০৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
আইনগত সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের তাগিদ, দ্রুত নিষ্পত্তি হতে পারে ৮০ শতাংশ মামলা মধ্যবিত্তের নীরব সংকট: আয় থেমে, ব্যয় ছুটছে লাগামহীন যশোরে কাভার্ডভ্যানের চাপায় প্রাণ গেল ৪ জনের, হাসপাতালে আশঙ্কাজনক ২ সমুদ্রের অজানা জগতের সন্ধান, এক বছরে মিলল ১,১২১ নতুন সামুদ্রিক প্রাণীর খোঁজ মানবাধিকার বনাম সীমান্তরাজনীতি: ইউরোপ কি নতুন এক কঠোর যুগে প্রবেশ করছে হামে শিশুমৃত্যু ৫০০ পেরোল, দুই মাসে আক্রান্তের উপসর্গ ৬২ হাজারের বেশি ভাঙা হৃদয়ের আগুনে গড়া শাকিরা: প্রেম, বেদনা আর বিশ্বমঞ্চের উন্মাতাল রাণীর প্রত্যাবর্তন সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, বিভাগজুড়ে আতঙ্ক ঈদের পর- আইনমন্ত্রী ফোনে ডুবে থাকা তরুণদের নিয়ে ব্রিটেনের উদ্বেগ, ‘কর্মহীন প্রজন্ম’ অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি

ভাঙা হৃদয়ের আগুনে গড়া শাকিরা: প্রেম, বেদনা আর বিশ্বমঞ্চের উন্মাতাল রাণীর প্রত্যাবর্তন

বিশ্বসংগীতের মানচিত্রে শাকিরা বহুদিন ধরেই এক প্রতিষ্ঠিত নাম। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে ঘিরে যে আলোচনাগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলো কেবল গান বা মঞ্চকেন্দ্রিক নয়; বরং ব্যক্তিগত বিপর্যয়, মাতৃত্ব, অভিবাসন রাজনীতি, ডিজিটাল যুগের সংকট এবং বৈশ্বিক জনপ্রিয় সংস্কৃতির পরিবর্তিত চরিত্র—সবকিছুর এক জটিল সমাহার সেখানে উপস্থিত। নতুন বিশ্বকাপ সংগীত ‘দাই দাই’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে তিনি যেন আবারও প্রমাণ করলেন, পপ সংগীত এখন আর নিছক বিনোদনের বিষয় নয়; এটি একই সঙ্গে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক বাস্তবতার ভাষাও হয়ে উঠতে পারে।

শাকিরার ক্যারিয়ার দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে। অথচ তাঁর কথাবার্তায় ক্লান্তির বদলে শোনা যায় নতুন করে শুরু করার উচ্ছ্বাস। এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি যেমন বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় সংগীতগুলোর একটি ‘ওয়াকা ওয়াকা’ উপহার দিয়েছেন, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনের গভীর সংকটও পার করেছেন। বহু বছরের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া, পরিবার ভাঙনের যন্ত্রণা, বাবার অসুস্থতা—সব মিলিয়ে গত কয়েক বছর তাঁর জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো, তিনি এই ব্যক্তিগত ভাঙনকে আত্মবিলাপের জায়গায় আটকে রাখেননি। বরং তা রূপ নিয়েছে নতুন সৃজনশীল শক্তিতে।

আজকের পপ সংস্কৃতিতে ব্যক্তিগত কষ্টকে শিল্পে রূপ দেওয়ার প্রবণতা নতুন নয়। তবে শাকিরার বিশেষত্ব হলো, তিনি সেই অভিজ্ঞতাকে কেবল প্রতিশোধ বা নাটকীয়তার জায়গায় সীমাবদ্ধ রাখেননি। তাঁর সাম্প্রতিক কাজগুলোতে আত্মসম্মান, পুনর্গঠন এবং মানসিক স্থিতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি বুঝতে পেরেছেন, বৈশ্বিক তারকা হয়েও মানুষ শেষ পর্যন্ত ভঙ্গুর। আর সেই ভঙ্গুরতার স্বীকৃতি কখনও কখনও মানুষকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

Gerard Piqué and Shakira posing with the Copa del Rey trophy.

