ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুদ্ধবিরতির ছয় সপ্তাহ পার হলেও শান্তি আলোচনা এখনো স্থবির অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যেই মধ্যস্থতার ভূমিকা নিয়ে সামনে এসেছে পাকিস্তান। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, দ্রুত সন্তোষজনক জবাব না পেলে আবারও হামলা শুরু হতে পারে।
কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে পাকিস্তান
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে পাকিস্তান সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানা গেছে। এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও তেহরান সফর করেছেন।
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের গতি বাড়ানো এবং আলোচনাকে কার্যকর করতে পাকিস্তান কাজ করছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের ধৈর্য কমে আসছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের কঠোর অবস্থান
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে না পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবির বিপরীত অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তেহরান সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কাছে নতুন প্রস্তাব জমা দিয়েছে। তবে সেই প্রস্তাবে আগের দাবিগুলোর পুনরাবৃত্তি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত সম্পদ ফেরতের দাবি।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কিছুদিন অপেক্ষা করতে রাজি থাকলেও প্রয়োজন হলে দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তার ভাষায়, সঠিক উত্তর না এলে পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যেতে পারে।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ডও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা বলেছে, নতুন করে হামলা হলে সংঘাত পুরো অঞ্চলের বাইরে আরও বিস্তৃত হতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করেও উত্তেজনা বাড়ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালিটির স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, এখন থেকে প্রণালি অতিক্রম করতে বিশেষ অনুমোদন প্রয়োজন হবে। যদিও চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে ইরানের সহযোগিতায় ওই পথ ব্যবহার করেছে।
অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে হাজারো মানুষের প্রাণহানির খবর এসেছে। একই সঙ্গে লেবাননেও ব্যাপক হামলা ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। পাল্টা ইরানি হামলায় ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
যুদ্ধের লক্ষ্য হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব কমানোর কথা বলা হলেও ইরান এখনো তার সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















