০৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
ইউরোপা লিগ জিতে ৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান অ্যাস্টন ভিলার বাগেরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী তিনজন নিহত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর উদযাপনে ঢাকায় নামল লাল-সাদা-নীল রিকশা ভোজ্যতেল ও ডাল কিনতে ৪৪৯ কোটি টাকার অনুমোদন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের উদ্যোগ লালবাগে গুলিবিদ্ধ তরুণের মৃত্যু, আতঙ্কে এলাকাবাসী যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ‘পড়াশোনা সংকট’, পড়ার দক্ষতায় পিছিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা ঈদযাত্রায় ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ নিয়ে সতর্কতা, যাত্রীদের জন্য পুলিশের বিশেষ নির্দেশনা ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে বনানীতে প্রাণ গেল শিশুর সেপটিক ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ শ্রমিকের, শোকে স্তব্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতারণা মামলায় বিদিশার দুই বছরের কারাদণ্ড

জ্বালানি সংকটে ধাক্কা, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমার আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আরও দুর্বল হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

জাতিসংঘের নতুন অর্থনৈতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে ২ দশমিক ৫ শতাংশে। জানুয়ারিতে এই পূর্বাভাস ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে প্রবৃদ্ধি নেমে যেতে পারে মাত্র ২ দশমিক ১ শতাংশে।

অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার শঙ্কা

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এমন প্রবৃদ্ধি এই শতাব্দীর অন্যতম দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। করোনাভাইরাস মহামারি এবং ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের বাইরে এত কম প্রবৃদ্ধি খুব কমই দেখা গেছে।

UN cuts global growth forecast, blaming Middle East crisis | Business and  Economy News | Al Jazeera

তবে এখনই বৈশ্বিক মন্দার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেও জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদেরা। যদিও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ এবং আমদানি পণ্যের দাম বাড়ায় অনেক দেশের মানুষের প্রকৃত আয় কমে যেতে পারে।

মূল্যস্ফীতি বাড়ার পূর্বাভাস

২০২৬ সালে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তেল ও গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং বিভিন্ন জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। সেখানে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি চাপে

ধনী দেশগুলোর তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেশি হতে পারে। কারণ এসব দেশের অর্থনীতি আমদানি করা জ্বালানি ও পণ্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল।

Inflation — Explained, Definition and Examples | Metaverse Post

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি সামান্য বাড়লেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি

সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো। জ্বালানি খাতে সংকট, অবকাঠামোর ক্ষতি, তেল উৎপাদনে বিঘ্ন এবং পর্যটন খাতের দুর্বলতার কারণে অঞ্চলটির প্রবৃদ্ধি বড়ভাবে কমে যেতে পারে।

ইউরোপেও চাপ বাড়ছে। আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়ছে। ফলে ইউরোপীয় অর্থনীতির গতি মন্থর হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

চীন-ভারত দ্বন্দ্বের শেষ পরিণতি কী?

চীন ও ভারতের অবস্থান

এশিয়ায় চীন তুলনামূলকভাবে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। দেশটির বৈচিত্র্যময় জ্বালানি ব্যবস্থা এবং মজুত সক্ষমতা তাদের অর্থনীতিকে কিছুটা সুরক্ষা দিচ্ছে। তবে প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় কমতে পারে।

ভারতও বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিগুলোর একটি হিসেবে থাকছে। যদিও আগের বছরের তুলনায় দেশটির প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংঘাত কত দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেটিই আগামী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপা লিগ জিতে ৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান অ্যাস্টন ভিলার

জ্বালানি সংকটে ধাক্কা, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমার আশঙ্কা

১২:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আরও দুর্বল হতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

জাতিসংঘের নতুন অর্থনৈতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে ২ দশমিক ৫ শতাংশে। জানুয়ারিতে এই পূর্বাভাস ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে প্রবৃদ্ধি নেমে যেতে পারে মাত্র ২ দশমিক ১ শতাংশে।

অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার শঙ্কা

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এমন প্রবৃদ্ধি এই শতাব্দীর অন্যতম দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। করোনাভাইরাস মহামারি এবং ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের বাইরে এত কম প্রবৃদ্ধি খুব কমই দেখা গেছে।

UN cuts global growth forecast, blaming Middle East crisis | Business and  Economy News | Al Jazeera

তবে এখনই বৈশ্বিক মন্দার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেও জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদেরা। যদিও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ এবং আমদানি পণ্যের দাম বাড়ায় অনেক দেশের মানুষের প্রকৃত আয় কমে যেতে পারে।

মূল্যস্ফীতি বাড়ার পূর্বাভাস

২০২৬ সালে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তেল ও গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার এবং বিভিন্ন জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। সেখানে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি চাপে

ধনী দেশগুলোর তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেশি হতে পারে। কারণ এসব দেশের অর্থনীতি আমদানি করা জ্বালানি ও পণ্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল।

Inflation — Explained, Definition and Examples | Metaverse Post

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি সামান্য বাড়লেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি

সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো। জ্বালানি খাতে সংকট, অবকাঠামোর ক্ষতি, তেল উৎপাদনে বিঘ্ন এবং পর্যটন খাতের দুর্বলতার কারণে অঞ্চলটির প্রবৃদ্ধি বড়ভাবে কমে যেতে পারে।

ইউরোপেও চাপ বাড়ছে। আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়ছে। ফলে ইউরোপীয় অর্থনীতির গতি মন্থর হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

চীন-ভারত দ্বন্দ্বের শেষ পরিণতি কী?

চীন ও ভারতের অবস্থান

এশিয়ায় চীন তুলনামূলকভাবে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। দেশটির বৈচিত্র্যময় জ্বালানি ব্যবস্থা এবং মজুত সক্ষমতা তাদের অর্থনীতিকে কিছুটা সুরক্ষা দিচ্ছে। তবে প্রবৃদ্ধি আগের তুলনায় কমতে পারে।

ভারতও বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিগুলোর একটি হিসেবে থাকছে। যদিও আগের বছরের তুলনায় দেশটির প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংঘাত কত দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেটিই আগামী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।