ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় সংগীতধারা ‘ডাংদুত’ এবার জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বখ্যাত বিনোদন ব্র্যান্ড পোকেমনের সঙ্গে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক সহযোগিতায়। দেশটির জনপ্রিয় গায়িকা হ্যাপি আসমারা ও পোকেমনের মাসকট পিকাচুকে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে নতুন সংস্করণের “কপি ডাংদুত”, যা ইতোমধ্যে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার হ্যাপি আসমারার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে এটি বিভিন্ন বড় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মেও উন্মুক্ত করা হয়েছে। পোকেমনের ইতিহাসে এটিই প্রথমবার, যখন তারা ডাংদুত সংগীতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলো।
ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতির বৈশ্বিক প্রচার
ইন্দোনেশিয়ার উপ-সৃজনশীল অর্থনীতি মন্ত্রী আইরিন উমার জানিয়েছেন, এই সহযোগিতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ডাংদুত সংগীতকে নতুনভাবে পরিচিত করতে সহায়ক হবে। তার মতে, ডাংদুত কেবল সংগীত নয়, বরং ইন্দোনেশিয়ার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি বলেন, হ্যাপি আসমারা এবং অন্যান্য ডাংদুত শিল্পীদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে এই উদ্যোগের মাধ্যমে। একইসঙ্গে এটি ইন্দোনেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিরও প্রতিফলন।
পুরোনো গানে আধুনিক ছোঁয়া
মূলত ফাহমি শাহাবের লেখা “কপি ডাংদুত” গানটিকে নতুনভাবে সাজিয়েছেন সংগীত পরিচালক টিও আদ্রিয়ান। নতুন সংস্করণে ঐতিহ্যবাহী ডাংদুতের আবহ বজায় রেখে আধুনিক সংগীতধারার উপাদান যোগ করা হয়েছে, যাতে তরুণ প্রজন্মও সহজে সংযোগ অনুভব করতে পারে।
এই সহযোগিতার অংশ হিসেবে চালু হয়েছে “হেপিকা” নামের নতুন একটি ধারণা, যেখানে “হ্যাপি” এবং পিকাচুর পরিচিত শব্দ “পিকা” মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে নতুন পরিচিতি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “গোইয়াং হেপিকা” নামে একটি নাচের চ্যালেঞ্জও চালু হয়েছে।
হ্যাপি আসমারা বলেছেন, এই প্রকল্প তার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা। তিনি আগেও “কপি ডাংদুত” পরিবেশন করেছেন, তবে নতুন এই সংস্করণে নস্টালজিয়া ও আধুনিকতার মিশ্রণ গানটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

কেন বেছে নেওয়া হলো ডাংদুত
দ্য পোকেমন কোম্পানির করপোরেট কর্মকর্তা সুসুমু ফুকুনাগা জানিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়ার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক থাকার কারণেই ডাংদুতকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষায়, ডাংদুত ইন্দোনেশিয়ার সংগীতের প্রাণশক্তিকে তুলে ধরে এবং মানুষের আবেগের সঙ্গে সহজে সংযোগ তৈরি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতির মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার দর্শকদের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংগীতের বাইরে আরও আয়োজন
এই সহযোগিতা শুধু গানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। হ্যাপি আসমারা “পোকেমন হরাইজন: সিজন ৩ – আসা মেংআঙ্কাসা” অ্যানিমেশন সিরিজের একটি চরিত্রে কণ্ঠ দেবেন। সিরিজটি আগামী ৩০ মে মেনতারিটিভিতে প্রচার শুরু হবে এবং পরে ৫ জুন পোকেমন ইন্দোনেশিয়ার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হবে।
এছাড়া ডাংদুত পোশাকে বিশেষ পিকাচু প্লাশ কী-চেইনও প্রকাশ করা হবে, যা বিভিন্ন আয়োজন ও উপহার কার্যক্রমের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।
জাকার্তার সেনায়ান এলাকায় কার ফ্রি ডে উপলক্ষে একটি বিশেষ পোকেমন অনুষ্ঠান আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে দর্শনার্থীরা ডাংদুত পোশাকে পিকাচুর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন এবং “গোইয়াং হেপিকা” অভিজ্ঞতায় অংশ নিতে পারবেন।
পোকেমন-ডাংদুত সহযোগিতায় ইন্দোনেশিয়ার সংস্কৃতি বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে পরিচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পোকেমন ডাংদুত সহযোগিতা
পোকেমন ও হ্যাপি আসমারার নতুন উদ্যোগে বিশ্বমঞ্চে উঠে আসছে ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় সংগীতধারা ডাংদুত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















