১১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
তামিলনাড়ু মন্ত্রিসভায় ঐতিহাসিক সম্প্রসারণ, বিজয়ের দলে ২১ ও কংগ্রেসের ২ বিধায়ক শপথ জাপানে কঠোর ভিসা নীতিতে বিপাকে বিদেশি ব্যবসায়ীরা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিম্নআয়ের মানুষের পকেট কাটার শামিল: রুহিন প্রিন্স চট্টগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রের বজ্রপাতে নওগাঁ, বরিশাল ও নাটোরে ৬ জনের মৃত্যু বিদ্যুতের দাম বাড়ালে বাড়বে মূল্যস্ফীতি, বিইআরসিকে সতর্ক করল ক্যাব বাজারে অনিয়মে কঠোর বিএসইসি, তিন কোম্পানিকে ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা জরিমানা নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতা ওসমান গনি খুন, আটক ৪ ডুয়েটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এর মধ্যেই দায়িত্ব নিলেন নতুন ভিসি নরওয়েতে মোদিকে প্রশ্ন করে ভাইরাল সাংবাদিক, বাকস্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক

ওয়েলসের ক্ষমতা নিয়ে লেবারেই দ্বন্দ্ব, ওয়েস্টমিনস্টারকে দুষলেন ড্রেকফোর্ড

ওয়েলসের স্বায়ত্তশাসন ও ক্ষমতা নিয়ে আবারও প্রকাশ্যে বিভক্তির চিত্র দেখা গেল ব্রিটিশ লেবার পার্টিতে। ওয়েলসের সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার মার্ক ড্রেকফোর্ড অভিযোগ করেছেন, ওয়েস্টমিনস্টারভিত্তিক লেবার সরকার ওয়েলসকে যথেষ্ট ক্ষমতা না দেওয়ায় দলটির রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে ড্রেকফোর্ড বলেন, ওয়েলসের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে চেয়েছিল নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিজেরাই পরিচালনা করতে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সেই বার্তা বাস্তবে কার্যকর না হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিয়ে ক্ষোভ

ড্রেকফোর্ড স্বীকার করেন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাখাত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বিশেষ করে শীতকালীন জ্বালানি ভাতা পরিবর্তন এবং প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে বিতর্ক বহুবার মানুষের আলোচনায় এসেছে।

তার মতে, ওয়েলসের জন্য লেবারের বড় রাজনৈতিক শক্তি ছিল ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু গত দুই বছরে এমন কোনো বড় পদক্ষেপ দেখা যায়নি, যা মানুষকে বিশ্বাস করাতে পারত যে ওয়েলস সত্যিই আরও বেশি স্বাধীনভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারছে।

Mark Drakeford attacks UK Labour over lack of new powers for Wales - Yahoo News Canada

তিনি বলেন, ওয়েলসের জনগণ চেয়েছিল এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে তারা নিজেদের ঘরোয়া বিষয় নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করবে, আবার একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবেও থাকবে। কিন্তু সেই বিশেষ রাজনৈতিক প্রস্তাব এখন দুর্বল হয়ে গেছে।

দলীয় নেতাদের পাল্টা আক্রমণ

ড্রেকফোর্ডের মন্তব্যের পর লেবারের ভেতর থেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে। দলটির একাধিক সূত্র দাবি করেছে, নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য মূলত ওয়েলস সরকারই দায়ী।

বিশেষ করে ২০ মাইল গতিসীমা আইন, দীর্ঘ স্বাস্থ্যসেবা অপেক্ষার তালিকা, পার্লামেন্ট সম্প্রসারণ পরিকল্পনা এবং দৈনন্দিন সমস্যা থেকে সরকারের মনোযোগ সরে যাওয়ার বিষয়গুলো ভোটারদের বিরক্ত করেছে বলে দাবি করা হয়।

এক নেতা কড়া ভাষায় বলেন, নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর ড্রেকফোর্ডের উচিত ছিল আত্মসমালোচনা করা, অন্যদের দোষারোপ করা নয়।

ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে বিরোধ

ওয়েলসের লেবার দীর্ঘদিন ধরে ক্রাউন এস্টেটের নিয়ন্ত্রণ, দ্রুতগতির রেল প্রকল্পের অর্থ বণ্টন এবং পুলিশ ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা ওয়েলস পার্লামেন্টের হাতে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

Mark Drakeford won't visit Welsh pubs that banned him

তবে ওয়েস্টমিনস্টারের লেবার নেতৃত্ব এসব দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়। যদিও কিছু ছোট পরিবর্তন আনা হয়েছে, বড় ধরনের ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

দলীয় এক সূত্র আবার ড্রেকফোর্ডের বক্তব্যকে “ছাত্র রাজনীতি” বলেও কটাক্ষ করেছে। তাদের মতে, সাধারণ মানুষ মূলত সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমে হতাশ ছিল, সমুদ্রতল বা সম্পদের মালিকানা নিয়ে নয়।

