০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
মতভেদ থেকে তাকফির: ধর্মের ব্যাখ্যা যখন সহিংসতার অস্ত্রে পরিণত হয় সৌদি আরবের উন্নয়নের নতুন মানদণ্ড: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি শুধু প্রযুক্তি, নাকি রাষ্ট্রের সক্ষমতার পরীক্ষা? জীবাণু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, নতুন হুমকি বায়োসন্ত্রাস কোরিয়ার ছোঁয়ায় নতুন স্বাদের ইনারি-সুশি: ভুট্টা, টোফু আর ঝাল মাখনের অনন্য মেলবন্ধন উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার সামরিক জোটে বদলে যাচ্ছে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা সমীকরণ টানা পঞ্চম মাসে টয়োটার বৈশ্বিক বিক্রি কমল, চাপ বাড়ছে গাড়ি শিল্পে ইরানকে থামাতে পারবে কি চীন? উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন কূটনৈতিক পরীক্ষা বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কুমামোতো, ফিরছে পরিবহন ও শিল্প কার্যক্রম পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ল অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল

কাতারে হামলার পরও ইরান যুদ্ধ থামাতে তেহরানে দোহারের বিশেষ উদ্যোগ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের উত্তেজনার মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে কাতার। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর এবার তেহরানে একটি বিশেষ আলোচক দল পাঠিয়েছে দোহা। লক্ষ্য, চলমান সংঘাতের অবসান এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে একটি চূড়ান্ত সমঝোতা নিশ্চিত করা।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাতারের প্রতিনিধিদল শুক্রবার তেহরানে পৌঁছায়। তারা ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করা এবং আটকে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজবে।

সংঘাতের মধ্যেও কাতারের নতুন ভূমিকা

গাজা যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকা আগেও ছিল আলোচনায়। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কাতারের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দোহা কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছিল।

Qatar suspends its role as mediator in Gaza war : NPR

বিশেষ করে রাস লাফান এলাকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনায় হামলার কারণে কাতারের জ্বালানি খাত বড় ধাক্কা খায়। এতে দেশটির গ্যাস রপ্তানি সক্ষমতার একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপরও কাতারের আবার আলোচনায় ফিরে আসা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি থাকলেও অচলাবস্থা কাটেনি

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত এখন আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির পর্যায়ে থাকলেও বাস্তবে উত্তেজনা কমেনি। ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আলোচনায় সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে সামনে এসেছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রশ্ন। যদিও দুই পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান কিছুটা কমেছে বলে জানা গেছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সাম্প্রতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, আলোচনায় কিছু ইতিবাচক সংকেত দেখা যাচ্ছে, তবে এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই।

ILoveQatar.net | All you need to know about the Qatar national flag

পাকিস্তানের পর এবার সক্রিয় কাতার

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল। তবে এবার কাতারের সক্রিয় অংশগ্রহণ নতুন কূটনৈতিক ভারসাম্য তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ার পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গেও কাতারের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। সেই কারণে দুই পক্ষের মধ্যে গোপন বার্তা আদান-প্রদানে দোহা গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে।

জ্বালানি বাজারেও বাড়ছে চাপ

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্য হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সংঘাতের কারণে এই রুট কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই কূটনৈতিক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলে চাপ বাড়ছে।

কেন হরমুজ প্রণালি এতো গুরুত্বপূর্ণ?

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মতভেদ থেকে তাকফির: ধর্মের ব্যাখ্যা যখন সহিংসতার অস্ত্রে পরিণত হয়

কাতারে হামলার পরও ইরান যুদ্ধ থামাতে তেহরানে দোহারের বিশেষ উদ্যোগ

১২:১২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের উত্তেজনার মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে কাতার। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর এবার তেহরানে একটি বিশেষ আলোচক দল পাঠিয়েছে দোহা। লক্ষ্য, চলমান সংঘাতের অবসান এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে একটি চূড়ান্ত সমঝোতা নিশ্চিত করা।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাতারের প্রতিনিধিদল শুক্রবার তেহরানে পৌঁছায়। তারা ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করা এবং আটকে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজবে।

সংঘাতের মধ্যেও কাতারের নতুন ভূমিকা

গাজা যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের ভূমিকা আগেও ছিল আলোচনায়। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কাতারের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দোহা কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছিল।

Qatar suspends its role as mediator in Gaza war : NPR

বিশেষ করে রাস লাফান এলাকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনায় হামলার কারণে কাতারের জ্বালানি খাত বড় ধাক্কা খায়। এতে দেশটির গ্যাস রপ্তানি সক্ষমতার একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপরও কাতারের আবার আলোচনায় ফিরে আসা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিচ্ছে।

যুদ্ধবিরতি থাকলেও অচলাবস্থা কাটেনি

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত এখন আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির পর্যায়ে থাকলেও বাস্তবে উত্তেজনা কমেনি। ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আলোচনায় সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে সামনে এসেছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রশ্ন। যদিও দুই পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান কিছুটা কমেছে বলে জানা গেছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সাম্প্রতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, আলোচনায় কিছু ইতিবাচক সংকেত দেখা যাচ্ছে, তবে এখনই অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই।

ILoveQatar.net | All you need to know about the Qatar national flag

পাকিস্তানের পর এবার সক্রিয় কাতার

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল। তবে এবার কাতারের সক্রিয় অংশগ্রহণ নতুন কূটনৈতিক ভারসাম্য তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ার পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গেও কাতারের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। সেই কারণে দুই পক্ষের মধ্যে গোপন বার্তা আদান-প্রদানে দোহা গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে।

জ্বালানি বাজারেও বাড়ছে চাপ

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্য হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সংঘাতের কারণে এই রুট কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই কূটনৈতিক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক মহলে চাপ বাড়ছে।

কেন হরমুজ প্রণালি এতো গুরুত্বপূর্ণ?