১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
সাধারণ ফিট প্রাপ্তবয়স্কদের দৌড়ের সক্ষমতা কতটা? কিশোর অ্যাথলেটদের দৌড়ে রেকর্ডের বন্যা, বদলে যাচ্ছে ট্র্যাকের পুরোনো হিসাব সৌদি নেতৃত্বেই কি নিরাপদ হবে লোহিত সাগর, থামবে হুতিদের দাপট? ‘মক্কা চুক্তি’: যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তার বাইরে নতুন মুসলিম শক্তির সমীকরণ ইসরায়েলে নির্বাচন সামনে, অথচ অকার্যকর রাষ্ট্রীয় তদারকি: গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক সংকেত পাচার করা অর্থ ফেরত আনা কি সম্ভব? মধ্যম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দৌড়েও অবিশ্বাস্য গতি, রেকর্ড ভাঙল একের পর এক স্বাধীন ভারতের প্রথম জাতিভিত্তিক জনগণনায় নেতৃত্ব দেবে লাদাখ বিহারের ধাক্কার পর উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণের ক্ষোভ কি চাপে ফেলবে বিজেপিকে? দিল্লির অভিজাতদের স্বপ্নের বাড়ি দেখিয়ে ২০০ কোটি টাকার প্রতারণা!

নারী যৌনতার ইতিহাসে লুকানো ক্ষমতার রাজনীতি, নতুন বই ঘিরে আলোড়ন

নারীর যৌনতা নিয়ে সমাজের প্রচলিত ধারণা কতটা বাস্তব আর কতটা ক্ষমতার কাঠামো তৈরি করা কল্পনা— সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনেছে ইতিহাসবিদ কেট লিস্টারের বই। নারী আনন্দ, আকাঙ্ক্ষা ও যৌন স্বাধীনতাকে ঘিরে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা সামাজিক ও ধর্মীয় ধারণার ইতিহাস তুলে এনে বইটি ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছে।

নারীর শরীর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ধারণাগুলো যে আসলে সমাজ ও ক্ষমতার সম্পর্কের প্রতিফলন, বইটিতে সেটিই বিশদভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, বইটি একই সঙ্গে রসাত্মক, তথ্যসমৃদ্ধ এবং তীব্র রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।

দেবী থেকে ‘পাপী’ নারীর ধারণা

বইটির শুরু প্রাচীন যুগ থেকে। তখন যৌনতা ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে দেবীদের দেখা হতো। নারী আকাঙ্ক্ষাকে তখন সামাজিক বিপদ হিসেবে নয়, বরং শক্তির উৎস হিসেবেই বিবেচনা করা হতো।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও সামাজিক নিয়ম নারীকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলে— ‘পবিত্র’ নারী ও ‘অপবিত্র’ নারী। এই বিভাজনের মধ্য দিয়েই নারীর ইচ্ছা ও স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে বলে বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও নিয়ন্ত্রণের ইতিহাস

মধ্যযুগ থেকে আধুনিক সময় পর্যন্ত নারীর শরীর নিয়ে নানা অদ্ভুত ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন ধারণা সমাজে প্রচলিত ছিল। কখনও বলা হয়েছে নারীরা অতিরিক্ত কামুক, আবার পরে তাদের ‘নিষ্পাপ’ ও ‘আবেগহীন’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

বইটিতে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নামে নারীর আনন্দকে দমন করার নানা নির্মম প্রক্রিয়া। নারী যৌনতা নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের ভূমিকা, অদ্ভুত চিকিৎসা পদ্ধতি এবং সামাজিক চাপের বিষয়গুলো পাঠকদের সামনে নতুনভাবে হাজির করা হয়েছে।

লেখকের ভাষ্যে, নারীদেহ নিয়ে এই সব ধারণা আসলে বৈজ্ঞানিক সত্যের চেয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার প্রতিফলন বেশি।

Exploring the Hidden Power of Female Sexuality: Piontek, Maitreyi D.:  9781578632183: Amazon.com: Books

যৌন বিপ্লবের আড়ালের বাস্তবতা

বইটিতে সাম্প্রতিক যৌন স্বাধীনতার আন্দোলন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাহ্যিকভাবে স্বাধীনতার কথা বলা হলেও দরিদ্র নারী, বর্ণবাদে আক্রান্ত নারী, সমকামী নারী বা প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য সেই স্বাধীনতা সমানভাবে কাজ করেনি বলে দাবি করা হয়েছে।

নারী যৌনতার ইতিহাস বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সমকামী সম্পর্কের ইতিহাসও তুলে আনা হয়েছে। বহু সময়ে নারীদের পারস্পরিক সম্পর্ককে ‘বাস্তব যৌনতা’ হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি বলে বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান সমাজেও রয়ে গেছে পুরনো ধারণা

লেখকের মতে, ইতিহাসের পুরনো শিক্ষা এখনো সমাজে সক্রিয়। শরীর, লিঙ্গ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অতীতের ধারণাগুলো আজও মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও যৌন অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করছে।

সমালোচকদের ধারণা, বইটি অনেক পাঠকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। বিশেষ করে যারা এখনো নারী যৌনতাকে পুরুষকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে অভ্যস্ত, তাদের কাছে বইটির বক্তব্য চ্যালেঞ্জের মতো মনে হতে পারে।

তবে একই সঙ্গে বইটি নারী ইতিহাস, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং যৌন রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাধারণ ফিট প্রাপ্তবয়স্কদের দৌড়ের সক্ষমতা কতটা?

