০৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
পোকেমন ও হ্যাপি আসমারার নতুন উদ্যোগে বিশ্বমঞ্চে ইন্দোনেশিয়ার ‘ডাংদুত’ স্পেসএক্সের আইপিও ঝড়: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিপুল ক্ষতি, তবু ইতিহাস গড়ার পথে ইলন মাস্ক এসওয়াতিনিতে মার্কিন অভিবাসী পাঠানো নিয়ে বিতর্ক, গোপন চুক্তি ঘিরে প্রশ্ন রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হত্যা মামলা, কিউবা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা একদিনে এভারেস্ট জয়ে রেকর্ড ২৭৪ আরোহী, বাড়ছে ভিড় ও ঝুঁকির শঙ্কা রুপির পতন ঠেকাতে আবারও ডলার বিক্রিতে সক্রিয় ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ধীর হলো ভারতের বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি মানিশ পান্ডের অভিজ্ঞতায় টিকে রইল কলকাতার স্বপ্ন স্পেসএক্সের বড় লক্ষ্য, বছরে ১০ হাজার উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় নতুন মোড়, মধ্যস্থতায় সক্রিয় পাকিস্তান

জিডিপির কাগুজে স্বস্তি, অর্থনীতির বাস্তব সংকট

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক মধ্যবর্ষী বাজেট পর্যালোচনা এমন একটি চিত্র তুলে ধরেছে, যা প্রথম দেখায় অনেকের কাছে আর্থিক পুনরুদ্ধারের গল্প বলে মনে হতে পারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে বড় অঙ্কের ঘাটতি ছিল, সেখানে এবার সরকার উদ্বৃত্ত দেখাতে সক্ষম হয়েছে। সংখ্যার ভাষায় এটি নিঃসন্দেহে নাটকীয় পরিবর্তন। কিন্তু অর্থনীতির গভীরে তাকালে দেখা যায়, এই উন্নতির ভিত্তি খুবই নড়বড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিপজ্জনক।

কারণ এই সাফল্যের পেছনে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিল্প সম্প্রসারণ কিংবা প্রশাসনিক সংস্কারের ভূমিকা খুব সামান্য। বরং সরকার মূলত তিনটি উপায়ে সাময়িক স্বস্তি অর্জন করেছে—সুদের হার কমে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধ ব্যয় হ্রাস, জ্বালানির ওপর বাড়তি পরোক্ষ কর আরোপ, এবং উন্নয়ন ব্যয় সংকুচিত করা।

রাষ্ট্র যখন উন্নয়নের পরিবর্তে ব্যয় কমিয়ে হিসাব সুন্দর রাখে, তখন অর্থনীতির ভেতরে জমতে থাকে দীর্ঘমেয়াদি সংকট। পাকিস্তানের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি সেই পুরোনো বাস্তবতাকেই আবার সামনে এনেছে।

জ্বালানি করের ওপর অতিনির্ভরতার ঝুঁকি

সরকারি আয়ের বড় অংশ এসেছে পেট্রোলিয়াম লেভি থেকে। অর্থাৎ সরাসরি কর আদায় বা নতুন করদাতা তৈরির পরিবর্তে সাধারণ মানুষের জ্বালানি খরচ বাড়িয়ে রাজস্ব সংগ্রহ করা হয়েছে। এই পদ্ধতি রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হলেও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রতিকূল।

জ্বালানির ওপর বাড়তি কর মানে শুধু পাম্পে বেশি দাম নয়; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে পরিবহন, কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খরচ এবং খাদ্যমূল্যে। শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে মধ্যবিত্ত, শ্রমজীবী মানুষ এবং ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর। যাদের আয় স্থির, কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পেট্রোলিয়াম লেভির বড় অংশ প্রদেশগুলোর সঙ্গে ভাগাভাগির আওতায় পড়ে না। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার রাজস্ব বাড়ালেও প্রাদেশিক অর্থনীতির ওপর তার ইতিবাচক প্রভাব সীমিত থাকে। এতে ফেডারেল কাঠামোর ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উন্নয়ন ব্যয় কমিয়ে স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়

সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন যে হারে কমেছে, তা অর্থনীতির জন্য আরও উদ্বেগজনক। উন্নয়ন ব্যয় মূলত ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সক্ষমতায় বিনিয়োগ। রাস্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, পানি ব্যবস্থাপনা কিংবা অবকাঠামোতে ব্যয় কমিয়ে সাময়িক হিসাবের ভারসাম্য আনা গেলেও তা ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধিকে দুর্বল করে।

Pakistan's plan to sharply increase growth faces headwinds, analysts say |  Reuters

দক্ষিণ এশিয়ার অনেক রাষ্ট্রই আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে উন্নয়ন ব্যয় কমানোর পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর ফল হয়েছে উল্টো। অবকাঠামো দুর্বল হয়েছে, কর্মসংস্থান কমেছে, আঞ্চলিক বৈষম্য বেড়েছে এবং রাষ্ট্রের সামাজিক সক্ষমতা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।

পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও একই চিত্র স্পষ্ট। বাজেটের কাগজে উদ্বৃত্ত থাকলেও নাগরিক জীবনে তার প্রতিফলন নেই। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত এখনও চাপের মধ্যে। শিল্প বিনিয়োগে গতি নেই। উৎপাদনশীল খাতগুলো পর্যাপ্ত প্রণোদনা পাচ্ছে না। অর্থাৎ অর্থনীতি এখনও ঋণনির্ভর এবং ভোগান্তিকেন্দ্রিক।

ঋণের ফাঁদ থেকে বের হতে না পারার মূল্য

দেশটির আর্থিক সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে বিশাল ঋণভার। সুদের হার কমায় আপাতত ঋণ পরিশোধ ব্যয় কিছুটা কমেছে, কিন্তু মূল ঋণের পরিমাণ কমেনি। অর্থাৎ বৈশ্বিক বাজারে চাপ বাড়লে বা মুদ্রাস্ফীতি আবার তীব্র হলে এই স্বস্তি দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।

এখানেই বড় প্রশ্ন উঠে আসে—কেন এত কর আদায় ও একের পর এক আন্তর্জাতিক সহায়তা কর্মসূচির পরও কাঠামোগত সংস্কার এগোয়নি?

অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি এখনও বড় অংশে করের বাইরে। কৃষি আয়ের কার্যকর কর ব্যবস্থা নেই। সম্পদ কর কার্যত অনুপস্থিত। প্রভাবশালী গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা বহাল আছে। রাষ্ট্রায়ত্ত অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও লোকসান টেনে যাচ্ছে। অথচ নিয়মিত কর দিচ্ছে মূলত বেতনভোগী শ্রেণি ও নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।

এই বৈষম্যমূলক কাঠামো অর্থনীতিকে শুধু দুর্বলই করছে না, রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষয় করছে।

কাগুজে সাফল্যের বাইরে বাস্তব সংস্কার দরকার

অর্থনীতির স্থায়ী পুনরুদ্ধার শুধু হিসাবের উদ্বৃত্ত দিয়ে আসে না। এর জন্য প্রয়োজন উৎপাদন বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ন্যায্য করব্যবস্থা। সরকার যদি শুধু ঋণ পরিশোধের জন্য কর বাড়ায়, কিন্তু উন্নয়ন ও শিল্পায়নে বিনিয়োগ না করে, তাহলে সেই অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে স্থবির হয়ে পড়ে।

পাকিস্তানের এখন দরকার কর ব্যবস্থার মৌলিক পুনর্গঠন। ফেডারেল ও প্রাদেশিক কর কাঠামোর সমন্বয়, কর আইনের সরলীকরণ, অপ্রয়োজনীয় ছাড় কমানো এবং উৎপাদনমুখী খাতগুলোকে বাস্তব সহায়তা দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয়কে আর্থিক সমন্বয়ের বলি বানানোর প্রবণতা থেকেও সরে আসতে হবে।

