আফ্রিকার ছোট রাজতান্ত্রিক দেশ এসওয়াতিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিতাড়িত অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার একটি গোপন কর্মসূচিতে দ্রুত সম্মতি দেওয়ার পর দেশটিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। চুক্তির বৈধতা, আটক ব্যক্তিদের মানবাধিকার এবং সরকারের গোপনীয়তা নিয়ে এখন দেশটির আদালত ও জনমনে প্রশ্ন উঠছে।
গোপন বৈঠক থেকে চুক্তি
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র যখন বিভিন্ন আফ্রিকান দেশকে তৃতীয় দেশের অভিবাসী গ্রহণের প্রস্তাব দেয়, তখন এসওয়াতিনি ছিল প্রথমদিকের সম্মত দেশগুলোর একটি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী রাসেল ডলামিনি বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরে তা রাজা তৃতীয় মাসওয়াতির কাছে উপস্থাপন করেন। রাজা দ্রুতই এ পরিকল্পনায় সম্মতি দেন।
চুক্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের এসওয়াতিনিতে পাঠানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে রাজধানী এমবাবানের দক্ষিণে একটি কারাগারে রাখা হয়েছে। এর বিনিময়ে দেশটি কয়েক মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা পাবে বলে জানা গেছে।
আইনি চ্যালেঞ্জ ও মানবাধিকার প্রশ্ন
এই কর্মসূচি নিয়ে দেশটির আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা তীব্র আপত্তি তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, সংসদের অনুমোদন ছাড়া এমন চুক্তি করা সংবিধানবিরোধী। পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই, অথচ তাদের দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা হচ্ছে।
দুই আইনজীবী ইতোমধ্যে আদালতে মামলা করেছেন। তাদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের আইনজীবীর সহায়তা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। আদালত আইনজীবীদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

চরম গোপনীয়তায় পরিচালনা
চুক্তিটি এতটাই গোপন রাখা হয়েছিল যে সরকারের অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও বিষয়টি জানতেন না। এমনকি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও রাষ্ট্রের কোষাগারে আসা অর্থের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি নিরাপত্তাজনিত কারণে সীমিত পর্যায়ে রাখা হয়েছিল। তবে সমালোচকরা বলছেন, জনগণ ও সংসদকে অন্ধকারে রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী।
কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক
আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একজন মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি জানান, তিনি ভেবেছিলেন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি আটক কেন্দ্রে নেওয়া হবে, কিন্তু আফ্রিকায় পাঠানো হচ্ছে শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কারাগারে ছোট কক্ষে একাধিক মানুষকে থাকতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরেকজন বন্দির পরিবারের দাবি, অসুস্থ অবস্থায় তিনি যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না এবং মশার উপদ্রবে রাত কাটাতে হচ্ছে। এতে পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ ও মানসিক চাপে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন মাত্রা
বিশ্লেষকদের মতে, এসওয়াতিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী। দেশটি আগে থেকেই মার্কিন সহায়তার বড় সুবিধাভোগী। স্বাস্থ্য খাত ও বাণিজ্য সুবিধায় সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কাছ থেকে তুলনামূলক ভালো সমর্থনও পেয়েছে। যদিও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এই সুবিধার সঙ্গে অভিবাসী গ্রহণ চুক্তির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















