রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ঈদের পরপরই শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, মামলার ডিএনএ রিপোর্ট আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া গেলে ঈদুল আজহার আগেই আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে।
শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদফতর ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ: দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষা
আইনমন্ত্রী বলেন, মামলার তদন্তে ডিএনএ রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এই রিপোর্ট ছাড়া চার্জশিট দাখিল করা হলে পরবর্তী সময়ে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সে কারণে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেবেন।

তিনি জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের আগেই চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। এরপর ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হবে বলে আশা করছে সরকার।
দ্রুত বিচার সম্পন্নের আশ্বাস
রামিসা হত্যা মামলাকে একটি নৃশংস ঘটনা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার এ মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে চায়। বিচার প্রক্রিয়ায় যাতে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এমন স্পর্শকাতর মামলায় তদন্তের প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা জরুরি। কারণ তদন্তে কোনো ঘাটতি থাকলে পরবর্তীতে বিচার কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনে বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ
এ সময় উচ্চ আদালতে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার বিষয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার পর মামলাটি অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হয়। তবে সেখানে মামলার পেপার বুক বা পূর্ণাঙ্গ বৃত্তান্ত প্রস্তুত করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে অনেক সময় চূড়ান্ত রায় পেতে বিলম্ব হয়। সরকার এখন এই প্রক্রিয়াকে কীভাবে আরও সহজ ও দ্রুত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছে।
আইনগত সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা
মতবিনিময় সভায় আইনগত সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সহজ আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
রামিসা হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পর মামলাটির দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















