০৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ কীভাবে ভারত-চীন সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে জ্বালানি পাসের ওয়েবসাইট খুলছে না, ঢাকার রাইড শেয়ার চালকরা লাইনে দাঁড়িয়ে দিন পার করছেন ইরান যুদ্ধ থামার আলামত দেখা যাচ্ছে, রুবিও বললেন সামান্য অগ্রগতি হয়েছে গালফে তিন বাংলাদেশি নিহত, সাতজন আহত, দেশে ১ কোটি ২০ লাখ পরিবার উদ্বিগ্ন মার্চে রেমিট্যান্স রেকর্ড ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটা আতঙ্কের ঢেউ বছর শেষে অর্ধেক পোশাক কারখানা বন্ধ হওয়ার শঙ্কা, বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন সিলেটে অভিযানে গিয়ে ছুরিকাঘাতে র‌্যাব সদস্য নিহত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা নিয়ে ভারতীয় সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক দিনেশ ত্রিবেদীর হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা ৪৯৯ রংপুরে ১৩৫ মিমি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ডুবে গেল সড়ক-বাসাবাড়ি

চট্টগ্রামে ধর্ষণচেষ্টার অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিতে বিক্ষোভ, গুলিতে আহত ৪

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় ধর্ষণচেষ্টার এক অভিযুক্তকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ছোড়া ফাঁকা গুলিতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য ও দুই সাংবাদিক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতের এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার একটি ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী মনির হোসেন নামে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি চার বছরের এক শিশুকে দোকানের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জানাজানি হলে সন্ধ্যার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন।

একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে। পরে তাকে থানায় নেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ির পথরোধ করে। বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানাতে থাকে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেখানে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

পুলিশের গাড়িতে আগুন

বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে গাড়িটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় অন্তত চারজন আহত হন।

আহতদের মধ্যে দুই সাংবাদিকের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন। এ সময় গুলিতে মামুনের কোমরে এবং নোবেলের হাত ও পায়ে আঘাত লাগে।

প্রথমে আহতদের চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী শিশুটিকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

চট্টগ্রামে ধর্ষণচেষ্টা ঘিরে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনাও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ কীভাবে ভারত-চীন সম্পর্কের নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে

চট্টগ্রামে ধর্ষণচেষ্টার অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিতে বিক্ষোভ, গুলিতে আহত ৪

০৫:৫১:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় ধর্ষণচেষ্টার এক অভিযুক্তকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ছোড়া ফাঁকা গুলিতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য ও দুই সাংবাদিক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতের এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার একটি ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী মনির হোসেন নামে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি চার বছরের এক শিশুকে দোকানের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জানাজানি হলে সন্ধ্যার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন।

একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে। পরে তাকে থানায় নেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ির পথরোধ করে। বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানাতে থাকে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেখানে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

পুলিশের গাড়িতে আগুন

বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে গাড়িটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় অন্তত চারজন আহত হন।

আহতদের মধ্যে দুই সাংবাদিকের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন মামুন আবদুল্লাহ ও নোবেল হাসান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন। এ সময় গুলিতে মামুনের কোমরে এবং নোবেলের হাত ও পায়ে আঘাত লাগে।

প্রথমে আহতদের চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী শিশুটিকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

চট্টগ্রামে ধর্ষণচেষ্টা ঘিরে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনাও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।