ভারতের সামাজিক মাধ্যমে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। ব্যঙ্গাত্মক এই রাজনৈতিক উদ্যোগকে ঘিরে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নিজেদের “অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর” হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই সংগঠন মূলত বেকারত্ব, তরুণদের হতাশা এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি ক্ষোভকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে।
একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন সামাজিক মাধ্যমে বড় আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের একাংশ এই উদ্যোগকে প্রতিবাদের নতুন ভাষা হিসেবে দেখছেন।
বিতর্ক থেকে জন্ম
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠনের পেছনে রয়েছে বিচার বিভাগ নিয়ে তৈরি হওয়া এক বিতর্ক। বেকার তরুণদের নিয়ে করা একটি মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। সেই ক্ষোভ থেকেই ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ’ শব্দটিকে রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত করা হয়।
এই উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। ৩০ বছর বয়সি এই তরুণ দাবি করেছেন, তরুণদের মত প্রকাশকে অবমূল্যায়ন করার প্রবণতার বিরুদ্ধেই তিনি এই আন্দোলন শুরু করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের তরুণদের সমস্যা নিয়ে কথা বলাকে অপমানের চোখে দেখা উচিত নয়।
সামাজিক মাধ্যমে বিস্ফোরক জনপ্রিয়তা
সংগঠনটির জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের অনুসারীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে। মাত্র কয়েকটি পোস্ট দিয়েই তারা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
এই জনপ্রিয়তা অনেকের কাছে শুধু হাস্যরস নয়, বরং বর্তমান সময়ের তরুণ সমাজের হতাশা ও ক্ষোভের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

কী বলছে তাদের লক্ষ্য
সংগঠনটির ওয়েবসাইটে নিজেদের এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যারা মনে করে দেশের সাধারণ মানুষকে অনেক সময় রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভুলে যায়। তাদের মূল বক্তব্য, করদাতার অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই— সেই প্রশ্ন তুলতেই এই উদ্যোগ।
তাদের ভাষায়, এটি মূলত সেই তরুণদের জন্য একটি প্রতীকী প্ল্যাটফর্ম, যাদের “অলস”, “সারাক্ষণ অনলাইনে থাকা” বা “অযোগ্য” বলে তকমা দেওয়া হয়।
ঘোষণাপত্র নিয়েও আলোচনা
সংগঠনটির ঘোষণাপত্রও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে নানা ব্যঙ্গাত্মক ভাষার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং সামাজিক বৈষম্য নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে।
তাদের দাবি, এটি কেবল হাস্যরস নয়, বরং তরুণদের বাস্তব হতাশার প্রতিচ্ছবি।
সদস্য হওয়ার শর্তও ব্যতিক্রম
সংগঠনটির সদস্যপদ নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল। তারা ধর্ম, জাত বা লিঙ্গভিত্তিক কোনো বিভাজন মানে না বলে দাবি করেছে। তবে সদস্য হওয়ার জন্য কিছু ব্যঙ্গাত্মক “যোগ্যতা” উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে বেকার হওয়া, অলস হওয়া, দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকা এবং পেশাদারভাবে অভিযোগ করতে পারার ক্ষমতা। সদস্যপদকে তারা আজীবন ও বিনামূল্যে বলে উল্লেখ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুরো বিষয়টি ব্যঙ্গাত্মক হলেও এর পেছনে লুকিয়ে আছে তরুণ সমাজের হতাশা, বেকারত্বের চাপ এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি বাড়তে থাকা অসন্তোষ। আর সেই কারণেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এখন শুধুই মজার বিষয় নয়, বরং একটি বড় সামাজিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















