০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
ফ্রান্স-আলজেরিয়া সম্পর্কের শিক্ষা: সংঘাত নয়, কূটনীতির পথই কি শেষ পর্যন্ত জয়ী? নতুন এলাকায় বন্যার শঙ্কা, বিপৎসীমার ওপরে তিন নদীর পানি বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে দেশে মৃত ৫৪, আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে আরও এক সন্দেহভাজন হামে শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭৫৯ কর্ণাটকের মুকাম্বিকা মন্দিরে হাতি চেয়ে কেরালাকে অনুরোধ, নতুন আলোচনা দুই রাজ্যে ওলি রবিনসের আইনি লড়াই, বরখাস্তের সিদ্ধান্ত ঘিরে যুক্তরাজ্যে নতুন বিতর্ক চীনের বিমানবাহী রণতরী শক্তি বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনা, পাইলট ও নাবিক তৈরিতে বড় পরিবর্তন জাপানে বিদেশি কর্মী বাড়ায় রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে বিদেশে পাঠানো হলো ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন ভিয়েতনামে ৩০ কোটি ডলারের বিশাল কারখানা খুলল সানটোরি পেপসিকো, লক্ষ্য স্বাস্থ্যকর পানীয়ের বাড়তি বাজার যুক্তরাষ্ট্রের দখলে হিলিয়াম বাজার, ইরান যুদ্ধ ও চীনের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় চাপে এশিয়ার চিপ শিল্প

রোমান সাম্রাজ্যের অহংকার ভেঙে দিয়েছিল ইহুদি বিদ্রোহ, ধ্বংস হয়েছিল পুরো একটি লিজিয়ন

বিশ্ব ইতিহাসে রোমান সাম্রাজ্যকে দীর্ঘদিন ধরে অপ্রতিরোধ্য সামরিক শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু এমনও সময় ছিল, যখন সেই শক্তিশালী বাহিনী ভয়াবহ পরাজয়ের মুখে পড়ে। খ্রিস্টাব্দ ৬৬ সালে জুডিয়ায় ঘটে যাওয়া এক হামলায় রোমানদের একটি পূর্ণাঙ্গ লিজিয়ন প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এই ঘটনা শুধু সামরিক বিপর্যয়ই ছিল না, বরং রোমান শাসনের দুর্বলতাও প্রকাশ করে দেয়।

বিদ্রোহে কেঁপে উঠেছিল জুডিয়া

রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে থাকা জুডিয়া অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির ছিল। ধর্মীয় উত্তেজনা, বিদেশি শাসনের প্রতি ক্ষোভ এবং স্থানীয় জনগণের অসন্তোষ ধীরে ধীরে বড় ধরনের বিদ্রোহে রূপ নেয়। সেই বিদ্রোহই ইতিহাসে প্রথম ইহুদি বিদ্রোহ নামে পরিচিত।

রোমানরা মনে করেছিল, সীমিত সামরিক শক্তি দিয়েই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। কারণ তারা সাধারণত স্থানীয় সহযোগী গোষ্ঠী ও আঞ্চলিক নেতাদের ওপর নির্ভর করত। কিন্তু এই কৌশল জুডিয়ায় ব্যর্থ হয়। বিদ্রোহ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিরিয়ার গভর্নর সেস্টিয়াস গ্যালাসকে।

বেথ হোরনের ফাঁদে রোমানদের বিপর্যয়

সেস্টিয়াস গ্যালাস প্রায় ৩০ হাজার সৈন্য নিয়ে জেরুজালেমের দিকে অগ্রসর হন। তবে তিনি বিদ্রোহীদের শক্তিকে গুরুত্ব দেননি। ধারণা করেছিলেন, সামরিক উপস্থিতিই বিদ্রোহ দমন করতে যথেষ্ট হবে।

