০৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
শিশুকে বহনের জন্যই কি তৈরি হয়েছিল মানুষের প্রথম সরঞ্জাম? নতুন গবেষণায় উঠে এলো চমকপ্রদ তথ্য আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধকে নতুন চোখে দেখার বিশ্বইতিহাস ক্যানেস চলচ্চিত্র উৎসবে শিক্ষার্থী চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা, নতুন মুখদের বৈশ্বিক স্বীকৃতি ইরান যুদ্ধে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট শিক্ষাতেও ধাক্কা দিয়েছে আদালতে বাণিজ্যিক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির আইনে চারটি সমস্যা সারানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন আইনমন্ত্রী এডিবির হিসাবে ইরান যুদ্ধ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ১.৩ শতাংশ কমাতে পারে, বাংলাদেশ বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রোমান সাম্রাজ্যের অহংকার ভেঙে দিয়েছিল ইহুদি বিদ্রোহ, ধ্বংস হয়েছিল পুরো একটি লিজিয়ন এথেন্স-স্পার্টার রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্ব: যেভাবে ভেঙে পড়েছিল প্রাচীন গ্রিসের ঐক্য ভিক্টোরিয়ান যুগে ট্রেনভ্রমণের আতঙ্ক, ‘রেলওয়ে উন্মাদনা’ কীভাবে ছড়িয়েছিল ব্রিটেনে নারী যৌনতার ইতিহাসে লুকানো ক্ষমতার রাজনীতি, নতুন বই ঘিরে আলোড়ন

নারী যৌনতার ইতিহাসে লুকানো ক্ষমতার রাজনীতি, নতুন বই ঘিরে আলোড়ন

নারীর যৌনতা নিয়ে সমাজের প্রচলিত ধারণা কতটা বাস্তব আর কতটা ক্ষমতার কাঠামো তৈরি করা কল্পনা— সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনেছে ইতিহাসবিদ কেট লিস্টারের বই। নারী আনন্দ, আকাঙ্ক্ষা ও যৌন স্বাধীনতাকে ঘিরে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা সামাজিক ও ধর্মীয় ধারণার ইতিহাস তুলে এনে বইটি ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছে।

নারীর শরীর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ধারণাগুলো যে আসলে সমাজ ও ক্ষমতার সম্পর্কের প্রতিফলন, বইটিতে সেটিই বিশদভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, বইটি একই সঙ্গে রসাত্মক, তথ্যসমৃদ্ধ এবং তীব্র রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।

দেবী থেকে ‘পাপী’ নারীর ধারণা

বইটির শুরু প্রাচীন যুগ থেকে। তখন যৌনতা ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে দেবীদের দেখা হতো। নারী আকাঙ্ক্ষাকে তখন সামাজিক বিপদ হিসেবে নয়, বরং শক্তির উৎস হিসেবেই বিবেচনা করা হতো।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও সামাজিক নিয়ম নারীকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলে— ‘পবিত্র’ নারী ও ‘অপবিত্র’ নারী। এই বিভাজনের মধ্য দিয়েই নারীর ইচ্ছা ও স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে বলে বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও নিয়ন্ত্রণের ইতিহাস

মধ্যযুগ থেকে আধুনিক সময় পর্যন্ত নারীর শরীর নিয়ে নানা অদ্ভুত ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন ধারণা সমাজে প্রচলিত ছিল। কখনও বলা হয়েছে নারীরা অতিরিক্ত কামুক, আবার পরে তাদের ‘নিষ্পাপ’ ও ‘আবেগহীন’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

বইটিতে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নামে নারীর আনন্দকে দমন করার নানা নির্মম প্রক্রিয়া। নারী যৌনতা নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের ভূমিকা, অদ্ভুত চিকিৎসা পদ্ধতি এবং সামাজিক চাপের বিষয়গুলো পাঠকদের সামনে নতুনভাবে হাজির করা হয়েছে।

লেখকের ভাষ্যে, নারীদেহ নিয়ে এই সব ধারণা আসলে বৈজ্ঞানিক সত্যের চেয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার প্রতিফলন বেশি।

Exploring the Hidden Power of Female Sexuality: Piontek, Maitreyi D.:  9781578632183: Amazon.com: Books

যৌন বিপ্লবের আড়ালের বাস্তবতা

বইটিতে সাম্প্রতিক যৌন স্বাধীনতার আন্দোলন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাহ্যিকভাবে স্বাধীনতার কথা বলা হলেও দরিদ্র নারী, বর্ণবাদে আক্রান্ত নারী, সমকামী নারী বা প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য সেই স্বাধীনতা সমানভাবে কাজ করেনি বলে দাবি করা হয়েছে।

নারী যৌনতার ইতিহাস বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সমকামী সম্পর্কের ইতিহাসও তুলে আনা হয়েছে। বহু সময়ে নারীদের পারস্পরিক সম্পর্ককে ‘বাস্তব যৌনতা’ হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি বলে বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান সমাজেও রয়ে গেছে পুরনো ধারণা

