান রজার্সের বাড়ানো বল জালে জড়ান বেলজিয়ান মিডফিল্ডার।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমি বুয়েন্দিয়া। জন ম্যাকগিনের পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার বাঁকানো শট ফ্রাইবুর্গ গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই রাখেনি। গোলটি হওয়ার পরই গ্যালারিতে থাকা ভিলা সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় উৎসব।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সব শেষ
দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রাইবুর্গ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ভিলার আত্মবিশ্বাসী ফুটবলের সামনে তা টেকেনি। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে বুয়েন্দিয়ার ক্রস থেকে কাছ থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন মরগান রজার্স। এরপর পুরো ম্যাচে আর কোনো নাটকীয়তা তৈরি হয়নি।
ফ্রাইবুর্গের হয়ে তরুণ মিডফিল্ডার জোহান মানজাম্বি কিছুটা আলো ছড়ালেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি জার্মান দলটি। অন্যদিকে অ্যাস্টন ভিলার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ম্যাচের আগেই আঙুলে চোট পেলেও পুরো ম্যাচ খেলেন দৃঢ়তা নিয়ে।

ঐতিহাসিক রাত অ্যাস্টন ভিলার
১৯৮২ সালে ইউরোপিয়ান কাপ জয়ের পর এই প্রথম বড় ইউরোপীয় ট্রফি জিতল অ্যাস্টন ভিলা। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষ চারে থাকা দলটি আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও খেলবে। এই পারফরম্যান্সের পর অনেকেই মনে করছেন, ইউরোপের বড় মঞ্চে আরও বড় চ্যালেঞ্জ জানানোর সামর্থ্য এখন তৈরি হয়েছে ভিলার।
ফাইনালে রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স উইলিয়ামও উপস্থিত ছিলেন। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক জন ম্যাকগিন ট্রফি হাতে উল্লাসে মেতে ওঠেন সতীর্থদের সঙ্গে। ইস্তাম্বুলের সেই রাত তাই অ্যাস্টন ভিলার সমর্থকদের জন্য হয়ে থাকল স্মরণীয় এক ইতিহাসের মুহূর্ত।
অ্যাস্টন ভিলার ইউরোপা লিগ জয়
ইউরোপা লিগ ফাইনালে ফ্রাইবুর্গকে হারিয়ে ৪৪ বছর পর ইউরোপীয় শিরোপা জিতল অ্যাস্টন ভিলা।





সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















