ইতালির রাজধানী রোমে সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে কলোসিয়ামের সামনে সেলফি তুললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুধু আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়, সফরে ব্যক্তিগত উষ্ণতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। মেলোনির জন্য ‘মেলোডি’ টফি নিয়ে যাওয়াকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে হাস্যরসের মুহূর্ত।
ইউরোপ সফরের শেষ পর্যায়ে মঙ্গলবার রোমে পৌঁছান মোদি। এটি গত ২৬ বছরের মধ্যে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপক্ষীয় ইতালি সফর হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
কলোসিয়ামে বন্ধুত্বের বার্তা
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, রোমের ঐতিহাসিক কলোসিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে মেলোনি ও মোদি একসঙ্গে ছবি তুলছেন এবং শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। ভিডিওতে মেলোনিকে ‘মেলোডি’ টফি উপহারের জন্য মোদিকে ধন্যবাদ জানাতেও দেখা যায়। দুই নেতার নামের মিল নিয়ে তৈরি এই উপহার ঘিরে দুজনকেই হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেছে।
এই সফরকে ঘিরে ভারত-ইতালি সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাণিজ্য বাড়ানোর বড় লক্ষ্য
দুই নেতা যৌথভাবে ইতালির একটি প্রভাবশালী দৈনিকে প্রকাশিত লেখায় জানিয়েছেন, ২০২৯ সালের মধ্যে ভারত ও ইতালির মধ্যকার বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ইউরোতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ইউরো। আগামী কয়েক বছরে এই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, গাড়ির যন্ত্রাংশ, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও বস্ত্রশিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রযুক্তি ও শিল্পে নতুন অংশীদারত্ব
দুই দেশের নেতৃত্ব মনে করছে, ইতালির নকশা ও উৎপাদন দক্ষতার সঙ্গে ভারতের প্রযুক্তি, প্রকৌশল সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী পরিবেশ একত্র হলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তাদের মতে, উন্নত প্রযুক্তি ও দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প সহযোগিতা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
আরও বৈঠক ও খাদ্য নিরাপত্তা ইস্যু
রোম সফরের অংশ হিসেবে বুধবার শহরের পশ্চিম অংশে অবস্থিত ঐতিহাসিক ভিলা পামফিলিতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মোদি ও মেলোনির।
এছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদর দপ্তরেও সফর করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি ভারতের অঙ্গীকার আরও জোরদার করতেই এই সফর গুরুত্বপূর্ণ।
রোম সফরকে ঘিরে ভারত-ইতালি সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা আগামী দিনে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
বাণিজ্য বাড়ানোর বড় লক্ষ্য


