কারণ অর্থনীতি শুধু পরিসংখ্যানের খেলা নয়। নাগরিকের আয়, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার মানই শেষ পর্যন্ত প্রকৃত সূচক। কাগজে উদ্বৃত্ত দেখিয়ে সাময়িক প্রশংসা পাওয়া সম্ভব, কিন্তু টেকসই সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রয়োজন গভীর ও সাহসী সংস্কার।

জনপ্রিয় সংবাদ

পোকেমন ও হ্যাপি আসমারার নতুন উদ্যোগে বিশ্বমঞ্চে ইন্দোনেশিয়ার ‘ডাংদুত’

জিডিপির কাগুজে স্বস্তি, অর্থনীতির বাস্তব সংকট

০৫:৪৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক মধ্যবর্ষী বাজেট পর্যালোচনা এমন একটি চিত্র তুলে ধরেছে, যা প্রথম দেখায় অনেকের কাছে আর্থিক পুনরুদ্ধারের গল্প বলে মনে হতে পারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে বড় অঙ্কের ঘাটতি ছিল, সেখানে এবার সরকার উদ্বৃত্ত দেখাতে সক্ষম হয়েছে। সংখ্যার ভাষায় এটি নিঃসন্দেহে নাটকীয় পরিবর্তন। কিন্তু অর্থনীতির গভীরে তাকালে দেখা যায়, এই উন্নতির ভিত্তি খুবই নড়বড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিপজ্জনক।

কারণ এই সাফল্যের পেছনে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিল্প সম্প্রসারণ কিংবা প্রশাসনিক সংস্কারের ভূমিকা খুব সামান্য। বরং সরকার মূলত তিনটি উপায়ে সাময়িক স্বস্তি অর্জন করেছে—সুদের হার কমে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধ ব্যয় হ্রাস, জ্বালানির ওপর বাড়তি পরোক্ষ কর আরোপ, এবং উন্নয়ন ব্যয় সংকুচিত করা।

রাষ্ট্র যখন উন্নয়নের পরিবর্তে ব্যয় কমিয়ে হিসাব সুন্দর রাখে, তখন অর্থনীতির ভেতরে জমতে থাকে দীর্ঘমেয়াদি সংকট। পাকিস্তানের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি সেই পুরোনো বাস্তবতাকেই আবার সামনে এনেছে।

জ্বালানি করের ওপর অতিনির্ভরতার ঝুঁকি

সরকারি আয়ের বড় অংশ এসেছে পেট্রোলিয়াম লেভি থেকে। অর্থাৎ সরাসরি কর আদায় বা নতুন করদাতা তৈরির পরিবর্তে সাধারণ মানুষের জ্বালানি খরচ বাড়িয়ে রাজস্ব সংগ্রহ করা হয়েছে। এই পদ্ধতি রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হলেও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রতিকূল।

জ্বালানির ওপর বাড়তি কর মানে শুধু পাম্পে বেশি দাম নয়; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে পরিবহন, কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খরচ এবং খাদ্যমূল্যে। শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে মধ্যবিত্ত, শ্রমজীবী মানুষ এবং ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর। যাদের আয় স্থির, কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পেট্রোলিয়াম লেভির বড় অংশ প্রদেশগুলোর সঙ্গে ভাগাভাগির আওতায় পড়ে না। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার রাজস্ব বাড়ালেও প্রাদেশিক অর্থনীতির ওপর তার ইতিবাচক প্রভাব সীমিত থাকে। এতে ফেডারেল কাঠামোর ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উন্নয়ন ব্যয় কমিয়ে স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়

সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন যে হারে কমেছে, তা অর্থনীতির জন্য আরও উদ্বেগজনক। উন্নয়ন ব্যয় মূলত ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সক্ষমতায় বিনিয়োগ। রাস্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, পানি ব্যবস্থাপনা কিংবা অবকাঠামোতে ব্যয় কমিয়ে সাময়িক হিসাবের ভারসাম্য আনা গেলেও তা ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধিকে দুর্বল করে।

