দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে কেপটাউনে নতুন অনারারি কনস্যুলেট চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক সফট ওপেনিংয়ের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়। এতে অংশ নেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফি।
বাংলাদেশ সরকারের এই উদ্যোগকে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এটি নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রবাসীদের সেবায় নতুন উদ্যোগ
দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ অঞ্চলে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম বাংলাদেশি কমিউনিটির বসবাস। এতদিন কনস্যুলার সেবা পেতে অনেককে দূরবর্তী এলাকায় যোগাযোগ করতে হতো। নতুন অনারারি কনস্যুলেট চালুর ফলে পাসপোর্ট, ভিসা, বিভিন্ন নথি যাচাইসহ নানা কনস্যুলার সেবা আরও সহজ হবে।
এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়াতেও এই উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনরারি কনসাল হিসেবে দায়িত্বে জোহান ম্যাক্স লে রুক্স
বাংলাদেশ সরকার ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জোহান ম্যাক্স লে রুক্সকে এই অঞ্চলের অনারারি কনসাল হিসেবে মনোনয়ন দেয়। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, তার অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় যোগাযোগ বাংলাদেশের বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বার্তা
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা ষষ্ঠ পররাষ্ট্র দপ্তরীয় বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই সফরের মধ্যেই নতুন কনস্যুলেটের কার্যক্রম চালু হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকান অঞ্চলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রবাসী সেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