লেখকের মতে, ইতিহাসের পুরনো শিক্ষা এখনো সমাজে সক্রিয়। শরীর, লিঙ্গ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অতীতের ধারণাগুলো আজও মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও যৌন অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করছে।

সমালোচকদের ধারণা, বইটি অনেক পাঠকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। বিশেষ করে যারা এখনো নারী যৌনতাকে পুরুষকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে অভ্যস্ত, তাদের কাছে বইটির বক্তব্য চ্যালেঞ্জের মতো মনে হতে পারে।

তবে একই সঙ্গে বইটি নারী ইতিহাস, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং যৌন রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুকে বহনের জন্যই কি তৈরি হয়েছিল মানুষের প্রথম সরঞ্জাম? নতুন গবেষণায় উঠে এলো চমকপ্রদ তথ্য

নারী যৌনতার ইতিহাসে লুকানো ক্ষমতার রাজনীতি, নতুন বই ঘিরে আলোড়ন

০৮:৩০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

নারীর যৌনতা নিয়ে সমাজের প্রচলিত ধারণা কতটা বাস্তব আর কতটা ক্ষমতার কাঠামো তৈরি করা কল্পনা— সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনেছে ইতিহাসবিদ কেট লিস্টারের বই। নারী আনন্দ, আকাঙ্ক্ষা ও যৌন স্বাধীনতাকে ঘিরে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা সামাজিক ও ধর্মীয় ধারণার ইতিহাস তুলে এনে বইটি ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছে।

নারীর শরীর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ধারণাগুলো যে আসলে সমাজ ও ক্ষমতার সম্পর্কের প্রতিফলন, বইটিতে সেটিই বিশদভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, বইটি একই সঙ্গে রসাত্মক, তথ্যসমৃদ্ধ এবং তীব্র রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।

দেবী থেকে ‘পাপী’ নারীর ধারণা

বইটির শুরু প্রাচীন যুগ থেকে। তখন যৌনতা ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে দেবীদের দেখা হতো। নারী আকাঙ্ক্ষাকে তখন সামাজিক বিপদ হিসেবে নয়, বরং শক্তির উৎস হিসেবেই বিবেচনা করা হতো।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও সামাজিক নিয়ম নারীকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলে— ‘পবিত্র’ নারী ও ‘অপবিত্র’ নারী। এই বিভাজনের মধ্য দিয়েই নারীর ইচ্ছা ও স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে বলে বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও নিয়ন্ত্রণের ইতিহাস

মধ্যযুগ থেকে আধুনিক সময় পর্যন্ত নারীর শরীর নিয়ে নানা অদ্ভুত ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন ধারণা সমাজে প্রচলিত ছিল। কখনও বলা হয়েছে নারীরা অতিরিক্ত কামুক, আবার পরে তাদের ‘নিষ্পাপ’ ও ‘আবেগহীন’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

বইটিতে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নামে নারীর আনন্দকে দমন করার নানা নির্মম প্রক্রিয়া। নারী যৌনতা নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকদের ভূমিকা, অদ্ভুত চিকিৎসা পদ্ধতি এবং সামাজিক চাপের বিষয়গুলো পাঠকদের সামনে নতুনভাবে হাজির করা হয়েছে।

লেখকের ভাষ্যে, নারীদেহ নিয়ে এই সব ধারণা আসলে বৈজ্ঞানিক সত্যের চেয়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার প্রতিফলন বেশি।

Exploring the Hidden Power of Female Sexuality: Piontek, Maitreyi D.:  9781578632183: Amazon.com: Books

যৌন বিপ্লবের আড়ালের বাস্তবতা

বইটিতে সাম্প্রতিক যৌন স্বাধীনতার আন্দোলন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাহ্যিকভাবে স্বাধীনতার কথা বলা হলেও দরিদ্র নারী, বর্ণবাদে আক্রান্ত নারী, সমকামী নারী বা প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য সেই স্বাধীনতা সমানভাবে কাজ করেনি বলে দাবি করা হয়েছে।

নারী যৌনতার ইতিহাস বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সমকামী সম্পর্কের ইতিহাসও তুলে আনা হয়েছে। বহু সময়ে নারীদের পারস্পরিক সম্পর্ককে ‘বাস্তব যৌনতা’ হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি বলে বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান সমাজেও রয়ে গেছে পুরনো ধারণা

লেখকের মতে, ইতিহাসের পুরনো শিক্ষা এখনো সমাজে সক্রিয়। শরীর, লিঙ্গ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অতীতের ধারণাগুলো আজও মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও যৌন অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করছে।

সমালোচকদের ধারণা, বইটি অনেক পাঠকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। বিশেষ করে যারা এখনো নারী যৌনতাকে পুরুষকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে অভ্যস্ত, তাদের কাছে বইটির বক্তব্য চ্যালেঞ্জের মতো মনে হতে পারে।

তবে একই সঙ্গে বইটি নারী ইতিহাস, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং যৌন রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।