১১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলে পাকিস্তানের বড় জয়, ভারতকে হারিয়ে তিন পদই দখলে সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে ভারত-চীন বৈঠক, বেইজিং যাচ্ছেন অজিত ডোভাল বিজেপির ‘জেন জি’ প্রচারে কটাক্ষ, ‘ভাইরাস-ককরোচ’ মন্তব্য টেনে নিশানা সৌরভ দাসের ঝিনাইদহে ২০০ শিশুর চিকিৎসায় হিমশিম হাসপাতাল, লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ চরম ঢাকার কূটনৈতিক জোনে নিরাপত্তা জোরদার, দূতাবাসে অর্থ দাবির ই-মেইল ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি বেড়ে ৮২ চুয়াডাঙ্গায় প্রণোদনার ৫৪ বস্তা সার গায়েব, স্বাক্ষর নিয়েও সার পেলেন না কৃষকরা গ্যাস সংকটে ছয় মাসের জন্য কারখানা বন্ধ করল ফু-ওয়াং ফুডস গ্যাসের তীব্র সংকটে রাজধানীতে গাড়ির দীর্ঘ সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় চালকেরা ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে বাংলাদেশের খরচ

অফিসের বাতাসেই ক্লান্তি? দীর্ঘক্ষণ ঘরে কাজের প্রভাবে ত্বক ও স্বাস্থ্যে বাড়ছে সমস্যা

সারাদিন অফিসে বসে কাজ করার পর অনেকেরই নিজেকে ক্লান্ত, অবসন্ন ও অনুজ্জ্বল লাগে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি “অফিস এয়ার” নামে একটি নতুন প্রবণতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে কর্মজীবীরা দেখাচ্ছেন, দিনের শুরুতে সতেজ দেখালেও দীর্ঘ সময় অফিসে কাটানোর পর ত্বক, চুল ও শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।

অনেকেই অভিযোগ করছেন, দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকার কারণে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে, চুল নিষ্প্রাণ দেখাচ্ছে, চোখে ক্লান্তি আসছে এবং মনোযোগ কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বড় কারণ হতে পারে ঘরের ভেতরের বায়ুর মান।

ঘরের বাতাসে বাড়ছে ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক অফিসগুলো সাধারণত বন্ধ পরিবেশের হয়, যেখানে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক বাতাস চলাচল করে না। ফলে ঘরের ভেতরে কার্বন ডাই-অক্সাইড, ধুলাবালি, অ্যালার্জিজনিত উপাদান এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান জমতে থাকে।

এ ধরনের পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকলে মাথাব্যথা, চোখ জ্বালা, ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং মানসিক ঝিমুনির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ভিড়পূর্ণ মিটিং রুমে দীর্ঘ সময় থাকলে শরীর ও মস্তিষ্ক দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না থাকলে ভাইরাস ও জীবাণুও বাতাসে বেশি সময় ভাসমান থাকতে পারে। এতে সর্দি-কাশি, ফ্লু কিংবা অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

10 Reasons You're Tired at Work All the Time. – New Leaf Products

ত্বক ও চুলেও পড়ছে প্রভাব

দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। এতে ত্বক শুষ্ক, খসখসে ও প্রাণহীন হয়ে পড়তে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতাও কমে যেতে পারে, ফলে আগেভাগেই বলিরেখা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এছাড়া সংবেদনশীল ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে চুলকানি, লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়ার সমস্যা বাড়তে পারে। ধুলাবালি, রাসায়নিক পরিষ্কারক এবং মানসিক চাপও এসব সমস্যাকে আরও তীব্র করে তোলে।

চুল ও মাথার ত্বকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রভাব দেখা যায়। অতিরিক্ত শুষ্ক পরিবেশে মাথার ত্বক খুসকি, চুলকানি ও রুক্ষতার শিকার হতে পারে। চুল ভেঙে যাওয়া ও প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা হারানোর ঘটনাও বাড়ছে।

সমাধানে কী করবেন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অফিসে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। নিয়মিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিষ্কার রাখা এবং উন্নত মানের বায়ু পরিশোধক ব্যবহার করলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং ত্বকের সুরক্ষায় কোমল পণ্য ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সিরামাইড, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ও গ্লিসারিনসমৃদ্ধ পণ্য কার্যকর হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ শুধু প্রসাধনী নয়, জীবনযাপনের অভ্যাসও ত্বক ও স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলে পাকিস্তানের বড় জয়, ভারতকে হারিয়ে তিন পদই দখলে

অফিসের বাতাসেই ক্লান্তি? দীর্ঘক্ষণ ঘরে কাজের প্রভাবে ত্বক ও স্বাস্থ্যে বাড়ছে সমস্যা

০৭:০০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

সারাদিন অফিসে বসে কাজ করার পর অনেকেরই নিজেকে ক্লান্ত, অবসন্ন ও অনুজ্জ্বল লাগে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি “অফিস এয়ার” নামে একটি নতুন প্রবণতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে কর্মজীবীরা দেখাচ্ছেন, দিনের শুরুতে সতেজ দেখালেও দীর্ঘ সময় অফিসে কাটানোর পর ত্বক, চুল ও শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।

অনেকেই অভিযোগ করছেন, দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকার কারণে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে, চুল নিষ্প্রাণ দেখাচ্ছে, চোখে ক্লান্তি আসছে এবং মনোযোগ কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বড় কারণ হতে পারে ঘরের ভেতরের বায়ুর মান।

ঘরের বাতাসে বাড়ছে ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক অফিসগুলো সাধারণত বন্ধ পরিবেশের হয়, যেখানে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক বাতাস চলাচল করে না। ফলে ঘরের ভেতরে কার্বন ডাই-অক্সাইড, ধুলাবালি, অ্যালার্জিজনিত উপাদান এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান জমতে থাকে।

এ ধরনের পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকলে মাথাব্যথা, চোখ জ্বালা, ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং মানসিক ঝিমুনির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ভিড়পূর্ণ মিটিং রুমে দীর্ঘ সময় থাকলে শরীর ও মস্তিষ্ক দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না থাকলে ভাইরাস ও জীবাণুও বাতাসে বেশি সময় ভাসমান থাকতে পারে। এতে সর্দি-কাশি, ফ্লু কিংবা অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

10 Reasons You're Tired at Work All the Time. – New Leaf Products

ত্বক ও চুলেও পড়ছে প্রভাব

দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। এতে ত্বক শুষ্ক, খসখসে ও প্রাণহীন হয়ে পড়তে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতাও কমে যেতে পারে, ফলে আগেভাগেই বলিরেখা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এছাড়া সংবেদনশীল ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে চুলকানি, লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়ার সমস্যা বাড়তে পারে। ধুলাবালি, রাসায়নিক পরিষ্কারক এবং মানসিক চাপও এসব সমস্যাকে আরও তীব্র করে তোলে।

চুল ও মাথার ত্বকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রভাব দেখা যায়। অতিরিক্ত শুষ্ক পরিবেশে মাথার ত্বক খুসকি, চুলকানি ও রুক্ষতার শিকার হতে পারে। চুল ভেঙে যাওয়া ও প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা হারানোর ঘটনাও বাড়ছে।

সমাধানে কী করবেন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অফিসে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। নিয়মিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিষ্কার রাখা এবং উন্নত মানের বায়ু পরিশোধক ব্যবহার করলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং ত্বকের সুরক্ষায় কোমল পণ্য ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সিরামাইড, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ও গ্লিসারিনসমৃদ্ধ পণ্য কার্যকর হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ শুধু প্রসাধনী নয়, জীবনযাপনের অভ্যাসও ত্বক ও স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।