ওয়েলস রাজনীতিতে নতুন চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ ওয়েলসের রাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় অর্থনীতি এবং জনসেবার মান নিয়ে আগামী দিনগুলোতে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।

এদিকে লেবারের অভ্যন্তরীণ এই মতবিরোধ দলটির ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। কারণ ওয়েলসের ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হলে দলকে এখন স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তামিলনাড়ু মন্ত্রিসভায় ঐতিহাসিক সম্প্রসারণ, বিজয়ের দলে ২১ ও কংগ্রেসের ২ বিধায়ক শপথ

ওয়েলসের ক্ষমতা নিয়ে লেবারেই দ্বন্দ্ব, ওয়েস্টমিনস্টারকে দুষলেন ড্রেকফোর্ড

০২:০২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

ওয়েলসের স্বায়ত্তশাসন ও ক্ষমতা নিয়ে আবারও প্রকাশ্যে বিভক্তির চিত্র দেখা গেল ব্রিটিশ লেবার পার্টিতে। ওয়েলসের সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার মার্ক ড্রেকফোর্ড অভিযোগ করেছেন, ওয়েস্টমিনস্টারভিত্তিক লেবার সরকার ওয়েলসকে যথেষ্ট ক্ষমতা না দেওয়ায় দলটির রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে ড্রেকফোর্ড বলেন, ওয়েলসের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে চেয়েছিল নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিজেরাই পরিচালনা করতে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সেই বার্তা বাস্তবে কার্যকর না হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিয়ে ক্ষোভ

ড্রেকফোর্ড স্বীকার করেন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাখাত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বিশেষ করে শীতকালীন জ্বালানি ভাতা পরিবর্তন এবং প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে বিতর্ক বহুবার মানুষের আলোচনায় এসেছে।

তার মতে, ওয়েলসের জন্য লেবারের বড় রাজনৈতিক শক্তি ছিল ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু গত দুই বছরে এমন কোনো বড় পদক্ষেপ দেখা যায়নি, যা মানুষকে বিশ্বাস করাতে পারত যে ওয়েলস সত্যিই আরও বেশি স্বাধীনভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারছে।

Mark Drakeford attacks UK Labour over lack of new powers for Wales - Yahoo News Canada

তিনি বলেন, ওয়েলসের জনগণ চেয়েছিল এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে তারা নিজেদের ঘরোয়া বিষয় নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করবে, আবার একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবেও থাকবে। কিন্তু সেই বিশেষ রাজনৈতিক প্রস্তাব এখন দুর্বল হয়ে গেছে।

দলীয় নেতাদের পাল্টা আক্রমণ

ড্রেকফোর্ডের মন্তব্যের পর লেবারের ভেতর থেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে। দলটির একাধিক সূত্র দাবি করেছে, নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য মূলত ওয়েলস সরকারই দায়ী।

বিশেষ করে ২০ মাইল গতিসীমা আইন, দীর্ঘ স্বাস্থ্যসেবা অপেক্ষার তালিকা, পার্লামেন্ট সম্প্রসারণ পরিকল্পনা এবং দৈনন্দিন সমস্যা থেকে সরকারের মনোযোগ সরে যাওয়ার বিষয়গুলো ভোটারদের বিরক্ত করেছে বলে দাবি করা হয়।

এক নেতা কড়া ভাষায় বলেন, নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর ড্রেকফোর্ডের উচিত ছিল আত্মসমালোচনা করা, অন্যদের দোষারোপ করা নয়।

ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে বিরোধ

ওয়েলসের লেবার দীর্ঘদিন ধরে ক্রাউন এস্টেটের নিয়ন্ত্রণ, দ্রুতগতির রেল প্রকল্পের অর্থ বণ্টন এবং পুলিশ ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা ওয়েলস পার্লামেন্টের হাতে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

Mark Drakeford won't visit Welsh pubs that banned him

তবে ওয়েস্টমিনস্টারের লেবার নেতৃত্ব এসব দাবির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়। যদিও কিছু ছোট পরিবর্তন আনা হয়েছে, বড় ধরনের ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

দলীয় এক সূত্র আবার ড্রেকফোর্ডের বক্তব্যকে “ছাত্র রাজনীতি” বলেও কটাক্ষ করেছে। তাদের মতে, সাধারণ মানুষ মূলত সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমে হতাশ ছিল, সমুদ্রতল বা সম্পদের মালিকানা নিয়ে নয়।

ওয়েলস রাজনীতিতে নতুন চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ ওয়েলসের রাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় অর্থনীতি এবং জনসেবার মান নিয়ে আগামী দিনগুলোতে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।

এদিকে লেবারের অভ্যন্তরীণ এই মতবিরোধ দলটির ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। কারণ ওয়েলসের ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হলে দলকে এখন স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে বলে মনে করছেন অনেকেই।