যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি প্রাইমারিতে হেরে যাওয়ার পর এখন রিপাবলিকান দলে ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই নির্বাচনে সাবেক নেভি সিল কর্মকর্তা এড গ্যালরেইন জয় পেয়েছেন। ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থন পাওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠীর বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তাও তার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভোট গণনার শেষ পর্যায়ে গ্যালরেইন প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকেন, আর ম্যাসি পান প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট।
ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাড়ছিল
গত কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্প ও ম্যাসির সম্পর্ক খারাপের দিকে যাচ্ছিল। ম্যাসি প্রকাশ্যে ট্রাম্পের কিছু নীতির বিরোধিতা করেন। বিশেষ করে জেফ্রি এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশের দাবিতে নেতৃত্ব দেওয়া এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থান নেওয়ার পর ট্রাম্প তার ওপর ক্ষুব্ধ হন।

এছাড়া ট্রাম্পের কর ও ব্যয়সংক্রান্ত বড় বিলের বিরুদ্ধেও ভোট দিয়েছিলেন ম্যাসি। এর পর থেকেই রিপাবলিকান দলে তাকে একঘরে করার প্রচেষ্টা শুরু হয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
বিপুল অর্থব্যয়ে রেকর্ড নির্বাচন
এই প্রাইমারি নির্বাচনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচনের একটি হয়ে উঠেছে। প্রচারণা ও বিজ্ঞাপনে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার।
ইসরায়েলপন্থি কয়েকটি শক্তিশালী সংগঠন ম্যাসির বিরুদ্ধে প্রচারণায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলোতে ম্যাসিকে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান দলের প্রতি অবিশ্বস্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, রিপাবলিকান দলে এখনও ট্রাম্পের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী। দলের ভেতরে ভিন্নমত পোষণ করলে নির্বাচনে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

পরাজয়ের পর ম্যাসির প্রতিক্রিয়া
পরাজয়ের পর সমর্থকদের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ম্যাসি বলেন, তিনি কেবল কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে লড়েননি, বরং নিজের বিশ্বাসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বক্তব্যের সময় তার সমর্থকেরা “আর যুদ্ধ নয়” এবং “আমেরিকা ফার্স্ট” স্লোগান দেন।
অন্যদিকে বিজয়ী গ্যালরেইন বলেন, তিনি ওয়াশিংটনে গিয়ে ট্রাম্পের নীতি বাস্তবায়নে কাজ করবেন এবং কেনটাকির স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বার্তা
এই নির্বাচনকে শুধু কেনটাকির একটি প্রাইমারি হিসেবেই দেখা হচ্ছে না। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্য এবং ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ কতটা দৃঢ়, সেটিও এই ফলাফলের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















