পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে চার জঙ্গি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন শীর্ষ কমান্ডারও রয়েছেন, যার মাথার দাম ৩০ লাখ রুপি ঘোষণা করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, উত্তর ওয়াজিরিস্তানের স্পিনওয়াম এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিদের একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক কাজ করছিল বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়। অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের তীব্র গোলাগুলি হয়। পরে চারজন জঙ্গির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত কমান্ডার ছিলেন বড় হামলার পরিকল্পনাকারী
নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, নিহত কমান্ডারের নাম উমর, যিনি জান মির ও তোর সাকিব নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর একাধিক হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এছাড়া স্পিনওয়ামের বুবালি মসজিদ এলাকার আশপাশে তিনি গোপন বাঙ্কার, টানেল এবং বিস্ফোরক ফাঁদ তৈরি করেছিলেন বলেও জানা গেছে। অভিযান শেষে ওইসব এলাকা থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযান চলছে পুরো অঞ্চলে
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, পুরো উত্তর ওয়াজিরিস্তানজুড়ে তল্লাশি ও পরিশোধন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকা সম্ভাব্য আস্তানাগুলোতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এর আগে কয়েকদিন আগে শেওয়া এলাকায় আরেকটি অভিযানে ২২ জঙ্গিকে হত্যার দাবি করেছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। ওই অভিযানে উদ্ধার হওয়া তথ্য অনুযায়ী, জঙ্গিরা স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছিল।
সীমান্ত অঞ্চলে বাড়ছে উত্তেজনা
আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান অঞ্চলে জঙ্গি হামলার সংখ্যা বেড়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, সীমান্তের ওপার থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে।
যদিও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন দফায় আলোচনা হয়েছে, তবুও কার্যকর অগ্রগতি খুব একটা দেখা যায়নি। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশের ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল করতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