Pakistan's plan to sharply increase growth faces headwinds, analysts say |  Reuters

দক্ষিণ এশিয়ার অনেক রাষ্ট্রই আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে উন্নয়ন ব্যয় কমানোর পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর ফল হয়েছে উল্টো। অবকাঠামো দুর্বল হয়েছে, কর্মসংস্থান কমেছে, আঞ্চলিক বৈষম্য বেড়েছে এবং রাষ্ট্রের সামাজিক সক্ষমতা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।

পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও একই চিত্র স্পষ্ট। বাজেটের কাগজে উদ্বৃত্ত থাকলেও নাগরিক জীবনে তার প্রতিফলন নেই। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত এখনও চাপের মধ্যে। শিল্প বিনিয়োগে গতি নেই। উৎপাদনশীল খাতগুলো পর্যাপ্ত প্রণোদনা পাচ্ছে না। অর্থাৎ অর্থনীতি এখনও ঋণনির্ভর এবং ভোগান্তিকেন্দ্রিক।

ঋণের ফাঁদ থেকে বের হতে না পারার মূল্য

দেশটির আর্থিক সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে বিশাল ঋণভার। সুদের হার কমায় আপাতত ঋণ পরিশোধ ব্যয় কিছুটা কমেছে, কিন্তু মূল ঋণের পরিমাণ কমেনি। অর্থাৎ বৈশ্বিক বাজারে চাপ বাড়লে বা মুদ্রাস্ফীতি আবার তীব্র হলে এই স্বস্তি দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।

এখানেই বড় প্রশ্ন উঠে আসে—কেন এত কর আদায় ও একের পর এক আন্তর্জাতিক সহায়তা কর্মসূচির পরও কাঠামোগত সংস্কার এগোয়নি?

অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি এখনও বড় অংশে করের বাইরে। কৃষি আয়ের কার্যকর কর ব্যবস্থা নেই। সম্পদ কর কার্যত অনুপস্থিত। প্রভাবশালী গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা বহাল আছে। রাষ্ট্রায়ত্ত অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও লোকসান টেনে যাচ্ছে। অথচ নিয়মিত কর দিচ্ছে মূলত বেতনভোগী শ্রেণি ও নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।

এই বৈষম্যমূলক কাঠামো অর্থনীতিকে শুধু দুর্বলই করছে না, রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষয় করছে।

কাগুজে সাফল্যের বাইরে বাস্তব সংস্কার দরকার

অর্থনীতির স্থায়ী পুনরুদ্ধার শুধু হিসাবের উদ্বৃত্ত দিয়ে আসে না। এর জন্য প্রয়োজন উৎপাদন বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ন্যায্য করব্যবস্থা। সরকার যদি শুধু ঋণ পরিশোধের জন্য কর বাড়ায়, কিন্তু উন্নয়ন ও শিল্পায়নে বিনিয়োগ না করে, তাহলে সেই অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে স্থবির হয়ে পড়ে।

পাকিস্তানের এখন দরকার কর ব্যবস্থার মৌলিক পুনর্গঠন। ফেডারেল ও প্রাদেশিক কর কাঠামোর সমন্বয়, কর আইনের সরলীকরণ, অপ্রয়োজনীয় ছাড় কমানো এবং উৎপাদনমুখী খাতগুলোকে বাস্তব সহায়তা দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয়কে আর্থিক সমন্বয়ের বলি বানানোর প্রবণতা থেকেও সরে আসতে হবে।

কারণ অর্থনীতি শুধু পরিসংখ্যানের খেলা নয়। নাগরিকের আয়, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার মানই শেষ পর্যন্ত প্রকৃত সূচক। কাগজে উদ্বৃত্ত দেখিয়ে সাময়িক প্রশংসা পাওয়া সম্ভব, কিন্তু টেকসই সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রয়োজন গভীর ও সাহসী সংস্কার।