কিন্তু জেরুজালেম অবরোধে না গিয়ে তিনি পিছু হটার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তই পরে ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফেরার পথে বেথ হোরনের সংকীর্ণ উপত্যকায় বিদ্রোহীরা রোমান বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পাহাড়ি উঁচু অবস্থান থেকে আক্রমণের কারণে রোমান সৈন্যরা সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।

এই হামলায় হাজার হাজার সৈন্য নিহত হয় এবং একটি রোমান লিজিয়ন কার্যত ধ্বংস হয়ে যায়। রোমান সাম্রাজ্যের জন্য এটি ছিল গভীর অপমানের ঘটনা।

First Jewish–Roman War - Wikipedia

রোমের পাল্টা অভিযান

এই পরাজয়ের পর সম্রাট নিরো নতুন সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। নেতৃত্ব দেওয়া হয় ভেসপাসিয়ানকে, যিনি পরে নিজেই রোমান সম্রাট হন। তিনি আগের তুলনায় অনেক বড় বাহিনী নিয়ে অভিযান শুরু করেন।

খ্রিস্টাব্দ ৬৭ সালে উত্তর জুডিয়া থেকে একের পর এক বিদ্রোহী ঘাঁটি দখল করতে থাকেন ভেসপাসিয়ান। বেঁচে যাওয়া বিদ্রোহীরা শেষ পর্যন্ত জেরুজালেমে আশ্রয় নেয়। পরে তার ছেলে টাইটাসের নেতৃত্বে খ্রিস্টাব্দ ৭০ সালে জেরুজালেম দখল এবং দ্বিতীয় মন্দির ধ্বংস করা হয়।

অহংকারই হয়েছিল বড় ভুল

ইতিহাসবিদদের মতে, রোমানদের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল নিজেদের অজেয় মনে করা। তারা বিশ্বাস করত, দখল করা জনগোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত রোমের শাসন মেনে নেবে। কিন্তু জুডিয়ার বিদ্রোহ দেখিয়ে দেয়, স্থানীয় প্রতিরোধকে ছোট করে দেখার ফল কত ভয়াবহ হতে পারে।

বেথ হোরনের যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক পরাজয় ছিল না, বরং এটি ছিল রোমান সাম্রাজ্যের আত্মবিশ্বাসে বড় আঘাত। সেই ঘটনাই পরবর্তীতে রোমকে আরও কঠোর ও বৃহৎ সামরিক অভিযান চালাতে বাধ্য করে।

রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ইহুদি বিদ্রোহে ধ্বংস হয়েছিল পুরো একটি লিজিয়ন। বেথ হোরনের সেই হামলা বদলে দেয় জুডিয়ার ইতিহাস।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্রান্স-আলজেরিয়া সম্পর্কের শিক্ষা: সংঘাত নয়, কূটনীতির পথই কি শেষ পর্যন্ত জয়ী?

রোমান সাম্রাজ্যের অহংকার ভেঙে দিয়েছিল ইহুদি বিদ্রোহ, ধ্বংস হয়েছিল পুরো একটি লিজিয়ন

০৮:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

বিশ্ব ইতিহাসে রোমান সাম্রাজ্যকে দীর্ঘদিন ধরে অপ্রতিরোধ্য সামরিক শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু এমনও সময় ছিল, যখন সেই শক্তিশালী বাহিনী ভয়াবহ পরাজয়ের মুখে পড়ে। খ্রিস্টাব্দ ৬৬ সালে জুডিয়ায় ঘটে যাওয়া এক হামলায় রোমানদের একটি পূর্ণাঙ্গ লিজিয়ন প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এই ঘটনা শুধু সামরিক বিপর্যয়ই ছিল না, বরং রোমান শাসনের দুর্বলতাও প্রকাশ করে দেয়।

