সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে ভারতসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১৩টি দেশ যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মেঘালয়ের উমরই এলাকায় শুরু হওয়া এই মহড়া চলবে টানা দুই সপ্তাহ।
আধা-পাহাড়ি ও জঙ্গলঘেরা দুর্গম এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনার কৌশল নিয়ে এই মহড়ায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অংশগ্রহণকারী সেনাদের যৌথ পরিকল্পনা, সমন্বিত অভিযান পরিচালনা এবং কৌশলগত দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন বার্তা
এই মহড়ায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিশেলস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওস। ভারতীয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মহড়াটি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আঞ্চলিক সেনাবাহিনীগুলোর অংশীদারত্ব ও রূপান্তরের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, সমন্বয় বাড়ানো এবং আধুনিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ সক্ষমতা গড়ে তুলতে কাজ করবে।
কঠিন পরিবেশে অভিযানের প্রস্তুতি
মহড়ায় অংশ নেওয়া সেনাদের শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও ঘন জঙ্গলে অভিযানের বাস্তবধর্মী অনুশীলনের মাধ্যমে সেনাদের সহনশীলতা ও কৌশলগত প্রস্তুতি আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এককভাবে নয়, বরং যৌথভাবে কাজ করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই এই ধরনের বহুপাক্ষিক মহড়া ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রদর্শনী
মহড়ার অংশ হিসেবে ভারতীয় প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের তৈরি সরঞ্জাম ও নতুন উদ্ভাবনও প্রদর্শন করছে। এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা উৎপাদন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতিকে তুলে ধরা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা এই মহড়াকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক আস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















