০৯:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
তামিলনাড়ু মন্ত্রিসভায় ঐতিহাসিক সম্প্রসারণ, বিজয়ের দলে ২১ ও কংগ্রেসের ২ বিধায়ক শপথ জাপানে কঠোর ভিসা নীতিতে বিপাকে বিদেশি ব্যবসায়ীরা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিম্নআয়ের মানুষের পকেট কাটার শামিল: রুহিন প্রিন্স চট্টগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রের বজ্রপাতে নওগাঁ, বরিশাল ও নাটোরে ৬ জনের মৃত্যু বিদ্যুতের দাম বাড়ালে বাড়বে মূল্যস্ফীতি, বিইআরসিকে সতর্ক করল ক্যাব বাজারে অনিয়মে কঠোর বিএসইসি, তিন কোম্পানিকে ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা জরিমানা নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতা ওসমান গনি খুন, আটক ৪ ডুয়েটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এর মধ্যেই দায়িত্ব নিলেন নতুন ভিসি নরওয়েতে মোদিকে প্রশ্ন করে ভাইরাল সাংবাদিক, বাকস্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক

স্পেসএক্সের বড় লক্ষ্য, বছরে ১০ হাজার উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা

মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান SpaceX আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বছরে ১০ হাজার রকেট উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসনের প্রধান ব্রায়ান বেডফোর্ড এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে এত বড় পরিসরে কার্যক্রম চালাতে হলে প্রতিষ্ঠানের উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা আরও বাড়াতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে এক অনুষ্ঠানে ব্রায়ান বেডফোর্ড জানান, সম্প্রতি স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট Gwynne Shotwell-এর সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তিনি বলেন, স্পেসএক্স আগামী পাঁচ বছরে বছরে ১০ হাজার উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জন করতে চায়।

বর্তমান কার্যক্রম থেকেই বড় ইঙ্গিত

২০২৫ সালে স্পেসএক্স মোট ১৭০টি উৎক্ষেপণ পরিচালনা করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় আড়াই হাজার স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী Elon Musk সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, বর্তমানে তাদের ১০ হাজার স্যাটেলাইট পৃথিবীর কক্ষপথে রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতি বছর আরও ১০ হাজার যোগাযোগ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্যও রয়েছে তাদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মহাকাশ যোগাযোগ, ইন্টারনেট সেবা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

SpaceX vows to achieve 10,000 launches per year within five years | Ukraine  news - #Mezha

নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার চ্যালেঞ্জ

ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন বাণিজ্যিক মহাকাশ উৎক্ষেপণের অনুমোদন ও তদারকির দায়িত্বে রয়েছে। সংস্থাটি নিশ্চিত করে যেন উৎক্ষেপণ বা দুর্ঘটনা সাধারণ বিমান চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি না করে।

ব্রায়ান বেডফোর্ড বলেন, এত বড় লক্ষ্য পূরণ করতে হলে স্পেসএক্সকে তাদের প্রযুক্তিগত নির্ভরযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি সংস্থাকেও পরিকল্পনা ও তদারকি সক্ষমতা উন্নত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মহাকাশ উৎক্ষেপণের প্রধান সীমাবদ্ধতা প্রশাসনিক নয়। তবে ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন না বাড়ালে সরকারি সংস্থাই বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

চাঁদে ফেরার পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্র ২০২৮ সালের আগেই আবার মানুষকে চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এই পরিকল্পনায় বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বেডফোর্ড বলেন, নতুন উদ্ভাবনকে বাস্তবে রূপ দিতে শিল্পখাত ও সরকারের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ ভবিষ্যতের মহাকাশ মিশনগুলো হবে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বড় ও জটিল।

স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

চলতি বছরের শুরুতে স্পেসএক্স পৃথিবীর কক্ষপথে ১০ লাখ স্যাটেলাইটের বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিল। এসব স্যাটেলাইট থেকে সৌরশক্তি সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র চালানোর ধারণা নিয়েও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা হতে পারে। তবে এর সঙ্গে নিরাপত্তা, মহাকাশে ভিড় বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তামিলনাড়ু মন্ত্রিসভায় ঐতিহাসিক সম্প্রসারণ, বিজয়ের দলে ২১ ও কংগ্রেসের ২ বিধায়ক শপথ

স্পেসএক্সের বড় লক্ষ্য, বছরে ১০ হাজার উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা

০৭:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান SpaceX আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বছরে ১০ হাজার রকেট উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসনের প্রধান ব্রায়ান বেডফোর্ড এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে এত বড় পরিসরে কার্যক্রম চালাতে হলে প্রতিষ্ঠানের উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা আরও বাড়াতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে এক অনুষ্ঠানে ব্রায়ান বেডফোর্ড জানান, সম্প্রতি স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট Gwynne Shotwell-এর সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তিনি বলেন, স্পেসএক্স আগামী পাঁচ বছরে বছরে ১০ হাজার উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জন করতে চায়।

বর্তমান কার্যক্রম থেকেই বড় ইঙ্গিত

২০২৫ সালে স্পেসএক্স মোট ১৭০টি উৎক্ষেপণ পরিচালনা করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় আড়াই হাজার স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী Elon Musk সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, বর্তমানে তাদের ১০ হাজার স্যাটেলাইট পৃথিবীর কক্ষপথে রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতি বছর আরও ১০ হাজার যোগাযোগ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্যও রয়েছে তাদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মহাকাশ যোগাযোগ, ইন্টারনেট সেবা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

SpaceX vows to achieve 10,000 launches per year within five years | Ukraine  news - #Mezha

নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার চ্যালেঞ্জ

ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন বাণিজ্যিক মহাকাশ উৎক্ষেপণের অনুমোদন ও তদারকির দায়িত্বে রয়েছে। সংস্থাটি নিশ্চিত করে যেন উৎক্ষেপণ বা দুর্ঘটনা সাধারণ বিমান চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি না করে।

ব্রায়ান বেডফোর্ড বলেন, এত বড় লক্ষ্য পূরণ করতে হলে স্পেসএক্সকে তাদের প্রযুক্তিগত নির্ভরযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি সংস্থাকেও পরিকল্পনা ও তদারকি সক্ষমতা উন্নত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মহাকাশ উৎক্ষেপণের প্রধান সীমাবদ্ধতা প্রশাসনিক নয়। তবে ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন না বাড়ালে সরকারি সংস্থাই বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

চাঁদে ফেরার পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্র ২০২৮ সালের আগেই আবার মানুষকে চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এই পরিকল্পনায় বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বেডফোর্ড বলেন, নতুন উদ্ভাবনকে বাস্তবে রূপ দিতে শিল্পখাত ও সরকারের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ ভবিষ্যতের মহাকাশ মিশনগুলো হবে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বড় ও জটিল।

স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

চলতি বছরের শুরুতে স্পেসএক্স পৃথিবীর কক্ষপথে ১০ লাখ স্যাটেলাইটের বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিল। এসব স্যাটেলাইট থেকে সৌরশক্তি সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র চালানোর ধারণা নিয়েও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা হতে পারে। তবে এর সঙ্গে নিরাপত্তা, মহাকাশে ভিড় বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।