বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণের সময় দুই ভারতীয় পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। নেপালের দক্ষিণ দিকের রুট দিয়ে রেকর্ডসংখ্যক আরোহনের মধ্যেই এই ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ও অতিরিক্ত ভিড় নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
মৃত দুই পর্বতারোহীর নাম সন্দীপ আরে ও অরুণ কুমার তিওয়ারি। জানা গেছে, চূড়ায় ওঠার পর নিচে নামার সময় উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় তারা মারা যান। তাদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এভারেস্ট মৌসুমে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা
চলতি মৌসুমে এভারেস্টে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই ভারতীয় ছাড়াও তিনজন নেপালি রয়েছেন। একই সময়ে মাকালু পর্বতে আরও দুই বিদেশি আরোহীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার এভারেস্টে আরোহীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, বরফঢাকা সরু পথে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পর্বতারোহীরা ধীরে ধীরে ওপরে উঠছেন।
ভিড় নিয়ে উদ্বেগ
বিশ্ব রেকর্ড গড়া নেপালি শেরপা কামি রিতা শেরপা এবার ৩২তম বারের মতো এভারেস্ট জয় করেছেন। কাঠমান্ডু ফিরে তিনি জানিয়েছেন, এবারের অভিযান অনেক বেশি ভিড়পূর্ণ ছিল।
তার মতে, সব ধরনের আরোহীকে অনুমতি না দিয়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ পর্বতারোহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। তিনি মনে করেন, নিরাপত্তার স্বার্থে আরোহণের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
রেকর্ডসংখ্যক আরোহণ

নেপালের পর্যটন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার একদিনেই নেপালের দিক থেকে অন্তত ২৭৫ জন পর্বতারোহী এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান। এটি মৌসুমের সর্বোচ্চ দৈনিক সংখ্যা।
চীনের তিব্বত দিকের রুট এবার বন্ধ থাকায় অধিকাংশ আরোহী নেপালের দিকেই ভিড় করেছেন। এতে দক্ষিণ রুটে চাপ আরও বেড়েছে।
চলতি মৌসুমে বিদেশিদের জন্য রেকর্ড ৪৯২টি আরোহণ অনুমতি দিয়েছে নেপাল সরকার। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে এই বিপুল সংখ্যক আরোহী পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই দিনে ব্রিটিশ গাইড কেন্টন কুলও ২০তম বারের মতো এভারেস্ট জয় করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। নেপালের বাইরে থেকে সবচেয়ে বেশি বার এভারেস্টে ওঠার কৃতিত্ব এখন তার দখলে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