এখানে তাঁর নতুন বিশ্বকাপ সংগীতের তাৎপর্যও গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবল বরাবরই রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ, সংস্কৃতি এবং বাণিজ্যের এক মিলিত ক্ষেত্র। বিশ্বকাপের মতো আয়োজনকে ঘিরে যে বৈশ্বিক আবেগ তৈরি হয়, তা কেবল খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। শাকিরা সেই আবেগকে ব্যবহার করছেন ঐক্যের ভাষা হিসেবে। এমন এক সময়ে, যখন বিশ্বজুড়ে বিভাজন, অভিবাসীবিরোধী মনোভাব এবং ডিজিটাল মেরুকরণ বাড়ছে, তখন তাঁর বক্তব্যে বারবার ফিরে আসছে শিশুদের ভবিষ্যৎ, মানবিক সংযোগ এবং সহমর্মিতার কথা।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিকে ঘিরে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ স্পষ্ট। একজন লাতিন আমেরিকান শিল্পী হিসেবে তিনি জানেন, জনপ্রিয়তা থাকলেও পরিচয়ের প্রশ্ন থেকে মুক্তি মেলে না। এই কারণেই তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। তিনি কেবল একজন সংগীতশিল্পী নন; বরং এমন এক জনপরিচিত মুখ, যিনি বুঝতে পারেন যে খ্যাতি মানে দায়িত্বও।

এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ডিজিটাল যুগ নিয়ে তাঁর উদ্বেগ। তিনি মনে করেন, অ্যালগরিদমনির্ভর সামাজিক যোগাযোগব্যবস্থা শিশুদের শৈশব দ্রুত কেড়ে নিচ্ছে। এই মন্তব্যকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো মনোযোগের অবক্ষয় এবং অনলাইন প্রভাবের বিস্তার। শাকিরা তাঁর সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন, যা হয়তো আধুনিক সেলিব্রিটি সংস্কৃতির বিপরীতধর্মী অবস্থান। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের ভেতরে একটি গভীর সামাজিক উদ্বেগ কাজ করে—মানুষ কি ধীরে ধীরে নিজের চিন্তার স্বাধীনতা হারাচ্ছে?

Colombian singer Shakira performs during a concert, holding a Brazilian flag.

এই প্রশ্ন শুধু অভিভাবকদের নয়, সমগ্র সমাজের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে মানুষ ক্রমশ ক্ষণস্থায়ী প্রতিক্রিয়ার বন্দি হয়ে পড়ছে। মতভেদকে উসকে দেওয়া, বিভাজনকে তীব্র করা এবং মনোযোগকে পণ্যে পরিণত করা—এগুলো এখন ডিজিটাল অর্থনীতির অংশ। শাকিরার কথায় সেই বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যায়।

একই সঙ্গে তিনি দেখিয়েছেন, জনপ্রিয় সংস্কৃতি এখন আরও বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক হয়ে উঠছে। একসময় আন্তর্জাতিক পপ সংগীতের কেন্দ্র ছিল মূলত ইংরেজিভাষী জগৎ। এখন স্প্যানিশ ভাষার গান, আফ্রোবিট কিংবা লাতিন সংগীত বৈশ্বিক মূলধারার কেন্দ্রে জায়গা করে নিচ্ছে। শাকিরার নতুন সংগীতে নাইজেরীয় শিল্পী বার্না বয়ের উপস্থিতি তাই কেবল সংগীতগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি বর্তমান সাংস্কৃতিক বাস্তবতারও প্রতিফলন।

তাঁর ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় সম্ভবত এটিই—তিনি নিজেকে পুনর্নির্মাণ করতে পেরেছেন। অনেক শিল্পী জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে স্থবির হয়ে পড়েন। কিন্তু শাকিরা এখনও পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে এগোচ্ছেন। তিনি জানেন, ব্যক্তিগত জীবন, রাজনীতি, প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতি—সবকিছুই বদলাচ্ছে। আর সেই পরিবর্তনের ভেতর টিকে থাকতে হলে শিল্পীকেও নিজের ভাষা নতুন করে খুঁজে নিতে হয়।

এই কারণেই শাকিরার বর্তমান অবস্থান শুধু একজন সফল গায়িকার গল্প নয়। এটি এমন এক নারীর গল্প, যিনি ব্যক্তিগত ভাঙন, সামাজিক চাপ এবং বৈশ্বিক পরিবর্তনের মধ্যেও নিজের কণ্ঠস্বর হারাননি। বরং প্রতিটি সংকটকে তিনি নতুনভাবে ব্যবহার করেছেন নিজের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করার জন্য।

Shakira and Karol G accepting the Best Collaboration award for "TQG" at the 2023 MTV Video Music Awards.

