০১:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলে পাকিস্তানের বড় জয়, ভারতকে হারিয়ে তিন পদই দখলে সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে ভারত-চীন বৈঠক, বেইজিং যাচ্ছেন অজিত ডোভাল বিজেপির ‘জেন জি’ প্রচারে কটাক্ষ, ‘ভাইরাস-ককরোচ’ মন্তব্য টেনে নিশানা সৌরভ দাসের ঝিনাইদহে ২০০ শিশুর চিকিৎসায় হিমশিম হাসপাতাল, লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ চরম ঢাকার কূটনৈতিক জোনে নিরাপত্তা জোরদার, দূতাবাসে অর্থ দাবির ই-মেইল ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি বেড়ে ৮২ চুয়াডাঙ্গায় প্রণোদনার ৫৪ বস্তা সার গায়েব, স্বাক্ষর নিয়েও সার পেলেন না কৃষকরা গ্যাস সংকটে ছয় মাসের জন্য কারখানা বন্ধ করল ফু-ওয়াং ফুডস গ্যাসের তীব্র সংকটে রাজধানীতে গাড়ির দীর্ঘ সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় চালকেরা ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে বাংলাদেশের খরচ

রংপুরে ১৩৫ মিমি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ডুবে গেল সড়ক-বাসাবাড়ি

টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর অন্তত ২০টি এলাকার সড়ক ও আশপাশের নিচু অঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শুক্রবার ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত নগরীতে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। এতে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। একই সঙ্গে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের বিষয়টিও আবার সামনে এসেছে।

সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা যায় খামার মোড়, বাবুখা, মাস্টারপাড়া, আবহাওয়া অফিস এলাকা, চারতলা মোড় কলোনি, লালবাগ, পার্ক মোড়, মেডিকেল ক্যাম্পাস, স্টেশন এলাকা, লালবাগ রোড ও দর্শনা এলাকায়। এসব এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এছাড়া তাতীপাড়া, নীলকণ্ঠ সোটাপীর ও শান্তিবাগসহ প্রায় ৫০টি নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে।

সড়কে নোংরা পানি, দুর্ভোগে মানুষ

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপচে পড়া ড্রেনের ময়লা পানি রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পথচারী ও যান চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি তৈরি হয়। অনেক এলাকায় বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে। কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তাদের শোবার ঘর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীতে অপরিকল্পিতভাবে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। আবার অনেক এলাকায় এখনো কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থাই নেই। যেসব ড্রেন রয়েছে, সেগুলোও নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে দীর্ঘ সময়।

নীলকণ্ঠ সোটাপীর এলাকার বাসিন্দা ফজলার রহমান বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। রাস্তাঘাট ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং ঘরেও পানি ঢুকে যায়।

আবহাওয়া অফিস এলাকার বাসিন্দা রমিজ আলম বলেন, এলাকায় বড় বড় ভবন ও রাস্তা নির্মাণ হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক পানির নিচে চলে যায় এবং মানুষকে নোংরা পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়।

শ্যামাসুন্দরী খাল নিয়ে ক্ষোভ

নগরবাসীর ক্ষোভের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে শ্যামাসুন্দরী খাল। রংপুর নগরীর ‘ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত এই খালের সংস্কার কাজ সম্প্রতি শুরু হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। জনদাবির মুখে শুরু হওয়া খনন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন আরও ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

চারতলা মোড় কলোনির বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, অপরিকল্পিত নির্মাণ ও অপরিষ্কার ড্রেন পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে। অনেক ড্রেন ময়লায় আটকে থাকলেও তা পরিষ্কারে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।

সিটি করপোরেশনের বক্তব্য

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে।

তিনি শ্যামাসুন্দরী খাল খনন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিও আহ্বান জানান।

এদিকে আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলে পাকিস্তানের বড় জয়, ভারতকে হারিয়ে তিন পদই দখলে

রংপুরে ১৩৫ মিমি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ডুবে গেল সড়ক-বাসাবাড়ি

০৬:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর অন্তত ২০টি এলাকার সড়ক ও আশপাশের নিচু অঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শুক্রবার ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত নগরীতে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। এতে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। একই সঙ্গে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের বিষয়টিও আবার সামনে এসেছে।

সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা যায় খামার মোড়, বাবুখা, মাস্টারপাড়া, আবহাওয়া অফিস এলাকা, চারতলা মোড় কলোনি, লালবাগ, পার্ক মোড়, মেডিকেল ক্যাম্পাস, স্টেশন এলাকা, লালবাগ রোড ও দর্শনা এলাকায়। এসব এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এছাড়া তাতীপাড়া, নীলকণ্ঠ সোটাপীর ও শান্তিবাগসহ প্রায় ৫০টি নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে।

সড়কে নোংরা পানি, দুর্ভোগে মানুষ

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপচে পড়া ড্রেনের ময়লা পানি রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পথচারী ও যান চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি তৈরি হয়। অনেক এলাকায় বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে। কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তাদের শোবার ঘর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীতে অপরিকল্পিতভাবে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। আবার অনেক এলাকায় এখনো কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থাই নেই। যেসব ড্রেন রয়েছে, সেগুলোও নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে দীর্ঘ সময়।

নীলকণ্ঠ সোটাপীর এলাকার বাসিন্দা ফজলার রহমান বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। রাস্তাঘাট ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং ঘরেও পানি ঢুকে যায়।

আবহাওয়া অফিস এলাকার বাসিন্দা রমিজ আলম বলেন, এলাকায় বড় বড় ভবন ও রাস্তা নির্মাণ হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক পানির নিচে চলে যায় এবং মানুষকে নোংরা পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়।

শ্যামাসুন্দরী খাল নিয়ে ক্ষোভ

নগরবাসীর ক্ষোভের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে শ্যামাসুন্দরী খাল। রংপুর নগরীর ‘ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত এই খালের সংস্কার কাজ সম্প্রতি শুরু হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। জনদাবির মুখে শুরু হওয়া খনন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন আরও ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

চারতলা মোড় কলোনির বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, অপরিকল্পিত নির্মাণ ও অপরিষ্কার ড্রেন পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে। অনেক ড্রেন ময়লায় আটকে থাকলেও তা পরিষ্কারে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।

সিটি করপোরেশনের বক্তব্য

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে।

তিনি শ্যামাসুন্দরী খাল খনন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিও আহ্বান জানান।

এদিকে আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।