নারী যৌনতার ইতিহাসে লুকানো ক্ষমতার রাজনীতি, নতুন বই ঘিরে আলোড়ন

০৮:৩০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

নারীর যৌনতা নিয়ে সমাজের প্রচলিত ধারণা কতটা বাস্তব আর কতটা ক্ষমতার কাঠামো তৈরি করা কল্পনা— সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনেছে ইতিহাসবিদ কেট লিস্টারের বই। নারী আনন্দ, আকাঙ্ক্ষা ও যৌন স্বাধীনতাকে ঘিরে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা সামাজিক ও ধর্মীয় ধারণার ইতিহাস তুলে এনে বইটি ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছে।

নারীর শরীর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ধারণাগুলো যে আসলে সমাজ ও ক্ষমতার সম্পর্কের প্রতিফলন, বইটিতে সেটিই বিশদভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, বইটি একই সঙ্গে রসাত্মক, তথ্যসমৃদ্ধ এবং তীব্র রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।

দেবী থেকে ‘পাপী’ নারীর ধারণা

বইটির শুরু প্রাচীন যুগ থেকে। তখন যৌনতা ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে দেবীদের দেখা হতো। নারী আকাঙ্ক্ষাকে তখন সামাজিক বিপদ হিসেবে নয়, বরং শক্তির উৎস হিসেবেই বিবেচনা করা হতো।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও সামাজিক নিয়ম নারীকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলে— ‘পবিত্র’ নারী ও ‘অপবিত্র’ নারী। এই বিভাজনের মধ্য দিয়েই নারীর ইচ্ছা ও স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে বলে বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও নিয়ন্ত্রণের ইতিহাস

মধ্যযুগ থেকে আধুনিক সময় পর্যন্ত নারীর শরীর নিয়ে নানা অদ্ভুত ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন ধারণা সমাজে প্রচলিত ছিল। কখনও বলা হয়েছে নারীরা অতিরিক্ত কামুক, আবার পরে তাদের ‘নিষ্পাপ’ ও ‘আবেগহীন’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

বইটিতে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নামে নারীর আনন্দকে দমন করার নানা নির্মম প্রক্রিয়া। নারী যৌনতা নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের ভূমিকা, অদ্ভুত চিকিৎসা পদ্ধতি এবং সামাজিক চাপের বিষয়গুলো পাঠকদের সামনে নতুনভাবে হাজির করা হয়েছে।

লেখকের ভাষ্যে, নারীদেহ নিয়ে এই সব ধারণা আসলে বৈজ্ঞানিক সত্যের চেয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার প্রতিফলন বেশি।

Exploring the Hidden Power of Female Sexuality: Piontek, Maitreyi D.:  9781578632183: Amazon.com: Books

যৌন বিপ্লবের আড়ালের বাস্তবতা

বইটিতে সাম্প্রতিক যৌন স্বাধীনতার আন্দোলন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাহ্যিকভাবে স্বাধীনতার কথা বলা হলেও দরিদ্র নারী, বর্ণবাদে আক্রান্ত নারী, সমকামী নারী বা প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য সেই স্বাধীনতা সমানভাবে কাজ করেনি বলে দাবি করা হয়েছে।

নারী যৌনতার ইতিহাস বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সমকামী সম্পর্কের ইতিহাসও তুলে আনা হয়েছে। বহু সময়ে নারীদের পারস্পরিক সম্পর্ককে ‘বাস্তব যৌনতা’ হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি বলে বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান সমাজেও রয়ে গেছে পুরনো ধারণা

লেখকের মতে, ইতিহাসের পুরনো শিক্ষা এখনো সমাজে সক্রিয়। শরীর, লিঙ্গ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অতীতের ধারণাগুলো আজও মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও যৌন অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করছে।

সমালোচকদের ধারণা, বইটি অনেক পাঠকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। বিশেষ করে যারা এখনো নারী যৌনতাকে পুরুষকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে অভ্যস্ত, তাদের কাছে বইটির বক্তব্য চ্যালেঞ্জের মতো মনে হতে পারে।

তবে একই সঙ্গে বইটি নারী ইতিহাস, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং যৌন রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।