বিদ্রোহে কেঁপে উঠেছিল জুডিয়া

রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে থাকা জুডিয়া অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির ছিল। ধর্মীয় উত্তেজনা, বিদেশি শাসনের প্রতি ক্ষোভ এবং স্থানীয় জনগণের অসন্তোষ ধীরে ধীরে বড় ধরনের বিদ্রোহে রূপ নেয়। সেই বিদ্রোহই ইতিহাসে প্রথম ইহুদি বিদ্রোহ নামে পরিচিত।

রোমানরা মনে করেছিল, সীমিত সামরিক শক্তি দিয়েই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। কারণ তারা সাধারণত স্থানীয় সহযোগী গোষ্ঠী ও আঞ্চলিক নেতাদের ওপর নির্ভর করত। কিন্তু এই কৌশল জুডিয়ায় ব্যর্থ হয়। বিদ্রোহ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিরিয়ার গভর্নর সেস্টিয়াস গ্যালাসকে।

বেথ হোরনের ফাঁদে রোমানদের বিপর্যয়

সেস্টিয়াস গ্যালাস প্রায় ৩০ হাজার সৈন্য নিয়ে জেরুজালেমের দিকে অগ্রসর হন। তবে তিনি বিদ্রোহীদের শক্তিকে গুরুত্ব দেননি। ধারণা করেছিলেন, সামরিক উপস্থিতিই বিদ্রোহ দমন করতে যথেষ্ট হবে।

কিন্তু জেরুজালেম অবরোধে না গিয়ে তিনি পিছু হটার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তই পরে ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফেরার পথে বেথ হোরনের সংকীর্ণ উপত্যকায় বিদ্রোহীরা রোমান বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পাহাড়ি উঁচু অবস্থান থেকে আক্রমণের কারণে রোমান সৈন্যরা সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।

এই হামলায় হাজার হাজার সৈন্য নিহত হয় এবং একটি রোমান লিজিয়ন কার্যত ধ্বংস হয়ে যায়। রোমান সাম্রাজ্যের জন্য এটি ছিল গভীর অপমানের ঘটনা।

First Jewish–Roman War - Wikipedia

রোমের পাল্টা অভিযান

এই পরাজয়ের পর সম্রাট নিরো নতুন সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। নেতৃত্ব দেওয়া হয় ভেসপাসিয়ানকে, যিনি পরে নিজেই রোমান সম্রাট হন। তিনি আগের তুলনায় অনেক বড় বাহিনী নিয়ে অভিযান শুরু করেন।

খ্রিস্টাব্দ ৬৭ সালে উত্তর জুডিয়া থেকে একের পর এক বিদ্রোহী ঘাঁটি দখল করতে থাকেন ভেসপাসিয়ান। বেঁচে যাওয়া বিদ্রোহীরা শেষ পর্যন্ত জেরুজালেমে আশ্রয় নেয়। পরে তার ছেলে টাইটাসের নেতৃত্বে খ্রিস্টাব্দ ৭০ সালে জেরুজালেম দখল এবং দ্বিতীয় মন্দির ধ্বংস করা হয়।

অহংকারই হয়েছিল বড় ভুল

ইতিহাসবিদদের মতে, রোমানদের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল নিজেদের অজেয় মনে করা। তারা বিশ্বাস করত, দখল করা জনগোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত রোমের শাসন মেনে নেবে। কিন্তু জুডিয়ার বিদ্রোহ দেখিয়ে দেয়, স্থানীয় প্রতিরোধকে ছোট করে দেখার ফল কত ভয়াবহ হতে পারে।

বেথ হোরনের যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক পরাজয় ছিল না, বরং এটি ছিল রোমান সাম্রাজ্যের আত্মবিশ্বাসে বড় আঘাত। সেই ঘটনাই পরবর্তীতে রোমকে আরও কঠোর ও বৃহৎ সামরিক অভিযান চালাতে বাধ্য করে।

রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ইহুদি বিদ্রোহে ধ্বংস হয়েছিল পুরো একটি লিজিয়ন। বেথ হোরনের সেই হামলা বদলে দেয় জুডিয়ার ইতিহাস।