বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন দিনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এবং সামরিক বাহিনীগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায়, বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৈঠকটি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২৭ এপ্রিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেয়। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, তিনি আগামী মাসের শুরুতেই দায়িত্ব নিতে পারেন।
সীমান্ত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় গুরুত্ব
ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে উভয় পক্ষই ইতিবাচক আলোচনা করেছে। সামরিক বাহিনীগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন হাইকমিশনারের এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন দায়িত্বে দিনেশ ত্রিবেদী
দিনেশ ত্রিবেদী ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স বা ইউপিএ সরকারের সময় তিনি রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তখন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন।
পরে ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। একই বছরের ৬ মার্চ তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিতে যোগ দেন।
এদিকে বর্তমান ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি চলতি মাসের শেষ দিকে ঢাকা থেকে সরাসরি ব্রাসেলসে যাবেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়
দিনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন পর্ব হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা, সামরিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো আগামী সময়ে দুই দেশের আলোচনায় আরও গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