 

Shakira performing with backup dancers at the FIFA World Cup Kickoff Concert in Johannesburg, South Africa.

 

Shakira and her sons Milan and Sasha Piqué Mebarak at the premiere of Zootopia 2.

জনপ্রিয় সংবাদ

আইনগত সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের তাগিদ, দ্রুত নিষ্পত্তি হতে পারে ৮০ শতাংশ মামলা

ভাঙা হৃদয়ের আগুনে গড়া শাকিরা: প্রেম, বেদনা আর বিশ্বমঞ্চের উন্মাতাল রাণীর প্রত্যাবর্তন

০২:৫৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

বিশ্বসংগীতের মানচিত্রে শাকিরা বহুদিন ধরেই এক প্রতিষ্ঠিত নাম। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে ঘিরে যে আলোচনাগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলো কেবল গান বা মঞ্চকেন্দ্রিক নয়; বরং ব্যক্তিগত বিপর্যয়, মাতৃত্ব, অভিবাসন রাজনীতি, ডিজিটাল যুগের সংকট এবং বৈশ্বিক জনপ্রিয় সংস্কৃতির পরিবর্তিত চরিত্র—সবকিছুর এক জটিল সমাহার সেখানে উপস্থিত। নতুন বিশ্বকাপ সংগীত ‘দাই দাই’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে তিনি যেন আবারও প্রমাণ করলেন, পপ সংগীত এখন আর নিছক বিনোদনের বিষয় নয়; এটি একই সঙ্গে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক বাস্তবতার ভাষাও হয়ে উঠতে পারে।

শাকিরার ক্যারিয়ার দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে। অথচ তাঁর কথাবার্তায় ক্লান্তির বদলে শোনা যায় নতুন করে শুরু করার উচ্ছ্বাস। এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি যেমন বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় সংগীতগুলোর একটি ‘ওয়াকা ওয়াকা’ উপহার দিয়েছেন, তেমনি ব্যক্তিগত জীবনের গভীর সংকটও পার করেছেন। বহু বছরের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া, পরিবার ভাঙনের যন্ত্রণা, বাবার অসুস্থতা—সব মিলিয়ে গত কয়েক বছর তাঁর জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো, তিনি এই ব্যক্তিগত ভাঙনকে আত্মবিলাপের জায়গায় আটকে রাখেননি। বরং তা রূপ নিয়েছে নতুন সৃজনশীল শক্তিতে।

আজকের পপ সংস্কৃতিতে ব্যক্তিগত কষ্টকে শিল্পে রূপ দেওয়ার প্রবণতা নতুন নয়। তবে শাকিরার বিশেষত্ব হলো, তিনি সেই অভিজ্ঞতাকে কেবল প্রতিশোধ বা নাটকীয়তার জায়গায় সীমাবদ্ধ রাখেননি। তাঁর সাম্প্রতিক কাজগুলোতে আত্মসম্মান, পুনর্গঠন এবং মানসিক স্থিতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি বুঝতে পেরেছেন, বৈশ্বিক তারকা হয়েও মানুষ শেষ পর্যন্ত ভঙ্গুর। আর সেই ভঙ্গুরতার স্বীকৃতি কখনও কখনও মানুষকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

Gerard Piqué and Shakira posing with the Copa del Rey trophy.

এখানে তাঁর নতুন বিশ্বকাপ সংগীতের তাৎপর্যও গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবল বরাবরই রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ, সংস্কৃতি এবং বাণিজ্যের এক মিলিত ক্ষেত্র। বিশ্বকাপের মতো আয়োজনকে ঘিরে যে বৈশ্বিক আবেগ তৈরি হয়, তা কেবল খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। শাকিরা সেই আবেগকে ব্যবহার করছেন ঐক্যের ভাষা হিসেবে। এমন এক সময়ে, যখন বিশ্বজুড়ে বিভাজন, অভিবাসীবিরোধী মনোভাব এবং ডিজিটাল মেরুকরণ বাড়ছে, তখন তাঁর বক্তব্যে বারবার ফিরে আসছে শিশুদের ভবিষ্যৎ, মানবিক সংযোগ এবং সহমর্মিতার কথা।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিকে ঘিরে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ স্পষ্ট। একজন লাতিন আমেরিকান শিল্পী হিসেবে তিনি জানেন, জনপ্রিয়তা থাকলেও পরিচয়ের প্রশ্ন থেকে মুক্তি মেলে না। এই কারণেই তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। তিনি কেবল একজন সংগীতশিল্পী নন; বরং এমন এক জনপরিচিত মুখ, যিনি বুঝতে পারেন যে খ্যাতি মানে দায়িত্বও।

এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ডিজিটাল যুগ নিয়ে তাঁর উদ্বেগ। তিনি মনে করেন, অ্যালগরিদমনির্ভর সামাজিক যোগাযোগব্যবস্থা শিশুদের শৈশব দ্রুত কেড়ে নিচ্ছে। এই মন্তব্যকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো মনোযোগের অবক্ষয় এবং অনলাইন প্রভাবের বিস্তার। শাকিরা তাঁর সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন, যা হয়তো আধুনিক সেলিব্রিটি সংস্কৃতির বিপরীতধর্মী অবস্থান। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের ভেতরে একটি গভীর সামাজিক উদ্বেগ কাজ করে—মানুষ কি ধীরে ধীরে নিজের চিন্তার স্বাধীনতা হারাচ্ছে?

Colombian singer Shakira performs during a concert, holding a Brazilian flag.

এই প্রশ্ন শুধু অভিভাবকদের নয়, সমগ্র সমাজের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে মানুষ ক্রমশ ক্ষণস্থায়ী প্রতিক্রিয়ার বন্দি হয়ে পড়ছে। মতভেদকে উসকে দেওয়া, বিভাজনকে তীব্র করা এবং মনোযোগকে পণ্যে পরিণত করা—এগুলো এখন ডিজিটাল অর্থনীতির অংশ। শাকিরার কথায় সেই বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যায়।

একই সঙ্গে তিনি দেখিয়েছেন, জনপ্রিয় সংস্কৃতি এখন আরও বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক হয়ে উঠছে। একসময় আন্তর্জাতিক পপ সংগীতের কেন্দ্র ছিল মূলত ইংরেজিভাষী জগৎ। এখন স্প্যানিশ ভাষার গান, আফ্রোবিট কিংবা লাতিন সংগীত বৈশ্বিক মূলধারার কেন্দ্রে জায়গা করে নিচ্ছে। শাকিরার নতুন সংগীতে নাইজেরীয় শিল্পী বার্না বয়ের উপস্থিতি তাই কেবল সংগীতগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি বর্তমান সাংস্কৃতিক বাস্তবতারও প্রতিফলন।

তাঁর ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় সম্ভবত এটিই—তিনি নিজেকে পুনর্নির্মাণ করতে পেরেছেন। অনেক শিল্পী জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে স্থবির হয়ে পড়েন। কিন্তু শাকিরা এখনও পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে এগোচ্ছেন। তিনি জানেন, ব্যক্তিগত জীবন, রাজনীতি, প্রযুক্তি এবং সংস্কৃতি—সবকিছুই বদলাচ্ছে। আর সেই পরিবর্তনের ভেতর টিকে থাকতে হলে শিল্পীকেও নিজের ভাষা নতুন করে খুঁজে নিতে হয়।

এই কারণেই শাকিরার বর্তমান অবস্থান শুধু একজন সফল গায়িকার গল্প নয়। এটি এমন এক নারীর গল্প, যিনি ব্যক্তিগত ভাঙন, সামাজিক চাপ এবং বৈশ্বিক পরিবর্তনের মধ্যেও নিজের কণ্ঠস্বর হারাননি। বরং প্রতিটি সংকটকে তিনি নতুনভাবে ব্যবহার করেছেন নিজের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করার জন্য।

Shakira and Karol G accepting the Best Collaboration award for "TQG" at the 2023 MTV Video Music Awards.

 

Shakira performing with backup dancers at the FIFA World Cup Kickoff Concert in Johannesburg, South Africa.

 

Shakira and her sons Milan and Sasha Piqué Mebarak at the premiere of Zootopia 2.